পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এদিনই সিজিও কমপ্লেক্সে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে তলব করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তবে মনোনয়ন প্রক্রিয়ার ব্যস্ততার কারণে তিনি এখন হাজিরা দিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন। ১৫ তারিখের পর তিনি যাবেন বলেও জানান।

সুজিত বসু
শেষ আপডেট: 6 April 2026 19:49
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্য বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) আবহে জোরদার শক্তিপ্রদর্শন করে রোড শো শেষে মনোনয়ন জমা দিলেন বিধাননগরের তৃণমূল প্রার্থী সুজিত বসু (Sujit Bose)। সোমবার সল্টলেকের প্রশাসনিক ভবনে পৌঁছে মনোনয়ন জমা দেন তিনি। তাঁর মনোনয়ন ঘিরে বিপুল জনসমাগমও চোখে পড়ে।
এই আবহেই কেন্দ্রীয় সংস্থার তলব প্রসঙ্গে ক্ষোভ উগরে দেন সুজিত বসু। তাঁর অভিযোগ, যে মামলায় তাঁকে ডাকা হচ্ছে, সেই মামলায় ইতিমধ্যেই সিবিআই চার্জশিট জমা দিয়েছে এবং সেখানে তাঁর নাম নেই। ভোটের ঠিক আগে তাঁকে হেনস্থা করার চেষ্টা চলছে বলেই দাবি তাঁর। তাঁর কথায়, “নির্বাচনে মোকাবিলা করতে না পেরে অন্যভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে।”
প্রসঙ্গত, পুর নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এদিনই সিজিও কমপ্লেক্সে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে তলব করেছিল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। তবে মনোনয়ন প্রক্রিয়ার ব্যস্ততার কারণে তিনি এখন হাজিরা দিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন। ১৫ তারিখের পর তিনি যাবেন বলেও জানান।
এই নিয়ে সুজিত বসুর বক্তব্য, “যে কেসে তলব করছে, সেই কেসে আগেই সিবিআই চার্জশিট দিয়েছে। সেখানে আমার নাম নেই। এগুলি সম্পূর্ণ হেনস্থা, প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ।” একই সঙ্গে রোড শোতে জনসমাগমের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “এই ভিড়ই আমার আসল শক্তি, এটাই আমার প্রাপ্তি।”
নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তৎপরতা এবং তা নিয়ে রাজনৈতিক তরজার মধ্যেই এই ঘটনা নতুন করে বিতর্ক উস্কে দিল বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
গত ৩ এপ্রিল জমি দখল সংক্রান্ত মামলায় রাসবিহারী কেন্দ্রের বিদায়ী বিধায়ক এবং তৃণমূল প্রার্থী দেবাশিস কুমারকে আবারও তলব করেছিল ইডি (ED)। শুক্রবার সকালে তিনি নির্দিষ্ট সময়েই হাজিরা দেন সিজিও কমপ্লেক্সে। সেদিনই দুই বিদায়ী মন্ত্রী তথা তৃণমূল প্রার্থী সুজিত বসু ও রথীন ঘোষকেও পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় তলব করে তাঁরা।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের অন্দরে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠছে, কেন একের পর এক তৃণমূলের প্রার্থীদেরই তলব করা হচ্ছে। ভোটের আগে রাজ্যজুড়ে বেআইনি অর্থ উদ্ধারে ইডি সক্রিয় হয়েছে ঠিকই, বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে বিপুল নগদ উদ্ধারও হয়েছে। কিন্তু সেই অভিযানের পাশাপাশি নির্দিষ্টভাবে শাসকদলের প্রার্থীদেরই কেন ডাকা হচ্ছে, তা নিয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।