তাঁর কথায়, “হেলে ধরতে পারে না, কেউটে ধরতে যাচ্ছে।” এখানেই না থেমে মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে বলেন, “ইডি ওঁর বিরুদ্ধে ডাকাতির কেস দিয়েছে, লজ্জা থাকা উচিত।”
.jpeg.webp)
হুমায়ুন কবীর।
শেষ আপডেট: 16 January 2026 18:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকারি টাকায় মন্দির করতে দেব না, ভোট ঘোষণা হলেই দেখা যাবে, রাজ্য সরকারের কোষাগার থেকে আর কোনও মন্দির করা যায় কি না। শুক্রবার শিলিগুড়িতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাসকে নিশানা করে এমনই তীব্র মন্তব্য করলেন ভরতপুরের সাসপেন্ডেড তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁর হুঁশিয়ারি, আগামী দিনে যাঁরাই ক্ষমতায় আসুন না কেন, তাঁর দলের ১০০ জন বিধায়কের সমর্থন ছাড়া সরকার গড়তে পারবেন না কেউ। আর নতুন সরকারের আমলে সরকারি টাকায় কোনও মন্দির হবে না।
সম্প্রতি নতুন দল গঠন করেছেন হুমায়ুন। তাঁর দাবি, দুর্নীতিগ্রস্ত বর্তমান সরকারকে এ বার ক্ষমতা থেকে সরানোই লক্ষ্য। তৃণমূলের আসন একশোর নীচে নামবে বলেও দাবি করেন তিনি।
বেলডাঙার এদিনের অশান্তি নিয়েও প্রশাসনকে দায়ী করেন হুমায়ুন। তাঁর বক্তব্য, মুখ্যমন্ত্রী তো সরকারে আছেন, তদন্ত করুন। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, “আমি যদি মুর্শিদাবাদে থাকতাম, আধ ঘণ্টার মধ্যে এই বিশৃঙ্খলা বন্ধ করে দিতাম।” পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করে রাজনীতি করার প্রয়োজন নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইপ্যাক অফিসে ইডির তল্লাশির সময় মুখ্যমন্ত্রীর সেখানে যাওয়া এবং পরে ইডির বিরুদ্ধে তৃণমূলের এফআইআর প্রসঙ্গে প্রয়াত বাম নেতা রেজ্জাক মোল্লার একটি উক্তি টেনে কটাক্ষ করেন হুমায়ুন। তাঁর কথায়, “হেলে ধরতে পারে না, কেউটে ধরতে যাচ্ছে।” এখানেই না থেমে মুখ্যমন্ত্রীকে নিশানা করে বলেন, “ইডি ওঁর বিরুদ্ধে ডাকাতির কেস দিয়েছে, লজ্জা থাকা উচিত।”
গত ৬ ডিসেম্বর বেলডাঙায় মসজিদ নির্মাণের শিলান্যাস করেছেন হুমায়ুন। তাঁর দাবি, এই মসজিদ হচ্ছে সাধারণ মানুষের টাকায়। ১০ ফেব্রুয়ারি থেকে কেরলের একটি সংস্থা নির্মাণকাজ শুরু করবে। প্রথমে ৮ বিঘা জমি থাকলেও এখন তা বেড়ে হয়েছে ১১ বিঘা। একসঙ্গে ১২ হাজার মানুষ নামাজ পড়তে পারবেন বলেও জানান তিনি।
আগামী ১ ফেব্রুয়ারি নবগঠিত জনতা উন্নয়ন পার্টির তরফে ব্রিগেডে সমাবেশের ডাক দিয়েছেন হুমায়ুন কবীর। তাঁর অভিযোগ, ব্রিগেডের অনুমতির জন্য বারবার আবেদন করেও সাড়া মেলেনি। কটাক্ষ করে বলেন, “আমি এখন বিজেপি ও মমতা— উভয়েরই মাথাব্যথা। যদি ব্রিগেডে ১০ লক্ষ লোক জড়ো হয়ে যায়, তাই হয়তো অনুমতি দিচ্ছে না।” তবে অনুমতি না মিললেও ১ ফেব্রুয়ারি সভা হবে বলেই দাবি তাঁর। প্রয়োজনে মুর্শিদাবাদে ৫০ বিঘা জমিতে ব্রিগেডের মতো সভা করার কথাও জানান।
বিজেপিকে আক্রমণ করে হুমায়ুনের অভিযোগ, তারা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধিতা করতে না পেরে বাংলায় বিশৃঙ্খলা তৈরি করে রাষ্ট্রপতি শাসনের পথ প্রশস্ত করতে চাইছে। নিজের নিরাপত্তা নিয়ে হাইকোর্টে মামলা করার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “রাজ্যের সিকিউরিটি থাকলে হামলার সময় দশ হাত দূরে দাঁড়িয়ে থাকে। তাহলে আমি কি তাঁদের জামাই আদর করে রাখব?”