
শশী পাঁজা, কুণাল ঘোষ এবং জয়প্রকাশ মজুমদার
শেষ আপডেট: 11 November 2024 14:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত ৯ নভেম্বর, শনিবার উপনির্বাচনের প্রচারে উস্কানিমূলক মন্তব্য করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং অন্যান্য বিজেপি নেতারা! তাঁদের বক্তব্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট হয়েছে, এমনই অভিযোগ করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। এই প্রেক্ষিতেই সোমবার নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে শাসক শিবির। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, সমাজে আগুন লাগানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
এদিন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারির হাতে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল। সেই দলে ছিলেন কুণাল ঘোষ, শশী পাঁজা এবং জয়প্রকাশ মজুমদার। কুণালের বক্তব্য, ''শুভেন্দু অধিকারী নির্বাচনী প্রচার থেকে প্ররোচনা মূলক বক্তব্য রেখেছেন। বাংলায় যা ঘটছে তা আমাদের জানা নেই, তবে তিনি বাংলাদেশ নিয়ে বক্তব্য রেখে সাম্প্রদায়িক ভেদাভেদের চেষ্টা করছেন। যা অত্যন্ত ভয়ঙ্কর। পুরো বক্তব্য আমরা পেনড্রাইভের মাধ্যমে জমা দিয়েছি।'' তৃণমূল নেতার কথায়, যে ঘটনা ঘটেছে তা নির্বাচন কমিশনের আইন বিরুদ্ধ। এই ধরনের মন্তব্য শুধু নির্বাচন বা উপনির্বাচন নয়, সব জায়গাতেই প্রভাব ফেলবে। তাই অবিলম্বে এই মন্তব্য সেন্সার করার দাবি জানান তিনি।
তালডাংরা বিধানসভা কেন্দ্রে প্রচারে গিয়ে শুভেন্দু যে মন্তব্য করেছেন তা শোনার পর কুণালের এও আশঙ্কা, এই ধরনের মন্তব্য করার পর কিছু ঘটলে তৃণমূলের ওপর দোষ চাপানো হতে পারে। অন্য রাজ্য থেকে লোক ঢুকিয়ে ঝামেলা পাকানোরও চেষ্টা হতে পারে। নোংরা রাজনীতি করার জন্যই বিজেপি এই কাজ করবে বলে দাবি কুণালের। তাই কমিশনের কাছে তাঁর আর্জি, এই ধরনের 'হেট স্পিচ' যাতে না দেওয়া হয় তার জন্য কড়া ব্যবস্থা নিতে হবে।
বিজেপি নেতার এই ধরণের মন্তব্য করে সমাজে আগুন লাগানোর চেষ্টা করছেন বলেও মত কুণালদের। তাঁরা বলছেন, শুধু উপনির্বাচন হচ্ছে বলে এই বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে না। বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে যেভাবে উস্কানিমূলক মন্তব্য বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে করা হচ্ছে তা অত্যন্ত বিপজ্জনক। এটা অপসংস্কৃতি ছাড়া কিছু নয়। বিজেপি শুধু মানুষের মধ্যে ভেদাভেদ সৃষ্টি করে আগুন লাগাতে চাইছে। নির্বাচনে হারবে জেনে গেছে, তাই যে করে হোক অশান্তি তৈরির ছক করছে তাঁরা। এমনই দাবি করেছেন তৃণমূল নেতা।
গোটা বিষয় নিয়ে রবিবারই নির্বাচন কমিশনে আসার কথা ভেবেছিল তৃণমূল প্রতিনিধি দল। তবে অ্যাপোয়েনমেন্ট পাওয়া যায়নি বলে জানান কুণাল। তাই সোমবার সকালে অনুমতি পেতেই তাঁরা এসে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক বিষয়টি দেখবেন বলে কথা দিয়েছেন বলে জানিয়েছে তৃণমূল নেতৃত্ব।