আরজি করের ঘটনায় সারা রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ হয়েছিল। দেশ তথা বিদেশেও তার রেশ ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু সেই ঘটনার ১০ মাসের মাথায় আবার কলেজের মধ্যেই গণধর্ষণের ঘটনা একই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে - নারী নিরাপত্তা কোথায়?

শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 28 June 2025 11:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কসবা ল কলেজের (Kasba Law College) গণধর্ষণের ঘটনায় রাজ্যে আবার আরজি কর কাণ্ডের স্মৃতি ফিরে এসেছে। সেই নৃশংস ঘটনার ১০ মাসের মাথায় কলেজের মধ্যেই এক ছাত্রীর ধর্ষণের ঘটনা তোলপাড় ফেলেছে স্বাভাবিকভাবে। এই ঘটনায় আবার মূল অভিযুক্ত হিসেবে গ্রেফতার হয়েছেন তৃণমূল নেতা সহ ৩ জন (TMC)। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) আগেই অভিযোগ করেছেন যে, তৃণমূল কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠনের নেতারা শিক্ষাঙ্গনকে কলুষিত করছে। এবার তিনি দাবি করলেন, রাজ্যের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়ন্ত্রণই করছে সমাজবিরোধীরা।
রাজ্যের বেশিরভাগ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি খুবই সঙ্গীন বলে দাবি করেছেন বিজেপি বিধায়ক। শুভেন্দুর কথায়, ''কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণ করছে তৃণমূলের গুন্ডারা, তোলাবাজরা, ধর্ষকরা। তাদের বয়স ৩০ থেকে ৫০ বা তার বেশি। সবাই বিবাহিত। এরা এই জায়গাগুলি আখড়ায় পরিণত করেছে এবং বেশিরভাগ কলেজে গভর্নিং বডির প্রেসিডেন্ট। এরা আদতে ভাইপো গ্যাংয়ের লোক।'' রাজনৈতিক মহল মনে করছে, নাম না করে তিনি আদতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন।
আরজি করের ঘটনায় সারা রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ হয়েছিল। দেশ তথা বিদেশেও তার রেশ ছড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু সেই ঘটনার ১০ মাসের মাথায় আবার কলেজের মধ্যেই গণধর্ষণের ঘটনা একই প্রশ্ন তুলে দিয়েছে - নারী নিরাপত্তা কোথায়? শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্টত মনে করছেন, মূল কাজটা না করলে এই পরিস্থিতির বদল ঘটবে না। তাঁর সাফ কথা, ''এর প্রতিকার একটাই, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাতে হবে। নাহলে যা চলছে তা চলতেই থাকবে, কোনও দিনই থামবে না। তিনদিনের মিছিল, পাঁচটা টক-শো করে কোনও লাভ হবে না।''
এই প্রেক্ষিতে আরও একটি প্রশ্ন থেকে যায় - কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়গুলির এমন অবস্থা নিয়ে অধ্যক্ষ বা শীর্ষস্থানীয়রা কিছু বলেন না কেন। বিজেপি বিধায়ক এই পরিপ্রেক্ষিতে বলছেন, ''অধিকাংশ জায়গায় অধ্যক্ষরা চাপে এবং ভয়ে থাকে। আর অনেক জায়গায় এমন লোক পদে আছে যার যোগ্যতাই নেই অধ্যক্ষ হওয়ার।'' শাসক শিবির তথা রাজ্য সরকারকে নিশানা করে তিনি এও বলেন, ''বিকাশ ভবন থেকে কেউ নিয়োগ পান না, তৃণমূল ভবন থেকে শিক্ষা দফতর নিয়ন্ত্রিত হয়, ক্যামাক স্ট্রিট থেকে তালিকা আসে। সেই তালিকা খতিয়ে দেখলে বোঝা যাবে কলেজগুলিতে চিটিংবাজ, তোলাবাজ, ধর্ষক, জঙ্গি, জেহাদিরা বসে আছে।''
কসবা কাণ্ডের মূল অভিযুক্ত মনোজিৎ মিশ্র কলেজের প্রাক্তন ছাত্র। বর্তমানে আলিপুর আদালতে ল' প্র্যাকটিস করেছিলেন। তার সঙ্গে আরও যে ২ জন গ্রেফতার হয়েছেন তাদের নাম জইব আহমেদ এবং প্রমিত মুখোপাধ্যায়। আগামী ১ জুলাই পর্যন্ত পুলিশি হেফাজতে থাকবেন তারা।