শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে কসবার ঘটনা নিয়ে তৃণমূল আগেই বলেছিল, ১২ ঘণ্টার মধ্যে অ্যাকশন নিয়েছে পুলিশ। এও দাবি করা হয়েছে, পুরনো ছবি ছড়িয়ে দিয়ে বদনাম করার চেষ্টা করছে বিরোধী দলগুলি।

কুণাল ঘোষ এবং চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য
শেষ আপডেট: 28 June 2025 16:34
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কসবা কলেজের গণধর্ষণের (Kasba Law College Incident) ঘটনা নিয়ে তোলপাড় রাজ্য। মূল অভিযুক্ত হিসেবে তৃণমূল যুবনেতা মনোজিৎ মিশ্র নাম উঠে আসায় আরও বিতর্ক বেড়েছে। সেই নেতার সঙ্গে আবার তৃণমূলের শীর্ষ একাধিক নেতার ছবি প্রকাশ্যে এসেছে। বিরোধী শিবির যখন বিষয়টি নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু করেছে সেই সময়ে বিজেপির এক যুবনেতার 'কীর্তি' দেখাল তৃণমূল (TMC)।
শনিবার সাংবাদিক বৈঠক করে একটি ভিডিও ফুটেজ দেখায় তৃণমূল কংগ্রেস। কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh) দাবি করেন, মেদিনীপুর শহরের ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সোমনাথ সাউ (Somnath Sahu), যিনি বিজেপির যুবনেতা, তিনি এক জায়গায় ডাকাতি করতে গিয়ে ধরা পড়েন! তাঁর সঙ্গে নাকি রাজ্যের বিজেপি সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের (Sukanta Majumder) ছবি রয়েছে। এই প্রসঙ্গেই তিনি প্রশ্ন তোলেন, তাহলে কি ওই যুবনেতার থেকে ডাকাতির শেয়ার পেয়েছিল বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব?
কুণাল জানান, সোমনাথ বিজেপির এক কমিটির সম্পাদক পদে রয়েছেন। তাঁর স্ত্রী গত পুরসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রার্থী হয়ে মেদিনীপুর শহরের ১ নম্বর ওয়ার্ডে লড়েছিলেন। আর সোমনাথ ওড়িশা সীমান্তের এক সোনার দোকানে ডাকাতি করতে গিয়ে ধরা পড়েছিলেন। এও বলেন, সিসিটিভিতে তার প্রমাণ রয়েছে। সেই ফুটেজ দেখানোর পর বিজেপির সুকান্ত মজুমদার, হিরণ এবং ইন্দ্রনীল খাঁয়ের সঙ্গে সোমনাথের ছবিও দেখান তিনি।
তৃণমূলের স্পষ্ট কথা, সোমনাথ সাউ ডাকাতি করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন, তাহলে কি তাঁর সঙ্গে সুকান্তদের যোগসূত্র রয়েছে? ডাকাতির কোনও শেয়ার কি তাঁরা পেয়েছেন? অন্তত ছবি দেখে তো এইসব প্রশ্ন উঠতেই পারে। যদি এমনটা না হয়, তাহলে কসবা কাণ্ডের ক্ষেত্রেও যেভাবে তৃণমূলের নাম জড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে তা সঠিক নয়।
শুক্রবার সাংবাদিক বৈঠকে কসবার ঘটনা নিয়ে তৃণমূল আগেই বলেছিল, ১২ ঘণ্টার মধ্যে অ্যাকশন নিয়েছে পুলিশ। এও দাবি করা হয়েছে, পুরনো ছবি ছড়িয়ে দিয়ে বদনাম করার চেষ্টা করছে বিরোধী দলগুলি। রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার (Shashi Panja) বক্তব্য, গোটা দেশে এমন নানা দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে। কেউ কেউ এটাকে সংস্কারি বলে। কিন্তু অন্যান্য রাজ্যের মতো বাংলায় কোনও ধর্ষককে মালা পরিয়ে, ফুল-মিষ্টি দিয়ে সংবর্ধনা জানানো হয় না। কোন রাজ্যে করা হয়, কোন রাজনৈতিক দল করে, তা সকলেই জানেন।
কসবার ঘটনার তীব্র নিন্দা করে শশী এও বলেন, নির্যাতিতা তরুণীকে সমবেদনা জানানোর ভাষা নেই। তবে দোষ প্রমাণ হলে কড়া শাস্তি যাতে দেওয়া হয় সেই দাবি রাখছেন তারা।