মেদিনীপুরে বিজেপি লিড পাওয়া মানে সিপিএমকে অক্সিজেন দেওয়া, স্পষ্ট ভাষায় এমনই বার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
.jpeg.webp)
মেদিনীপুরের সঙ্কল্পসভায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 16 January 2026 19:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মেদিনীপুরে বিজেপি লিড পাওয়া মানে সিপিএমকে অক্সিজেন দেওয়া, স্পষ্ট ভাষায় এমনই বার্তা দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। একদা বামেদের দুর্ভেদ্য ঘাঁটি মেদিনীপুরের সঙ্কল্প সভা থেকে বিজেপি ও সিপিএমকে (BJP, CPM) এক বন্ধনীতে রেখে আক্রমণের সুর চড়ান তিনি। দলের কর্মীদের টার্গেটও জানিয়ে দিলেন, "মেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রামে মোট ১৯ টি আসনে ১৯-০ করে দিতে হবে।"
অভিষেকের অভিযোগ, মেদিনীপুরে একসময় সন্ত্রাসের রাজনীতি করেছে সিপিএম। সেই সিপিএমের সন্ত্রাসখ্যাত নেতা সুশান্ত ঘোষের ডানহাত-বামহাত— সুকুর আলি, তপন ঘোষরা, যাঁরা ছোট আঙারিয়া গণহত্যা মামলায় অভিযুক্ত ছিলেন, তাঁরাই এখন বিজেপির নেতা। অভিষেকের কটাক্ষ, “নতুন বোতলে পুরনো মদ! মেদিনীপুরের কোনও বুথে যেন বিজেপি লিড না পায়, বিজেপিকে লিড দেওয়া মানে সিপিএমকে অক্সিজেন জোগানো! মায়েরা শপথ নিন, বিজেপিকে খাঁচাবন্দি করার।”
দুদিন আগে বাঁকুড়ায় একটি গাড়ি থেকে ফিলাপ করা এসআইআর এর (Sir Issue) কয়েক হাজার ফর্ম-৭ পাওয়া গিয়েছিল। বিজেপি যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দিতে অবৈধভাবে ফর্ম-৭ কমিশনে জমা দিতে নিয়ে যাচ্ছিল বলে অভিযোগ করেছিলেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
ওই প্রসঙ্গ টেনে অভিষেক বলেন, বিজেপির লক্ষ্য বাংলার যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া। শেষ মুহূর্তে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার চক্রান্ত চলছে জানিয়ে দলের কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, আগামী ১৬ থেকে ১৯ জানুয়ারি যদি কোনও বিজেপি নেতা ইআরও অফিসে ১০টার বেশি ফর্ম-৭ (নাম বাদ দেওয়ার ফর্ম) জমা দিতে আসে, তবে “ভদ্রভাবে শান্তিপূর্ণ মেজাজে রবীন্দ্রসঙ্গীতের সঙ্গে একটু ডিজে বাজিয়ে দেবেন (playing DJ with Rabindra Sangeet, )। প্রয়োজন হলে এলাকার বিজেপির ছোট-বড় নেতার বাড়িও ঘেরাও করবেন!”
যদিও পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "এসব ধমক-চমক দিয়ে লাভ নেই। বাংলায় এসআইআর এর কাজ সম্পূর্ণ না করে ভোট হবে না।"
কেন বিজেপি বা সিপিএমকে একটিও ভোট নয়, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে অভিষেক বলেন, "এদের থাকতে দিলে আলসার, রেখে দিলে ক্যান্সার!"
রাজ্যের প্রতিটি জেলায় প্রচুর যোগ্য ভোটারের নাম মৃত দেখিয়ে বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে কটাক্ষ করে অভিষেক বলেন, "জ্ঞানেশ কুমারের জন্য বাংলায় নতুন প্রকল্প চালু করতে হবে! ছানিশ্রী! বিজেপি নেতাদের ছানিও কাটতে হবে।"
অভিষেকের বক্তৃতার মধ্যেই নীচু থেকে মানুষ দাবি জানান, বিজেপি নেতাদের যেন তৃণমূলে না নেওয়া হয়। অভিষেক বলেন, "আপনাদের দাবি মেনেই আমরা ওদের দলে ঢুকতে দিইনি। দরজা বন্ধ রেখেছি।" এ প্রসঙ্গে অভিষেক দাবি করেন, "অজিত মাইতির (তৃণমূলের জেলা নেতা) সঙ্গে হিরণ (খড়গপুরের বিজেপি বিধায়ক) এসেছিল, দলে যোগ দিতে, আমরা নিইনি।"
বাংলায় বিজেপি এজেন্সিকে কাজে লাগিয়ে অত্যাচার নামিয়ে এনেছে অভিযোগ করে অভিষেক বলেন, "সব পাপের হিসাব হবে, তালিকা আমার কাছে আছে!"
সভা থেকে রাজ্য সরকারের প্রকল্পের কথাও তুলে ধরেন অভিষেক। জানান, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে আরও ২০ লক্ষ মানুষকে বাড়ি দেবে রাজ্য সরকার। তাঁর কথায়, “যতদিন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আছেন, মানুষের অধিকার বঞ্চিত করতে পারবে না কেউ।”
ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান নিয়েও বিজেপিকে আক্রমণ করেন অভিষেক। দাবি করেন, "বিজেপি বা সিপিএম ঘাটালের মাস্টার প্ল্যান করেনি, উল্টে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান আটকাতে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে। এজন্যই এদের আমরা বাংলাবিরোধী বলি!"