কমিশনে গিয়েছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, সাগরিকা ঘোষ, মেনকা গুরুস্বামী এবং সদ্য প্রাক্তন সাংসদ সাকেত গোখলে। তৃণমূল প্রতিনিধিদের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় যে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ গিয়েছে, তা নিয়ে তথ্য ও যুক্তি পেশ করতে চাইলেও কমিশন তা শুনতে চায়নি।

কমিশনে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল
শেষ আপডেট: 8 April 2026 11:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal Assembly Election 2026) ভোটার তালিকা (West Bengal SIR Final Voter List) থেকে প্রায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ যাওয়া নিয়ে এবার জাতীয় রাজধানীতে নজিরবিহীন সংঘাতের সাক্ষী থাকল রাজনৈতিক মহল। বুধবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন তৃণমূলের চার সদস্যের এক প্রতিনিধি দল (TMC Delegation)। কিন্তু বৈঠক চলাকালীনই নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার এবং কথা না বলে বের করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলল ঘাসফুল শিবির।
এদিন কমিশনে গিয়েছিলেন ডেরেক ও’ব্রায়েন, সাগরিকা ঘোষ, মেনকা গুরুস্বামী এবং সদ্য প্রাক্তন সাংসদ সাকেত গোখলে। তৃণমূল প্রতিনিধিদের অভিযোগ, ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় যে বিপুল সংখ্যক নাম বাদ গিয়েছে, তা নিয়ে তথ্য ও যুক্তি পেশ করতে চাইলেও কমিশন তা শুনতে চায়নি। ডেরেক ও’ব্রায়েন বিস্ফোরক দাবি করেছেন যে, নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার তাঁদের সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করেছেন এবং একপ্রকার বের করে দিয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার গভীর রাতে কমিশনের প্রকাশিত তথ্যকে কেন্দ্র করে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত তালিকায় প্রায় ৬৬ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ গিয়েছিল। তখনও জানানো হয়েছিল, প্রায় ৬০ লক্ষ ৬ হাজার নাম বিবেচনাধীন বা ‘অ্যাডজুডিকেশন’ পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু ইতিমধ্যে জানা গিয়েছে, সেই ৬০ লক্ষের মধ্যে থেকেও ২৭ লক্ষ ১৬ হাজার ৩৯৩ জনকে ‘অযোগ্য’ ঘোষণা করে তালিকা থেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে। মাত্র ৩২ লক্ষ ৬৮ হাজার ১১৯ জন শেষ পর্যন্ত তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন। সব মিলিয়ে বাংলায় ৯১ লক্ষ নাম বাদ যাওয়ায় ছাড়িয়ে যাওয়ায় ক্ষোভে ফেটে পড়েছে শাসক দল।
তৃণমূলের দাবি, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিচারবিভাগীয় অফিসারদের মাধ্যমে যে তথ্য যাচাইয়ের কাজ হয়েছে, সেখানেও চূড়ান্ত অস্বচ্ছতা রয়েছে। বৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার পিছনে বিজেপি এবং কমিশনের ‘যৌথ ষড়যন্ত্র’ দেখছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল। তবে জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ এই প্রথম নয়। এর আগে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেছিলেন, কমিশনার তাঁর দিকে আঙুল উঁচিয়ে কথা বলেছেন। বিদায়ী মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যও দাবি করেছিলেন, তাঁর ওপর রীতিমতো চিৎকার করেছেন জ্ঞানেশ কুমার। এমনকি খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কমিশনকে ‘অহঙ্কারী’ বলে আখ্যা দিয়ে বৈঠক বয়কট করে বেরিয়ে এসেছিলেন।
তৃণমূল নেতৃত্বের সাফ কথা, রাজ্যের ভোটার তালিকায় বড়সড় কারচুপি করে গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। অথচ নির্বাচন কমিশনাররা কোনও যৌক্তিক ব্যাখ্যা দিচ্ছেন না। উল্টে তাঁদের প্রতি ক্ষমতার আস্ফালন দেখানো হচ্ছে। দিল্লির এই ঘটনার পর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে কমিশন বনাম তৃণমূল সংঘাত যে চরমে পৌঁছল, তা বলাই বাহুল্য।