এর আগে শনিবারও সিইও দফতরে গিয়েছিলেন তৃণমূলের পাঁচ প্রতিনিধি। সেদিনই হিয়ারিং প্রক্রিয়ায় অসংগতি, বিশেষ করে বয়স্ক ভোটারদের সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন তাঁরা। তার পর রবিবার বিএলএ-২দের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে একই প্রসঙ্গে সরব হন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল
শেষ আপডেট: 29 December 2025 19:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শনিবার থেকে শুরু হওয়া এসআইআর (Special Intensive Revision) হিয়ারিং পর্ব ঘিরে ফের অস্বস্তিতে নির্বাচন কমিশন (CEO Office)। সোমবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচন আধিকারিকের (CEO) দফতরে গিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলে ধরল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধি দল (TMC Delegation)। বৈঠকেই তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন ব্যারাকপুরের সাংসদ পার্থ ভৌমিক (Partha Bhowmik)।
এর আগে শনিবারও সিইও দফতরে গিয়েছিলেন তৃণমূলের পাঁচ প্রতিনিধি। সেদিনই হিয়ারিং প্রক্রিয়ায় (Hearing Process) অসংগতি, বিশেষ করে বয়স্ক ভোটারদের সমস্যার কথা তুলে ধরেছিলেন তাঁরা। তার পর রবিবার বিএলএ-২দের (BLA-2) সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠকে একই প্রসঙ্গে সরব হন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট প্রশ্ন তোলেন - বয়স্কদের কেন অফিসে ডাকা হচ্ছে, কেন তাঁদের বাড়িতে গিয়ে শুনানি হচ্ছে না?
এই প্রশ্নগুলিকেই সামনে রেখে সোমবার ফের সিইও দফতরে যান পার্থ ভৌমিক ও শশী পাঁজারা। সিইও মনোজ আগরওয়ালের (Manoj Agarwal) সঙ্গে বৈঠকে পার্থ ভৌমিক অভিযোগ করেন, বয়স্ক নাগরিকদের সমস্যা নিয়ে বারবার জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত কার্যকর কোনও পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। বৈঠকের মধ্যেই তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের সমস্যাগুলির কোনও সমাধান করছেন না। কোনও সিদ্ধান্তও নেওয়া হচ্ছে না।” তাঁর মতে, এই পরিস্থিতি কোনও ভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তৃণমূল সাংসদের স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, যদি এই বিষয়গুলি জাতীয় নির্বাচন কমিশন (ECI) এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের নজরে না আনা হয়, তা হলে তাঁরা আবার সিইও দফতরে আসবেন।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পার্থ ভৌমিক জানান, সিইও তাঁদের আশ্বাস দিয়েছেন যে বিষয়টি তিনি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে আলোচনা করবেন। বয়স্কদের বাড়িতে গিয়ে হিয়ারিংয়ের প্রশ্নে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলেও জানিয়েছেন সিইও। পাশাপাশি, যাঁরা রাজ্যের বাইরে রয়েছেন, তাঁদের জন্য ভার্চুয়াল হিয়ারিংয়ের দাবিও তোলা হয়েছে বলে জানান পার্থ।
এ দিন হিয়ারিং প্রক্রিয়ায় রাজনৈতিক দলগুলির বিএলএ-দের (Booth Level Agent) উপস্থিতি না থাকার বিষয়েও তীব্র আপত্তি জানায় তৃণমূল। আগের দিন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছিলেন, হিয়ারিংয়ে তৃণমূলের বিএলএ-রা থাকবেনই। সোমবার সেই দাবিই সিইও-র সামনে তুলে ধরেন পার্থ ভৌমিক।
তাঁর যুক্তি, “এনুমারেশন ফর্ম বিলির সময় বিএলও-দের সঙ্গে বিএলএ-রা ছিলেন। তা হলে হিয়ারিংয়ের সময় তাঁদের বাদ দেওয়া হবে কেন?” পার্থ স্পষ্ট করেন, শুধু তৃণমূল নয় - সব রাজনৈতিক দলের বিএলএ-দেরই হিয়ারিংয়ে থাকার অনুমতি দেওয়া হোক। আর যদি তা না হয়, তা হলে কমিশন লিখিতভাবে জানাক। সে ক্ষেত্রে আইনি পথেও যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
পার্থ ভৌমিক জানান, তাঁদের সমস্ত অভিযোগ জাতীয় নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে ধরার আশ্বাস দিয়েছেন সিইও। তবে সন্তোষজনক উত্তর না মিললে তাঁরা ফের সিইও দফতরে আসবেন বলেও জানিয়ে দেন তৃণমূল সাংসদ।