বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তাঁর সাফ বার্তা — ‘‘খেলা হবে। তৈরি থাকো। অত্যাচার বন্ধ না হলে মানুষকে নিয়েই তোমাদের থামাব।"

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি-অরিত্র কবিরাজ।
শেষ আপডেট: 16 July 2025 19:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জাতীয় নাগরিকপঞ্জী (এনআরসি) ও নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (CAA) নিয়ে ফের সুর চড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। বুধবার ধর্মতলার প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগে আক্রমণ শানালেন তিনি। মুসলিম ও মতুয়া সম্প্রদায়ের নাম বাদ যাওয়ার প্রসঙ্গে কটাক্ষ করে বললেন, “ওরা পুঁটি মাছ, মৌরলা মাছ বাছার মতো মুসলমানদের বেছে তুলে নিচ্ছে। আর সেটা করতে গিয়ে নিজেরাই কাঁটায় জড়িয়ে যাচ্ছে।”
কলেজ স্কোয়ার থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত পদযাত্রা করে তৃণমূল। মঞ্চে উঠে মমতা বলেন, “১২ লক্ষ হিন্দু-মুসলমানের নাম কাটা হয়েছে। রাজবংশী, মতুয়া — এরা কি হিন্দু না মুসলমান, ওরা ঠিক করবে? হিন্দু-মুসলমান নয়, এটা আদতে বাংলাভাষীদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র। দেখে শুনে নাম বাদ দিচ্ছে। আর আর এটা করতে গিয়ে ওরা এমন এমন ভুল করছে যে পুরো কাঁটাটা কাঁটার ওপরেই লেগে যাচ্ছে, কাঁটার ওপর কাঁটা! "
মঞ্চ থেকে বিজেপিকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে মমতা বলেন, “এটা শুধু মুসলমানদের বিরুদ্ধে নয়, হিন্দু মতুয়াদের বিরুদ্ধেও চলছে। বিজেপি যতই ধর্মের নামে মানুষ ভাগ করতে চাইছে, আমরা ততই একতার ডাক দেব। বাংলার মানুষের উপর অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা চুপ থাকব না।”
বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তাঁর সাফ বার্তা — ‘‘খেলা হবে। তৈরি থাকো। অত্যাচার বন্ধ না হলে মানুষকে নিয়েই তোমাদের থামাব।" ছাব্বিশে বাংলার বিধানসভা ভোটের পর আগামীদিনে দিল্লি দখল করা হবে বলেও এদিনের মঞ্চ থেকে বার্তা দেন মুখ্যমন্ত্রী।
যেভাবে বাংলাদেশি সন্দেহে ভিন রাজ্যে এরাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকদের আটকে রাখা হচ্ছে তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মমতা। কেন্দ্রীয় সরকার ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে নিশানা করে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন, ‘‘বিনা বিচারে এক মাস ধরে কাউকে আটকে রাখা যায়? এটা কিসের আইন? এ তো ইন্দিরা গান্ধীর জরুরি অবস্থার থেকেও ভয়ঙ্কর!’’
তিনি বলেন, ‘‘আপনারা সুপার ইমার্জেন্সি ডে পালন করেন, অথচ নিজেরাই অবৈধ আইন বানিয়ে নিরীহ মানুষকে আটকে রাখছেন। যে আইন নিজেই বোঝে না, সেই আইন নিয়ে দেশ চালাচ্ছেন!’’
সম্প্রতি স্বাস্থ্য মন্ত্রকের ‘সিঙাড়া-জিলিপি’ সংক্রান্ত নির্দেশিকা সামনে আসার পরই প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি প্রধানমন্ত্রীকে কটাক্ষ করে বলেন, ‘‘কাল বললেন আমি নাকি মিথ্যে বলি। বলি, সিঙাড়া কে খাবে, জিলিপি কে খাবে, তা কি তুমি ঠিক করবে? প্রত্যেক মানুষ তার শরীর বোঝে, প্রয়োজন বোঝে।’
প্রধানমন্ত্রীর 'নাক গলানো' প্রবণতাকেও কটাক্ষ করে মমতা বলেন, ‘‘সবকিছুতেই নাক গলান উনি। আর বড় নেতাদের থেকেও ছোট নেতারা বেশি কথা বলছে। বাঁশের চেয়ে কঞ্চি বড় হয়ে গেছে। ইডি, সিবিআইয়ের হাত থেকে বাঁচতে গিয়ে যা খুশি বলে যাচ্ছে এরা।’’
সতর্কবার্তা দিয়ে মমতা এ দিন বলেন, ‘‘বাংলার মানুষ আমাকে কাজ করতে দিয়েছে। যদি বাধা দেন, গোটা দেশ ঘুরে ঘুরে আন্দোলনে নামব। কোথায় কোথায় ডিটেনশন ক্যাম্প বানিয়েছেন, তাতেও গিয়ে বাংলা ভাষায় কথা বলব। বাংলাকে থামানো যাবে না।’’