অভিযোগ, "বেছে বেছে বাংলালি হিন্দুদের হাতে কাগজ ধরিয়ে দিচ্ছে। যার ফলে ওই ব্যক্তি যেভাবে আত্মঘাতী হলের এটা নিন্দার। পরিযায়ী শ্রমিকের ওপর যে অত্যাচার চলছে। বাংলা বললে এত ক্ষেপে যাচ্ছে।"
.jpg.webp)
সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল
শেষ আপডেট: 3 August 2025 19:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এনআরসি আতঙ্কে কলকাতার রিজেন্ট পার্কে এক ব্যক্তির 'আত্মহত্যা'র ঘটনায় সুর চড়াল তৃণমূল (TMC on Kolkata man death)। রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে এই প্রসঙ্গ টেনে কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) এবং ব্রাত্য বসু (Bratya Basu) কেন্দ্রের বিজেপি সরকারকেই কাঠগড়ায় তোলেন। তাঁদের দাবি, 'বেছে বেছে বাঙালিদেরই টার্গেট করছে বিজেপি।' সাংবাদিক বৈঠকে শোকার্ত পরিবারের ভিডিও বার্তাও তুলে ধরা হয়।
এদিন সকালে রিজেন্ট পার্কের একটি ঘর থেকে দিলীপ কুমার সাহার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। পরিবারের সদস্যদের দাবি, কয়েকমাস ধরেই এনআরসি আতঙ্কে ভুগছিলেন তিনি। আশঙ্কা করতেন, এনআরসি হলে তাঁকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, "আজকের ঘটনার দায় সম্পূর্ণটাই বিজেপিকে নিতে হবে।"
অভিযোগ, "বেছে বেছে বাংলালি হিন্দুদের হাতে কাগজ ধরিয়ে দিচ্ছে। যার ফলে ওই ব্যক্তি যেভাবে আত্মঘাতী হলের এটা নিন্দার। পরিযায়ী শ্রমিকের ওপর যে অত্যাচার চলছে। বাংলা বললে এত ক্ষেপে যাচ্ছে।"
রিজেন্ট পার্কের ব্যক্তির মৃত্যুর ঘটনার প্রেক্ষিতেই সোশ্যাল মিডিয়াতেও বিজেপিকে একহাত নেয় শাসক দল। এক্স-এর পোস্টে লেখা হয়, '... দেশজুড়ে বিজেপি যেভাবে বাঙালিদের উপর আক্রমণ শুরু করেছে, বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও এনআরসির নোটিস পাঠিয়ে দিচ্ছে, পরিযায়ী শ্রমিকদের জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিচ্ছে, এসআইআর করে ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে- সেই আতঙ্কেই টালিগঞ্জের এক বাসিন্দা আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন।' আরও লেখা হয়, 'একটা, বাংলা-বিরোধী দল কীভাবে বাঙালি জাতিটাকেই শেষ করতে চাইছে নিজের চোখেই দেখুন। ছিঃ বিজেপি ছিঃ।'
এদিনের সাংবাদিক বৈঠকে দিল্লি পুলিশের বিতর্কিত চিঠি নিয়েও কথা বলেন তাঁরা। কুণাল ঘোষ বলেন, "এই চিঠিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একই সঙ্গে চরম নিন্দনীয়। বিজেপি ও তার ডবল ইঞ্জিন সরকার এই কাজ করছে। এখানে বাংলা ভাষা বললেই তাঁকে বাংলাদেশি ভাষা বলা হয়েছে। ভারতীয়দের শিকড় ধরে টান দেওয়া হচ্ছে।" তৃণমূল নেতার দাবি, এই চিঠিটি দিল্লি পুলিশ লিখেছে, বিজেপির মদতেই এই কাজ হচ্ছে। আমাদের সংবিধান সব ভাষাকে স্বীকৃতি দেয়, তাহলে এই ভাষাকে বাংলাদেশি বলে অপমান করা কেন?
কুণাল ঘোষের দাবি, যে পুলিশ অফিসার এই চিঠি লিখেছেন, তাঁকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করতে হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে বলেও দাবি করেন কুণাল। তাঁর কথায়, “বাংলা ভাষাকে বাংলাদেশি ভাষা বলাটা বাংলার তথা ভারতীয় সংবিধানের অপমান। এটা একটা চক্রান্ত।”