তবে এখানেই শেষ নয়। সিইও স্পষ্ট করে দেন, এই প্রস্তাব কার্যকর হবে কি না, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সবুজ সংকেতের উপর। অর্থাৎ সুপারিশ করা হলেও, দিল্লি তা মানবে—এর কোনও ‘গ্যারান্টি’ নেই।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 14 January 2026 22:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুনানির সময় ভোটারদের জমা দেওয়া নথির ভিত্তিতে কেন ‘রিসিভ কপি’ দেওয়া হবে না, এই প্রশ্ন তুলে আগেই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে (Election Commission) চিঠি লিখেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশেই বুধবার বিষয়টি নিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি জমা দেয় তৃণমূলের পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধি দল। তার পরেই নড়েচড়ে বসে কলকাতার সিইও দফতর।
সিইও মনোজ কুমার আগরওয়াল জানান, “বিষয়টি নিয়ে জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে একটি সুপারিশ পাঠানো হবে।”
কী সেই সুপারিশ? সিইও-র বক্তব্য, “ভোটাররা যে নথি নিয়ে শুনানিতে যাবেন, তার দু’কপি ফটোকপি সঙ্গে রাখতে হবে। তার এক কপিকে ‘রিসিভ কপি’ হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে—এই প্রস্তাব দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
তবে এখানেই শেষ নয়। সিইও স্পষ্ট করে দেন, এই প্রস্তাব কার্যকর হবে কি না, তা সম্পূর্ণ নির্ভর করছে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের সবুজ সংকেতের উপর। অর্থাৎ সুপারিশ করা হলেও, দিল্লি তা মানবে—এর কোনও ‘গ্যারান্টি’ নেই।
উল্লেখ্য, ‘রিসিভ কপি’ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুধু চিঠিতেই সীমাবদ্ধ থাকেননি। নবান্নে সাংবাদিক সম্মেলনেও বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন তিনি। একই সঙ্গে বুধবার ফারাক্কার ঘটনায় শুনানি কেন্দ্রে ভাঙচুরের অভিযোগে এফআইআর করার কথাও নির্বাচন কমিশনের তরফে জানানো হয়েছিল। সিইও জানান, সেই প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতেই এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
বর্তমানে নির্বাচন কমিশনের তত্ত্বাবধানে দেশের ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে এসআইআর প্রক্রিয়া চলছে। তার মধ্যেই রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ। ইতিমধ্যেই রাজ্যে শুনানি পর্ব শুরু হয়েছে এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে একাধিক অভিযোগ উঠে আসছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনকে এখনও পর্যন্ত পাঁচটি চিঠি পাঠিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। শেষ চিঠিতেই ‘রিসিভ কপি’ না দেওয়ার বিষয়টি বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়।
সব মিলিয়ে, ‘রিসিভ কপি’ প্রশ্নে এবার রাজ্যের সিইও দফতর সক্রিয় হলেও, শেষ সিদ্ধান্ত যে দিল্লির হাতেই—তা স্পষ্ট। এখন নজর, জাতীয় নির্বাচন কমিশন মত বদলায় কি না।