শুনানির স্থান নির্ধারণ করা নিয়েও কমিশনকে আক্রমণ করেছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, বহু ক্ষেত্রেই শুনানির জন্য ভোটারদের ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে যেতে বলা হচ্ছে।

অরূপ বিশ্বাস এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য
শেষ আপডেট: 27 December 2025 15:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভোটার তালিকা সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে গুরুতর প্রশ্ন তুলে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সিইও-কে (CEO Office) চিঠি দিলেন রাজ্যের মন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya)। তাঁর অভিযোগ, এএসডিডি (ASDD) ক্যাটাগরিতে ইআরও নেট থেকে প্রায় ৫৮ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, যা কোনও জেলা বা স্থানীয় স্তরের সিদ্ধান্ত নয়, বরং কেন্দ্রীয় স্তরের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে করা হয়েছে।
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের (Chandrima Bhattacharya) প্রশ্ন, “এই নামগুলি বাদ দেওয়া হল কেন? এটা কি সেই উদ্দেশেই করা হচ্ছে, যার ইঙ্গিত কিছু রাজনৈতিক দল আগেই দিয়েছিল - যে দু কোটি নাম ভোটার তালিকা (Voter List) থেকে বাদ যাবে?” তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এই ধরনের প্রক্রিয়া তাঁরা কোনও ভাবেই মেনে নেবেন না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর মাধ্যমে কার্যত ইলেক্টোরাল রেজিস্ট্রেশন অফিসার (ERO)-দের ক্ষমতা খর্ব করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য, “ফার্স্ট অ্যাপিলেট অথরিটি হল ডিইও (DEO)। কিন্তু যদি ইআরও স্তরেই নাম ‘ডিসপোজ’ করে দেওয়া হয়, তাহলে ডিইও-র ভূমিকা কোথায়?”
এদিকে শুনানির স্থান নির্ধারণ করা নিয়েও কমিশনকে আক্রমণ করেছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya)। তিনি বলেন, বহু ক্ষেত্রেই শুনানির জন্য ভোটারদের ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার দূরে যেতে বলা হচ্ছে। “একজন বয়স্ক মানুষ বা শারীরিকভাবে দুর্বল নাগরিকের পক্ষে এত দূরে গিয়ে শুনানিতে হাজির হওয়া কি আদৌ সম্ভব?” এই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
কমিশনের (ECI) বিরুদ্ধে একইভাবে সরব হয়েছেন অরূপ বিশ্বাসও (Arup Biswas)। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে প্রায় ৫৫ লক্ষ নাম বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত কার্যত কেন্দ্রীয় সরকারই (Central Govt) নিয়েছে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলছে। অরূপ বিশ্বাসের দাবি, “যে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে, সেই তালিকা অবিলম্বে পাবলিক ডোমেইনে আনা উচিত। কোন কোন নাম বাদ গেছে, কী কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে - এই তথ্য নির্বাচন কমিশন কেন গোপন রাখছে?”
তিনি অভিযোগ করেন, স্বচ্ছতার কোনও চিহ্ন এই প্রক্রিয়ায় নেই। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার মতো সংবেদনশীল বিষয়ে সাধারণ মানুষের জানার অধিকার থাকা সত্ত্বেও কমিশন নীরব ভূমিকা নিচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও সরাসরি প্রশ্ন তোলেন অরূপ বিশ্বাস। তাঁর কটাক্ষ, “এটা কি ইলেকশন কমিশনের অফিস, না কি বিজেপির (BJP) অফিস?” তাঁর অভিযোগ, কমিশনের আধিকারিকদের কাছে প্রশ্ন তুললে তাঁরা শুধু বলেন, বিষয়টি নির্বাচন কমিশন (ECI)-কে জানানো হবে।
অরূপ বিশ্বাস বলেন, “যদি এখানে বসে থাকা আধিকারিকরাই কোনও প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারেন, তাহলে তাঁরা সেখানে বসে আছেন কেন?” তাঁর মতে, এই আচরণ থেকেই স্পষ্ট হচ্ছে যে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা নিয়ে গুরুতর সঙ্কট তৈরি হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেস স্পষ্ট অভিযোগ করছে - পুরো এসআইআর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো হচ্ছে এবং আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।