সুকান্ত মজুমদারের মঞ্চে বক্তৃতার সময় তাঁর পায়ের কাছে রাখা রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্কিমচন্দ্রের ছবি নিয়ে তৃণমূল সরব হয়েছে। শাসকদলের অভিযোগ, বিজেপি বাঙালি মনীষীদের অসম্মান করছে। পাল্টা জবাবে সুকান্ত দাবি করেছেন, তৃণমূল ভুয়ো প্রচার করছে নিজেদের ‘পাপ’ ঢাকতে।

ছবি- দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 10 September 2025 23:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মালদহে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের ছবিতে আগুন দিতে গিয়ে তৃণমূল ছাত্র পরিষদের এক নেতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবিতেও আগুন ধরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল রাজ্য রাজনীতি। সেই ঘটনায় বিজেপি সরব হয়ে বিশ্বকবির অসম্মানের প্রতিবাদে রাস্তায় নামে। শাসকদল তখন কোণঠাসা হয়ে পড়ে। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যেই খানিকটা পাল্টে গেল চিত্রটা। মাঠে নামল তৃণমূল।
বুধবার এক্স-এ তৃণমূলের অফিসিয়াল হ্যান্ডল থেকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের একটি কর্মসূচির ছবি পোস্ট করা হয়। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, সুকান্ত মঞ্চে বক্তৃতা দিচ্ছেন, আর তাঁর পায়ের কাছে রাখা রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছবি। সঙ্গে ক্যাপশন, 'আমরা সবসময় রবীন্দ্রনাথ, বঙ্কিমচন্দ্রকে মাথার উপরে রাখি। আর বিজেপি রাখে পায়ের নীচে।' তৃণমূলের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবেই বাংলার মনীষীদের অসম্মান করা হয়েছে। দলের বক্তব্য, 'এটাই বিজেপির বাংলা-বিরোধী মুখ।'
শুধু দলীয় অ্যাকাউন্ট নয়, তৃণমূলের একাধিক নেতাও এই পোস্ট শেয়ার করেছেন। সরব হয়েছেন ছবি নিয়ে। মুখপাত্র কুণাল ঘোষ থেকে শুরু করে টিএমসিপি নেতা সুদীপ রাহা, অনেকেই বিজেপির বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছেন।
যদিও অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন সুকান্ত মজুমদার। তাঁর পাল্টা বক্তব্য, 'তৃণমূল রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছবি পুড়িয়েছে। সেই পাপ ঢাকতেই এখন মিথ্যে প্রচার করছে। ওই কর্মসূচিতে রবীন্দ্রনাথ ও বঙ্কিমচন্দ্রের ছবি স্টেজের একেবারে সামনে রাখা ছিল। আমি অনেকটা পিছনে দাঁড়িয়ে ছিলাম। ছবিটা এমন জায়গা থেকে তোলা হয়েছে, যাতে দূরত্ব বোঝা যাচ্ছে না। সাংবাদিকেরা ওখানে ছিলেন, তাঁরা আসল ঘটনা জানেন।'
তিনি আরও কটাক্ষ করেন, 'এই ছবিটাকে থ্রিডি-তে দেখতে হবে। কুণাল ঘোষ সেটা বোঝেন না। পারলে ছেলেকে জিজ্ঞাসা করুন, তিনি আইআইটিতে পড়েছেন, বোঝাতে পারবেন।'
২০২১ সালের বিধানসভা এবং ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের মতোই ২০২৬ সালের বিধানসভা ভোটেও যে তৃণমূল বাঙালি আবেগকে হাতিয়ার করতে চাইছে, তা স্পষ্ট। মালদহের ছাত্রনেতার ঘটনায় চাপের মুখে পড়ে তাঁকে বহিষ্কার ও গ্রেফতার করেছিল টিএমসিপি। বিরোধী নেতা শুভেন্দু অধিকারী তখন কবিগুরুর ছবি হাতে নিয়ে কলকাতায় মিছিল করেছিলেন। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই বিজেপির বিরুদ্ধেই পাল্টা প্রচারে নামল তৃণমূল। এসব যদিও পাত্তা দিচ্ছে না গেরুয়া শিবির।