বিজেপি এই ঘটনায় কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। কাটোয়া সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্বের বক্তব্য, তৃণমূলের নিজেদের নেতাই যখন পুলিশের উপর ভরসা রাখতে পারছেন না, তখন সাধারণ মানুষ কী করে রাখবেন, সেটা বড় প্রশ্ন।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 24 July 2025 07:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজুয়ায় বিস্ফোরণের ঘটনায় (Rajua Blast) এনআইএ তদন্ত (NIA Probe) চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) মামলা করেছেন যুব তৃণমূলের পূর্ব বর্ধমান (Purba Burdwan) জেলা সহ-সভাপতি শুভেন্দু দাস। আর তাতেই প্রবল অস্বস্তি শাসক শিবিরে। বুধবার সন্ধেয় সাংবাদিক বৈঠক করে পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhisekh Banerjee) নির্দেশে শুভেন্দুকে আজীবনের জন্য বহিষ্কার (Expelled) করা হয়েছে দল থেকে। কারণ দলবিরোধী কাজ করেছেন তিনি।
ঘটনা গত ৪ জুলাই রাতের। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া থানার রাজুয়া গ্রামে একটি বাড়িতে বোমা বাঁধার সময় ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। ঘটনাস্থলেই প্রাণ যায় বরকত কারিগর নামে একজনের, যিনি বীরভূমের নানুর থানা এলাকার বাসিন্দা। গুরুতর জখম হন স্থানীয় তুফান চৌধুরী সহ আরও তিনজন। তুফানকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, বাকি দুই অভিযুক্ত পলাতক। পরে মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
তদন্তে উঠে এসেছে, বড়সড় নাশকতার ছক কষছিল তুফান। বালিঘাটের দখল নেওয়া এবং তৃণমূলের এক শীর্ষ নেতার ঘনিষ্ঠ কর্মীদের টার্গেট করে ছিল তারা। রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায় বিস্ফোরণের পরে অভিযোগ করেছিলেন, দুষ্কৃতীরা তাঁর উপর হামলার ছক কষেছিল। তিনি আক্রান্ত হতে পারতেন।
এই পরিস্থিতিতে শুভেন্দু দাস কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেন এনআইএ তদন্তের দাবিতে। তাঁর বক্তব্য, ‘‘যেখানে বিধায়ক নিজেই বলেছেন তাঁকে খুনের ছক ছিল, সেখানে পুলিশকে দায়িত্ব দিয়ে নিশ্চিন্ত থাকা যায় না। আমি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার স্বার্থেই মামলা করেছি।’’ কিন্তু তাঁর নিজের দলই বিষয়টি ভাল চোখে দেখেনি।
রবীন্দ্রনাথের কথায়, ‘‘উনি কেন মামলা করলেন জানি না, আমি দলকে জানিয়েছিলাম তারপরই দল তাঁকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।'' বিজেপি এই ঘটনায় কটাক্ষ করতে ছাড়েনি। কাটোয়া সাংগঠনিক জেলা নেতৃত্বের বক্তব্য, তৃণমূলের নিজেদের নেতাই যখন পুলিশের উপর ভরসা রাখতে পারছেন না, তখন সাধারণ মানুষ কী করে রাখবেন, সেটা বড় প্রশ্ন। এই ঘটনা আবার প্রমাণ করে দিল, পুলিশ শুধু মুখ্যমন্ত্রীকে খুশি করতে কাজ করছে।
এদিকে বিস্ফোরণকাণ্ডে মূল অভিযুক্ত তুফান চৌধুরীকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে বড়সড় উদ্ধার করল পুলিশ। তার বাড়ি থেকে মিলেছে দুটি দেশি পাইপগান, তিন রাউন্ড গুলি এবং প্রায় ২ কেজি বোমার মশলা। কাটোয়া আদালতে তুলে তাকে ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।