শিবপুর থানার অন্তর্গত ফরশোর রোড এবং জগৎ ব্যানার্জি রোডে রাস্তার ধারে ল্যাম্পপোস্টে লাগানো হোর্ডিংগুলো রাতের অন্ধকারে কে বা কারা ব্লেড দিয়ে ছিঁড়ে দিয়েছে।

নিজস্ব চিত্র।
শেষ আপডেট: 17 July 2025 10:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একুশে জুলাইয়ের শহীদ দিবসের (TMC 21st July) সভা সামনে রেখে রাজ্যের রাজনৈতিক আবহ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। হাওড়ার শিবপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) ছবি-সহ একাধিক হোর্ডিং ছেঁড়া (Hoarding Controversy) ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা (Shibpur , Political Tension)।
তৃণমূল কংগ্রেস অভিযোগ, পরিকল্পিত ভাবেই দলকে বদনাম করতে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তাদের অভিযোগের আঙুল বিরোধী বিজেপি ও সিপিএমের দিকে। যদিও পাল্টা কটাক্ষ করেছে বিজেপি। তাদের দাবি, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব থেকেই এই ঘটনা ঘটেছে।
জানা গিয়েছে, শিবপুর থানার অন্তর্গত ফরশোর রোড এবং জগৎ ব্যানার্জি রোডে রাস্তার ধারে ল্যাম্পপোস্টে লাগানো হোর্ডিংগুলো রাতের অন্ধকারে কে বা কারা ব্লেড দিয়ে ছিঁড়ে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই তৃণমূল নেতৃত্ব শিবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এই ঘটনার নিন্দা করে রাজ্যের খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দফতরের মন্ত্রী এবং হাওড়া সদর তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান অরূপ রায় বলেন, “এটা পরিকল্পিত ভাঙচুর। বিজেপি-সিপিএম আঁতাত করে এই কাজ করছে। ২০২১-এ সিপিএমের ভোট বিজেপির ঝুলিতে গিয়েছিল। ফের তারা একসঙ্গে ষড়যন্ত্র করছে। পুলিশ তদন্ত করলেই সব সামনে চলে আসবে।” এখানেই না থেমে বিরোধীদের উদ্দেশে মন্ত্রী এও বলেন, “ওরা জানোয়ার, মানুষের কোনও গুণ নেই।”
অন্যদিকে ছেঁড়া হোর্ডিংগুলোর অধিকাংশই প্রাক্তন মন্ত্রী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামযুক্ত। যেখানে মন্ত্রী অরূপ রায়ের নাম রয়েছে, সেগুলো অক্ষত। যা থেকে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন উঠেছে, তৃণমূলের অন্দরেই কি এই ভাঙচুরের ছক? এ ব্যাপারে অরূপ রায়ের দাবি, “দল কোনও গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নেই। কে বা কারা এর পিছনে রয়েছে, তা পুলিশ খতিয়ে দেখলেই স্পষ্ট হবে।” প্রসঙ্গত, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় একসময় তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। পরে ফের তৃণমূলে ফিরে এসে বর্তমানে জেলা পরিষদের মেন্টরের দায়িত্বে রয়েছেন।
বিষয়টিকে ঘিরে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপিও। দলের রাজ্য সম্পাদক উমেশ রাই বলেন, “বিরোধীরা কেন তৃণমূলের হোর্ডিং ছিঁড়বে? এটা ওদের গোষ্ঠীকোন্দলের ফল। এক গোষ্ঠী অন্য গোষ্ঠীর হোর্ডিং ছিঁড়ে দিয়েছে। তৃণমূলের সর্বত্রই মারামারি চলছে।”
ধর্মতলার সভার আগে এই ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়বে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। এখন দেখার পুলিশি তদন্তে কী উঠে আসে।