রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল ঘোষ বলেন, "এই চিঠিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একই সঙ্গে চরম নিন্দনীয়। বিজেপি ও তার ডবল ইঞ্জিন সরকার এই কাজ করছে।"

সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল
শেষ আপডেট: 3 August 2025 18:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি পুলিশের একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠল বাংলা ভাষা-অসম্মান বিতর্ক। অভিযোগ, চিঠিতে বাংলা ভাষাকে 'বাংলাদেশি' ভাষা হিসেবে উল্লেখ করে একধরনের জাতিগত চিহ্নিতকরণের চেষ্টা চালানো হয়েছে। এই চিঠির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বাংলার শাসক দল তৃণমূল (TMC)। এনিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি জানালেন দলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) ও শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু (Bratya Basu)।
রবিবার সাংবাদিক বৈঠকে কুণাল ঘোষ বলেন, "এই চিঠিটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং একই সঙ্গে চরম নিন্দনীয়। বিজেপি ও তার ডবল ইঞ্জিন সরকার এই কাজ করছে। বাংলা ভাষা বললেই তাঁকে বাংলাদেশি বলা হয়। ভারতীয়দের শিকড় ধরে টান দেওয়া হচ্ছে।" তৃণমূল নেতার দাবি, এই চিঠিটি দিল্লি পুলিশ লিখেছে, বিজেপির মদতেই এই কাজ হচ্ছে। আমাদের সংবিধান সব ভাষাকে স্বীকৃতি দেয়, তাহলে এই ভাষাকে বাংলাদেশি বলে অপমান করা কেন?
কুণাল ঘোষের স্পষ্ট দাবি, যে পুলিশ অফিসার এই চিঠি লিখেছেন, তাঁকে অবিলম্বে সাসপেন্ড করতে হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে হবে বলেও দাবি করেন কুণাল। তাঁর কথায়, “বাংলা ভাষাকে বাংলাদেশি ভাষা বলাটা বাংলার তথা ভারতীয় সংবিধানের অপমান। এটা একটা চক্রান্ত।”
শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেন, “এই ভাষার জন্যই তো একটা আলাদা রাষ্ট্র, বাংলাদেশ তৈরি হয়েছে। ২৫ কোটিরও বেশি মানুষ এই ভাষায় কথা বলে। দুটি দেশের জাতীয় সংগীতের ভাষা এই বাংলা। এটা কি তাঁরা জানেন না?” যোগ করেন, “পাকিস্তানে যদি সবাই হিন্দিতে কথা বলে, তাহলে দিল্লিতে যাঁরা হিন্দিতে কথা বলেন, তাঁদের কি পাকিস্তানি বলা হবে? আমরা তো হিন্দি বা গুজরাতের ভাষাকে ছোট করি না। তাহলে আমাদের বাংলা ভাষাকে কেন ছোট করা হচ্ছে?”
ব্রাত্য ও কুণাল উভয়েই অভিযোগ করেন, একধরনের 'এক ভাষা, এক ধর্ম'-এর চরমপন্থী তত্ত্ব চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে বিজেপি। বাংলা ভাষা এবং বাংলাভাষী মানুষদের দাগিয়ে দেওয়ার এই প্রক্রিয়াকে তাঁরা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সম্প্রতি নয়া দিল্লির লোদী কলোনি থানার পুলিশ আধিকারিক পশ্চিমবঙ্গ সরকারের বঙ্গভবনের অফিসার ইনচার্জকে একটি চিঠি পাঠান। তৃণমূলের অভিযোগ, ওই চিঠিতেই বাংলা ভাষাকে 'বাংলাদেশি' বলে উল্লেখ করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশের চিঠি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও (Abhishek Banerjee)।