বিএলও-দের উপর অতিরিক্ত চাপের ইস্যুতেও দুই পক্ষের বক্তব্যে বিস্তর ফারাক। তৃণমূল বলছে, অমানবিক কাজের চাপে বিএলও-দের মৃত্যু পর্যন্ত হচ্ছে। অন্যদিকে কমিশন সূত্রের দাবি, কেন্দ্র অতিরিক্ত ভাতা বরাদ্দের নির্দেশ দিলেও রাজ্য সেই অর্থ ছাড়েনি।

ডেরেক ও ব্রায়েন এবং জ্ঞানেশ কুমার
শেষ আপডেট: 29 November 2025 19:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলার এসআইআর (SIR in West Bengal) প্রক্রিয়া নিয়ে নানা অভিযোগ তৃণমূল কংগ্রেসের (TMC)। সেই ইস্যুতে শুক্রবার দেশের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (Election commission of India) জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করেছিল দলের ১০ সদস্যদের প্রতিনিধিরা। বৈঠক শেষে বেরিয়ে অবশ্য ক্ষোভই উগরে দিয়েছিলেন তাঁরা। অভিযোগ ছিল, এসআইআর আবহে বিএলও-দের মৃত্যুর (BLO Death) জন্য কমিশন দায়ী। জ্ঞানেশ কুমারের হাতে রক্ত লেগে আছে! শনিবার আবার সাংবাদিক বৈঠক করে কমিশনের কাছে বড় দাবি করেছেন তৃণমূল।
তাদের সঙ্গে হওয়া ৫৫ মিনিটের বৈঠকের পূর্ণ প্রতিলিপি প্রকাশ (Transcript) করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে (ECI)! এমনই দাবি তৃণমূলের। তাঁদের বক্তব্য, বৈঠকে কমিশনকে যে পাঁচটি প্রশ্ন করা হয়েছিল, তার একটিরও সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেনি। উপরন্তু, বৈঠকের পর কমিশন ছড়িয়েছে যে, তৃণমূল বিএলও-দের চাপ সৃষ্টি করছে! এই নিয়েও কটাক্ষ করেছে শাসক দলের।
এই বৈঠকের আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisekh Banerjee) লাইভ স্ট্রিম-এর (Live Stream) দাবি তুলেছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই সেই দাবি মানেনি কমিশন। তবে বৈঠকের পর শুক্রবার রাতে অভিষেক প্রশ্ন তোলেন, “কমিশনের যদি গোপন করার কিছু না-থাকে, তবে বৈঠকের সিসিটিভি ফুটেজ (CCTV Footage) প্রকাশ করা যাবে না কেন?” শনিবার সেই অবস্থান আরও জোরালো হল বৈঠকের কথোপকথনের প্রতিলিপি প্রকাশের দাবিতে।
বিএলও-দের (BLO) উপর অতিরিক্ত চাপের ইস্যুতেও দুই পক্ষের বক্তব্যে বিস্তর ফারাক। তৃণমূল বলছে, অমানবিক কাজের চাপে বিএলও-দের মৃত্যু পর্যন্ত হচ্ছে। অন্যদিকে কমিশন সূত্রের দাবি, কেন্দ্র অতিরিক্ত ভাতা বরাদ্দের নির্দেশ দিলেও রাজ্য সেই অর্থ ছাড়েনি। তৃণমূলের এমনও অভিযোগ, যখন এসআইআর (SIR) নিয়ে মৃতদের নাম পড়ে শোনানো হচ্ছিল তখন কমিশনের এক কর্তা নাকি হাসছিলেন। সব মিলিয়ে দুই পক্ষের বৈঠকের পরই পরিস্থিতি জটিল আকারই নিয়ে আছে।
প্রসঙ্গত, ডেরেক ও ব্রায়েন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, মহুয়া মৈত্র, শতাব্দী রায় সহ ১০ জন দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনে যান। বৈঠকের তথ্য তুলে ধরে তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের তরফে জানানো হয়েছিল, এসআইআর ঘোষণা হওয়ার পর থেকে পাহাড় প্রমাণ কাজের চাপে এবং আতঙ্কে এখনও পর্যন্ত ৪০ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে ৩৫ জন সাধারণ মানুষ এবং পাঁচজন বুথ লেবেল অফিসার (বিএলও)। একাধিক বিএলও কাজের চাপে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তারপরও তাঁদের রাজ্যের সিইও অফিসের তরফে কাজ করার জন্য মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে, চাকরি খেয়ে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে কমিশনের কাছে অভিযোগ জানান তৃণমূলের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
কমিশনের কাছে তাঁরা এই অভিযোগও করেন যে নির্বাচন কমিশনের মতো স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত একটি সংস্থা কেন নিজেদের মতো কাজ না করে বিজেপির কথা মতো চলছে? এ ব্যাপারে বৈঠকে একাধিক তথ্য তুলে ধরে কল্যাণ, মহুয়ারা জ্ঞানেশ কুমারকে বলেন, "বিজেপির নেতারা আগের দিন যে কথা বলছেন, পরের দিন সেই একই কথা বলতে দেখা যাচ্ছে কমিশনকে। এর দ্বারা কী প্রমাণিত হয়?"
সম্প্রতি বাংলায় কথা বললেই বাংলাদেশি তকমা দিয়ে বাংলার পরিযায়ী শ্রমিকদের ভিন রাজ্যে অত্যাচার করার একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছিল। ওই ঘটনার সঙ্গে এসআইআর এর যোগসূত্র নিয়েও কমিশনের কাছে জানতে চান তৃণমূলের প্রতিনিধিরা।