সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আবেগপ্রবণ হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত এক মাসে ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু বা আত্মহত্যার খবর তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। “এসব আর সহ্য হচ্ছে না,” বলেন তিনি। মা দুর্গার কাছে মানুষের মঙ্গল ও শান্তির জন্য প্রার্থনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 29 December 2025 18:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার দুর্গা অঙ্গনের (Durgangan) শিলান্যাস মঞ্চ থেকে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা ‘তোষণের রাজনীতি’-র অভিযোগের সরাসরি জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, ভিন্ন ধর্ম মানেই ভিন্ন রীতি, আর সেই রীতিকে সম্মান জানানোই তাঁর রাজনৈতিক ও মানবিক বিশ্বাসের অংশ।
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “সব ধর্মের আলাদা আলাদা নিয়ম রয়েছে। অন্য ধর্মের অনুষ্ঠানে গেলে সেই নিয়ম মানতেই হবে।” এই মন্তব্যের মধ্য দিয়েই নাম না করে বিজেপিকে (BJP) নিশানা করেন তিনি। একই সঙ্গে হুঁশিয়ারির সুরে বলেন, অনেক সহ্য করা হচ্ছে, কিন্তু সহ্যেরও একটি সীমা আছে।
রাজনৈতিক মহলের মতে, এ দিনের বক্তব্য শুধুই ধর্মীয় প্রসঙ্গে সীমাবদ্ধ ছিল না। রাজ্যে চলমান এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া এবং তার জেরে সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক মৃত্যুর ঘটনা নিয়েও মুখ্যমন্ত্রীর উদ্বেগ স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। গত দু’মাসে যে মৃত্যুগুলি সামনে এসেছে, তার অধিকাংশই আত্মহত্যা এবং সেগুলির সঙ্গে এসআইআর পরিস্থিতির যোগ রয়েছে বলেই দাবি উঠছে।
এই আবহেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ‘তোষণ’-এর অভিযোগকে সরাসরি খারিজ করে বলেন, তাঁর রাজনীতির ভিত্তি কোনও বিশেষ ধর্ম নয়, বরং সর্বধর্ম সমন্বয় ও মানবিকতার দর্শন। তাঁর বক্তব্য, “আমার কাছে যে ধর্মের মানুষই আসুন না কেন, আমি চেষ্টা করি তাঁদের পাশে থাকতে। আমি তোষণ করি না। আমি সর্বধর্ম সমন্বয়ে বিশ্বাস করি।”
উদাহরণ টেনে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “শিখদের অনুষ্ঠানে গেলে মাথায় কাপড় ঢাকি - তখন তো কেউ প্রশ্ন তোলে না। তাহলে রোজায় গেলে আপত্তি কোথায়?” এই প্রশ্নের মধ্য দিয়েই ধর্মীয় আচরণ নিয়ে দ্বিচারিতার অভিযোগ তোলেন তিনি।
সাম্প্রতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আবেগপ্রবণ হয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত এক মাসে ৫০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু বা আত্মহত্যার (Deaths) খবর তাঁকে গভীরভাবে ব্যথিত করেছে। “এসব আর সহ্য হচ্ছে না,” বলেন তিনি। মা দুর্গার কাছে মানুষের মঙ্গল ও শান্তির জন্য প্রার্থনার কথাও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
একই সঙ্গে রাজনৈতিক বার্তাও দেন তিনি। সহিষ্ণুতাকে দুর্বলতার সঙ্গে গুলিয়ে না ফেলার আহ্বান জানিয়ে মমতা বলেন, “ধৈর্য ধরছি, সহ্য করছি। কিন্তু সহ্যেরও একটা সীমা থাকে। বাংলার মানুষ মাথা নত করে না।”
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রেক্ষিতে পরোক্ষে ইঙ্গিত দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করেন, গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করাই তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য। তাঁর কথায়, “প্রত্যেক মানুষের অধিকার রক্ষা করতেই হবে। যত বাধাই আসুক, সেই লড়াই চলছে এবং চলবে।”
এদিকে দুর্গা অঙ্গন প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান - ''জাতীয় উৎসব হিসেবে ইউনেস্কোর থেকে যে সম্মান পেয়েছি সেটা সংরক্ষিত রাখার জন্য, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য, দুর্গা অঙ্গন প্রয়োজন।'' সকলকে অবগত করেন, 'দুর্গা অঙ্গন' নির্মাণে আনুমানিক খরচ ধরা হয়েছে প্রায় ২৬২ কোটি টাকা। মন্দির চত্বরের চারপাশে ২০ ফুট চওড়া ঘোরার পথ করা হচ্ছে।
এছাড়া ১ হাজার ৮টি স্তম্ভ থাকছে এবং মূল গর্ভগৃহের উচ্চতা হবে ৫৪ মিটার। মূল মণ্ডপ ছাড়াও সিংহদুয়ার ও অন্য মণ্ডপও থাকবে এই 'দুর্গা অঙ্গন'-এ। মমতা দাবি করেন, এটি বিশ্বের বৃহত্তম দুর্গাঙ্গন হবে এবং এখানে প্রতিদিন যাতে এক লক্ষ ভক্ত আসতে পারে তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।