
বক্তব্য রাখছেন বাপি হালদার - ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 14 April 2025 15:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ওয়াকফ আইনের (Waqf Bill) বিরোধিতায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে রাজ্যে (West Bengal)। গত শুক্রবার থেকে মুর্শিদাবাদ কার্যত উত্তপ্ত। পরে মালদহ সহ আরও একাধিক জেলায় অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। বিজেপির দাবি, তৃণমূলের তরফে উস্কানি দেওয়ার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। যদিও শাসক শিবিরের তরফে পাল্টা বিজেপির ঘাড়েই দোষ চাপিয়ে বলা হয়েছে, যে রাজনীতির জন্য বাংলাকে অশান্ত করছে তাঁরা। তবে তৃণমূল কীভাবে উস্কানি দিচ্ছে তার 'প্রমাণ' দিয়েছেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumder)।
সোশ্যাল মিডিয়ায় তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ বাপি হালদারের (Bapi Halder) একটি ভিডিও পোস্ট করেছেন সুকান্ত। সেই ভিডিওতে বাপিকে বলতে শোনা যাচ্ছে, ''ওয়াকফ সম্পত্তি কারও বাপের সম্পত্তি নয়। এটা সম্প্রদায়ের সম্পত্তি। আর তার দিকে কেউ চোখ তুলে তাকালে যেমন তা উপড়ে নেবেন, তেমন হাত ভেঙে দেবেন।'' বিজেপি সাংসদের বক্তব্য, ওয়াকফ আইনের বিরোধিতার নামে বাংলায় কারা অশান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে তা পরিষ্কার। আর রাজ্যের হিন্দু সম্প্রদায় তা খুবই ভাল করে জানেন।
সুকান্তর কথায়, ''কথায় কথায় হিন্দুদের ওপর আক্রমণ করা হচ্ছে। বিএসএফ-এর ওপর পেট্রোল-বোমাও মারা হচ্ছে। যারা এই কাজ করছে তাদের কারা সমর্থন করেছেন - এই ভিডিও থেকে বিষয়টি পরিষ্কার। তৃণমূল সাংসদ একদম স্পষ্ট করেই তা বুঝিয়ে দিচ্ছেন।'' এই মন্তব্য করে সরাসরি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন সুকান্ত। বলেছেন, তৃণমূল সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তো পুরোপুরি ব্যর্থই, পাল্টা তাঁরাই উস্কানি দিচ্ছেন যাতে রাজ্যে হিংসা বজায় থাকে। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা দ্য ওয়াল যাচাই করেনি।
The fanatical, fundamentalist jihadi groups who, under the pretense of protesting against the Waqf Amendment Act, are continuously attempting to erase the existence of Hindus and are even throwing petrol bombs at the @BSF_India jawans—who is directly supporting them? This… pic.twitter.com/HZ5oiSWqIF
— Dr. Sukanta Majumdar (@DrSukantaBJP) April 13, 2025
গত শুক্রবার থেকে মুর্শিদাবাদের সুতি, ধুলিয়ান, সামশেরগঞ্জ সহ একাধিক এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। ইতিমধ্যে তিনজনের মৃত্যু হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেই খবর। তাঁদের মধ্যে অন্তত ১৮ জন পুলিশ কর্মী রয়েছেন। সোমবারই অবশ্য রাজ্য পুলিশের তরফে সাংবাদিক বৈঠক করে দাবি করা হয়েছে, জেলার পরিস্থিতি আগের থেকে শান্তিপূর্ণ। শেষ ৩৬ ঘণ্টায় নতুন করে কোনও অশান্তির ঘটনা ঘটেনি।
ওয়াকফ-অশান্তির জেরে যে ঘটনা ঘটেছে তার জন্য ইতিমধ্যে ২০০-র বেশি জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে, বাড়ছে এফআইআরের সংখ্যাও। এমনটাই জানিয়ে রাজ্য পুলিশ। এডিজি আইনশৃঙ্খলার স্পষ্ট বক্তব্য, যারা এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যে যে এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তাদের প্রত্যেককে কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি দেওয়া হবে।
জেলায় হিংসা রুখতে ইন্টারনেট বন্ধ করা হয়েছিল, তাও আবার চালু করা হচ্ছে। কিন্তু সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার বার্তা দিয়েছেন এডিজি আইনশৃঙ্খলা। কারণ তিনি মনে করছেন, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে অনেকেই ভুয়ো খবর ছড়িয়ে অশান্তি ছাড়ানোর চেষ্টা করছেন।
জাভেদ শামিমের কথায়, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও মানসিকভাবে মানুষ স্বাভাবিক হতে পারছেন না ভুল খবরের জন্য। লাগাতার ভুয়ো ছড়ানোর চেষ্টা করছে একদল। সেগুলি বিশ্বাস করে মানুষ আরও বিপদে পড়ছেন। যারা এই ধরনের কাজ করছেন তাদেরকেও কড়া শাস্তি দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।