২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সংখ্যালঘুরা ভয়ঙ্কর খেলা খেলবে-দাবি তহ্বার।

কাশেম, নওসাদ ও তহ্বা সিদ্দিকী।
শেষ আপডেট: 21 June 2025 17:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফুরফুরা শরিফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী এবং ভাঙড়ের বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকীর (Nawsad Siddiqui) তুতো ভাই কাসেম সিদ্দিকীকে (Kashem Siddiqui) সম্প্রতি দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের পদ দিয়েছে তৃণমূল (TMC)। এ নিয়ে এবার মুখ খুললেন ফুরফুরের পীরজাদা তহ্বা সিদ্দিকী।
সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাশেম সম্পর্কে বলতে গিয়ে তহ্বা সিদ্দিকীর (Taha Siddiqui ) দাবি, "কাশেমকে তৃণমূল দলে নেওয়ায় এবং উচ্চ পদ দেওয়ায় সংখ্যালঘুদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। ২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সংখ্যালঘুরা ভয়ঙ্কর খেলা খেলবে।"
এখানেই না থেমে তহ্বা এও দাবি করেছেন, "কাশেমকে তৃণমূল দলে নেওয়ায় লাভ হল নওসাদের। ভাঙড়ে ও তো জিতবেই, সঙ্গে আরও দু'তিনটে আসন পেতে পারে ওর দল আইএসএফ।"
কেন একথা বলছেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন তহ্বা সিদ্দিকী। তাঁর কথায়, "এই কাশেম তো সব ব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রীকে গালাগালি দিত। আনিস খান কাণ্ড থেকে শুরু করে কিছুদিন আগে পর্যন্ত বিভিন্ন ইস্যুতে রাজ্য সরকারের সমালোচনা করেছেন। সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী এবং তৃণমূলকে গালমন্দ করেছেন, তাকে তৃণমূল রাজ্য সম্পাদকের পদ দিলে সংখ্যালঘুদের মধ্যে তো ক্ষোভ তৈরি হবেই।"
একই সঙ্গে এও বললেন, "আমি কখনও সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয়নি। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাল কাজ করেছেন তাই তাকে সমর্থন করেছি।" স্বভাবতই, সংখ্যালঘুদের মুখ হিসেবে পরিচিত তহ্বার এদিনের প্রতিক্রিয়ায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি কাশেমকে 'পচা আলু'র সঙ্গে তুলনা করেছেন তৃণমূল বিধায়ক শওকত মোল্লা। এ ব্যাপারে শওকতের পাশেই দাঁড়িয়েছেন তহ্বা। তিনি বলেন, "শওকত মোল্লা অনেক দুঃখে কষ্টে এই ধরনের কথা বলছেন। কারণ, তৃণমূলের কর্মীরা ভাবছেন যারাই দলকে দলের নেতৃত্বকে গালাগাল দেবে তারাই দলের পদ পাবে। আমে দুধে মিশে যাবে আঁটি গড়াগড়ি খাবে!"
গত মার্চ মাসে ফুরফুরায় ইফতারে মজলিসে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই কাশেম সিদ্দিকিকে মুখ্যমন্ত্রীর কাছাকাছি দেখা গিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে পার্ক সার্কাসেও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করতে দেখা যায় তাকে। এরপর তৃণমূল তাঁকে রাজ্য সাধারণ সম্পাদকের পদও দিয়েছে। এতদিন এ ব্যাপারে চুপ ছিলেন তহ্বা। এবার কড়া প্রতিক্রিয়া জানালেন, যা রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। তবে এ ব্যাপারে শাসসকদল তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব বা কাশেমের কোনও প্রতিক্রিয়া জানা যায়নি। প্রতিক্রিয়া এলে প্রতিবেদনে আপডেট করা হবে।