অধিকাংশ ডিসট্রিবিউটরের বাইরে লম্বা লাইন পড়েছে। রাজ্য জুড়ে এলপিজি সঙ্কট এখন চরমে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার সংসদের বাইরে বিক্ষোভ দেখিয়ে সরব হলেন তৃণমূলের সাংসদেরা (TMC MP)।
.jpeg.webp)
সংসদের বাইরে বিক্ষোভ তৃণমূল সাংসদদের
শেষ আপডেট: 13 March 2026 14:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আড়াই দিনে গ্যাস পাওয়া (Gas Crisis) যাবে বলছে বটে কেন্দ্র। অথচ বুকিং হচ্ছে না। অধিকাংশ ডিসট্রিবিউটরের বাইরে লম্বা লাইন পড়েছে। রাজ্য জুড়ে এলপিজি সঙ্কট এখন চরমে। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবার সংসদের বাইরে বিক্ষোভ দেখিয়ে সরব হলেন তৃণমূলের সাংসদেরা (TMC MP)।
মৎস্যজীবীদের ব্যবসা লাটে, বন্ধ ‘মা ক্যান্টিন’
গ্যাসের এই হাহাকার কেবল হেঁশেলেই যে সীমাবদ্ধ, তা নয়। সুন্দরবনের মৎস্যজীবীরা ট্রলার নিয়ে সমুদ্রে যেতে পারছেন না বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের (Commercial Cylinder) অভাবে। ফলে ব্যাহত হচ্ছে মৎস্য ব্যবসা। বসিরহাটের ‘মা ক্যান্টিন’ গ্যাসের অভাবে তিন দিন ধরে তালাবন্ধ। বহু সরকারি স্কুলে মিড ডে মিলের রান্না ফিরে গিয়েছে সেই কাঠের উনুনে। এমনকি শ্রীরামপুরের রাধাবল্লভ মন্দিরের ভোগেও কাটছাঁট করতে হয়েছে বলে খবর।
দিল্লির রাজপথে তৃণমূলের প্রতিবাদ
এহেন গ্যাস সঙ্কটে শুক্রবার সকালে লোকসভার বাইরে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখালেন মহুয়া মৈত্র, মিতালী বাগ, জুন মালিয়া ও দোলা সেন-রা। তাঁদের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার ‘আড়াই দিনে গ্যাস’ দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, বাস্তবের সঙ্গে তার কোনও মিল নেই। মহুয়া মৈত্র সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা সাধারণ মানুষের বাড়ি গিয়ে দেখুন। মানুষ এখন গ্যাসের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন।”
কালোবাজারির থাবা ও প্রশাসনের তৎপরতা
সঙ্কটের সুযোগ নিয়ে রাজ্য জুড়ে শুরু হয়েছে গ্যাসের কালোবাজারি। বাঁকুড়া থেকে নদিয়া— সব জায়গাতেই দ্বিগুণ দামে গ্যাস বিক্রির অভিযোগ উঠছে। জয়নগরে আবার সিলিন্ডার থেকে সরাসরি অটোতে গ্যাস ভরার মতো বিপজ্জনক কাজও চলছে প্রকাশ্যে। এই পরিস্থিতি সামাল দিতে তৎপর হয়েছে রাজ্য সরকার। শুক্রবার সকাল থেকেই কলকাতার বিভিন্ন গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটরদের অফিসে হানা দেন এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চের (EB) আধিকারিকেরা। খতিয়ে দেখা হচ্ছে মজুত গ্যাসের পরিমাণ।
এই সঙ্কট নিয়ে মুখ খুলেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তাঁর মতে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব ভারতের জ্বালানি সরবরাহে পড়েছে। তবে এর পাশাপাশি তিনি সাফ জানান, কিছু মানুষ অযথা আতঙ্ক ছড়িয়ে পরিস্থিতি জটিল করছেন। রাজ্য সরকারগুলিকে কালোবাজারি রুখতে কড়া পদক্ষেপের আর্জিও জানান তিনি।
লোকাল সার্কেলস (Local Circles) নামে এক প্ল্যাটফর্ম রয়েছে, যারা সম্প্রতি সমীক্ষাটি চালায়। এতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রায় ১৯ হাজার মানুষ অংশ নেন। সমীক্ষার ফলাফল বলছে—প্রায় ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন LPG সরবরাহ নিয়ে সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ৪৩ শতাংশ বলেছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বুকিং ও ডেলিভারি স্বাভাবিক রয়েছে।
যাঁরা সমস্যার কথা বলেছেন, তাঁদের অনেকেই জানিয়েছেন যে বুকিং করার পর ডেলিভারি পেতে আগের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগছে।
সমীক্ষায় উঠে এসেছে আরও উদ্বেগজনক অভিযোগ। অনেক জায়গায় মধ্যস্বত্বভোগী বা ফড়ে ও সরবরাহকারীরা প্রতি সিলিন্ডারে ১০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত অতিরিক্ত নিচ্ছেন।
কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও গুরুতর। দিল্লি-এনসিআর অঞ্চলে কিছু গ্যাস এজেন্সি ও দালালরা একটি সিলিন্ডারের জন্য ১৫০০ থেকে ২৮০০ টাকা পর্যন্ত নিচ্ছে বলে অভিযোগ।
বর্তমানে দেশে একটি গৃহস্থালি LPG সিলিন্ডারের দাম সাধারণত ৯০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে, আর বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম ১৮০০ থেকে ২২০০ টাকার মধ্যে থাকে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকদের প্রায় দ্বিগুণ দাম দিতে হচ্ছে বলে অভিযোগ।
গ্যাসের অনিশ্চিত সরবরাহের কারণে বহু পরিবার এখন বিকল্প রান্নার ব্যবস্থা খুঁজতে শুরু করেছে। অনেকে ইনডাকশন কুকটপ, বৈদ্যুতিক হিটার বা অন্যান্য বৈদ্যুতিক রান্নার যন্ত্র ব্যবহার করছেন। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে এই প্রবণতা বাড়ছে।