মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “স্কুলের সার্টিফিকেটকেই আমরা এতদিন জন্ম শংসাপত্র হিসেবে মেনে এসেছি। হঠাৎ করে সেটাই আর গ্রহণযোগ্য নয় বলা হচ্ছে। সুপ্রিম কোর্ট বলার পরেও আধার কার্ড নেওয়া হচ্ছে না। মানুষকে বিপদে ফেলতেই এসব করা হচ্ছে।”

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 16 January 2026 14:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর-এর (SIR) নামে ইচ্ছে করেই বাংলায় অশান্তির পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে— সরাসরি বিজেপি ও নির্বাচন কমিশনের (Election Commission , BJP) দিকে আঙুল তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Chief Minister Mamata Banerjee)। শুক্রবার উত্তরবঙ্গ সফরে যাওয়ার আগে কলকাতায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিজেপি জানে বাংলায় ভোটে জেতা সম্ভব নয়। তাই পরিকল্পিত ভাবে এসআইআর-এর নাম করে দাঙ্গা বাধানোর চেষ্টা চলছে। তাঁর অভিযোগ, এই চক্রান্তে কেন্দ্রীয় সরকারেরও ভূমিকা রয়েছে।
নাম কাটার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী প্রশ্ন তোলেন, অমর্ত্য সেন, লক্ষ্মীরতন শুক্লা, জয় গোস্বামী বা দেব, কাউকে ছাড়ছে না— এঁদেরও নোটিস দিলে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে কী অবস্থা ভাবুন! এমনকি ডোমিসাইল সার্টিফিকেটও গ্রহণ করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর কথায়, যে সার্টিফিকেট দেশের সর্বত্র মানা হয়, তা শুধু বাংলাতেই অগ্রাহ্য করা হচ্ছে।
এই প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সমালোচনায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তাহলে কি নির্বাচন কমিশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক আর বিজেপি মিলেই ভোট দেবে? এ ভাবে চললে এক শতাংশ ভোটারও অবশিষ্ট থাকবে না।” তাঁর অভিযোগ, অন্য কোনও রাজ্যে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। শুধু বাংলাতেই সব কিছু আটকে দেওয়া হচ্ছে।
তবে বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন বলে এ নিয়ে বেশি কিছু বলতে চাননি মুখ্যমন্ত্রী। তিনি স্পষ্ট করেন, মানুষের পাশে তিনি ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই আরও জোরদার হবে বলেও জানান। কমিশনের উদ্দেশে তাঁর বার্তা, চেয়ারের মর্যাদা, পরম্পরা ও নিরপেক্ষতা রক্ষা করলে মানুষের শ্রদ্ধা পাওয়া যাবে।
মানুষের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন, যাঁদের হিয়ারিংয়ে ডাকা হচ্ছে, তাঁরা যেন ফর্ম জমা দেন এবং আদালতের উপর ভরসা রাখেন।
বেলডাঙার পরিযায়ী শ্রমিককে ভিন রাজ্যে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এদিন সকাল থেকে উত্তপ্ত এলাকা। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, বেলডাঙার পর বিহারেও গতকাল একজনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। প্রতিদিন পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার করছে ডাবল ইঞ্জিন সরকার। ওরাই আমাদের লোকেদের নাম কাটছে আবার আমাদের লোকেদের পিটিয়ে হত্যা করছে। এর থেকে নক্কারজনক কিছু হতে পারে না।
মমতা এও জানান, "পরিযায়ী শ্রমিকদের ওপর অত্যাচারের প্রতিটি ঘটনায় আমরা পদক্ষেপ করছি। যারা করছে তাদের গ্রেফতার করবই। এই অত্যাচার করছে বিজেপি। তারপরেও ওরা আশা করে কী করে বাংলার মানুষ ওদের ভোট দেবে"।
এরপরই মুখ্যমন্ত্রী তাৎপর্যপূর্ণভাবে বলেন, "সোশ্যাল মাধ্যমে দেখছি ২-১জন খুব বেশি বলছে। নিজেদের জীবন কেটেছে ইডি, সিবিআইয়ে। কারও কারও শুষ্ক মরুভূমি। আমাকেই ছাড়াতে হয়েছে। অদৃষ্টের কি সুন্দর পরিহাস। তারা বলছে. মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১০ বছর জেলে পাঠালে , ফাঁসি দিলে, আমি বলি- শোন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসব পরোয়া করে না। আমি পরোয়া করি মানুষকে। যতদিন বাঁচব লড়াই করে বাঁচব"।
এদিন শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দিরের শিলান্যাস করার কথা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। আগামীকাল জলপাইগুড়ি সার্কিট বেঞ্চের প্রোগ্রাম আছে। এই দুটি অনুষ্ঠান সেরে কলকাতায় ফেরার কথা তাঁর। এদিন কলকাতা হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেছেন বিচারপতি সুজয় পাল। তাঁকে অভিনন্দন জানান মুখ্যমন্ত্রী।