রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সুকান্তপল্লি। এলাকার মহিলাদের এই উদ্যোগ সাড়া ফেলেছে আশেপাশে এলাকাতেও।

গ্রাফিক্স-শুভ্র শর্ভিন।
শেষ আপডেট: 20 June 2025 16:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাত বাড়লে বাড়ত মদ্যপদের উৎপাত। ভয়ে সন্ধ্যের পর বাড়ি থেকে বেরোতে ভয় পেতেন মহিলারা। এদিকে অনেকেই সকাল সন্ধ্যে পোষ্যকে প্রতিবেশীর বাড়ির সামনে নিয়ে গিয়ে শৌচকর্ম করাতেন! এ নিয়ে এলাকা যেমন নোংরা হত তেমনই নিত্য অশান্তি লেগেই থাকত!
উটকো ঝামেলা থানা অব্দি নিয়ে যেতে চাননি জয়তী সাহা, গোপা চক্রবর্তী, অনন্যা নন্দীরা। পরিবর্তে নিজেরাই বুদ্ধি খরচ করে সমস্যার সমাধান বের করে ফেলেছেন। মাস ফুরোলে প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে জমা হয় লক্ষ্মীর ভান্ডারের (money of Lakshmir Bhandar) টাকা। এলাকার মহিলারা সকলে মিলে মহিলা ব্রিগেড তৈরি করে ওই লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা থেকেই কিছু টাকা করে দিয়ে পুরো এলাকাকে মুড়ে ফেলেছেন সিসি ক্যামেরায় (women installed CCTV)।
নিট ফল রাতারাতি মদ্যপদের উৎপাত যেমন কমেছে তেমনই অন্যের বাড়ির সামনে পোষ্যকে নিয়ে গিয়ে শৌচকর্ম করানোর সাহসও পাচ্ছেন অনেকে! রাজপুর-সোনারপুর পুরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের সুকান্তপল্লি। এলাকার মহিলাদের এই উদ্যোগ সাড়া ফেলেছে আশেপাশে এলাকাতেও।
প্রধান রাস্তা থেকে অলি গলি, এলাকার বিভিন্ন জায়গায় বসানো হয়েছে ১২টি আধুনিক মানের সিসি ক্যামেরা। পাড়ারই একটি বাড়িতে করা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। সেখানে পালা করে চলে সিসিটিভি নজরদারি। এছাড়া নারী ব্রিগেডের প্রত্যেকের মোবাইলে রয়েছে সিসি ক্যামেরার লিঙ্ক। কেউ না কেউ সর্বদা চোখ রাখেন ফুটেজে।
এছাড়াও পাড়ায় প্রবেশের মুখে বড় বড় করে ফ্লেক্সে টাঙানো হয়েছে সতর্কবাণী, ‘আপনি সিসি ক্যামেরার নজরদারির আওতায় রয়েছেন।’ গোপা চক্রবর্তী, অনন্যা নন্দী, জয়তী সাহাদের কথায়, "আগে রাত বাড়লেই মদ্যপদের উৎপাত বাড়ত। তাছাড়া নানা ধরনের উটকো ঝামেলা লেগে থাকতো। এ সব ক্ষেত্রে থানায় গিয়েও বিশেষ সমস্যার সমাধান হয় না, তখনও সকলে মিলে এই ভাবনা। যা আদতে এলাকার শান্তি যেমন ফিরিয়েছে তেমন আগের চেয়ে আমরা অনেক বেশি সুরক্ষিতও।"