
শেষ আপডেট: 23 March 2024 20:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কথায় বলে জমে দই হয়ে গেছে। কিন্তু দই থেকে তরজা জমে যাওয়ার ঘটনা বিরল। তবে কী, রাজনীতিতে সবই সম্ভব!
শনিবার সিঙ্গুরে প্রচারে বেরিয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগে থেকেই ঠিক ছিল, বেড়াবেড়িতে দিন মজুর মানিক বাগের বাড়িতে দুপুরের খাওয়াদাওয়া হবে। মাটির বাড়ি। টালির চাল। তার দাওয়ায় বাবু হয়ে খেতে বসেন রচনা। মেনুতে ছিল,ভাত,বড়ি ভাজা,পটল ভাজা,শুক্তো, ডাল,বেগুনি, আলু পোস্ত, চাটনি আর শেষ পাতে টক দই।
রচনা এমনিতে কথায় কথায় হাসেন। দিদি নাম্বার ওয়ানের শো করে হয়তো এমন অভ্যাস। সিঙ্গুরের দই খেয়ে এত আপ্লুত হয়ে পড়েন যে গুণগান শুরু করে দেন। বলেন, "এত ভালো দই এখানে। আমিতো ভাবছি ব্যাগে করে দই নিয়ে যাব। যতবার আসব, ততবার দই নিয়ে যাব। কলকাতায় টক বলে যা দেয় সেটা দই নয়”।
এ পর্যন্ত ঠিক ছিল। এর পরই সিঙ্গুরের দইয়ের মহিমার নিজের মতো কারণ খুঁজে বের করেন রচনা। তিনি বলেন, “সিঙ্গুরে এত ঘাস, এত গাছপালা, সেগুলো গরু খাচ্ছে। খেয়ে হৃষ্টপুষ্ট হচ্ছে। ফলে যে দুধটা বেরোচ্ছে তা এত ভালো, দইটাও তাই এত ভালো।"
রচনার এই কথাই লুফে নেন স্থানীয় বিজেপি সাংসদ ও এবারের প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায়। লকেট বলেন, “একদম সত্যি কথা বলেছেন রচনা, আমি ওঁকে ধন্যবাদ জানাব। সিঙ্গুরে তো গরুই চড়ছে। ঘাস পাতাই হচ্ছে। শিল্প তো আর হল না? সেই যে ওঁরা টাটাকে তাড়ালেন তার পর থেকে ঘাস ছাড়া আর কী আছে?” লকেটের কথায়, উনি শুধু এই প্রশ্নের জবাব দিন, সিঙ্গুরে কেন শিল্প হল না, কেন শুধু ঘাসই হচ্ছে!
লকেট আরও বলেন, “শুধু দই খেতে ওঁকে সিঙ্গুরে আসতে হবে না। আমি ওঁর বাড়িতে না হয় দই পাঠিয়ে দেব। জেতার পর আমি নিজে হাতে করে ওনার জন্য দই নিয়ে যাব।
বেড়াবেড়িতে মধ্যাহ্নভোজে গিয়ে রচনা আবাস যোজনা কথা তুলেছিলেন। বলেছিলেন, “আমি খুব আনন্দ করে খেলাম। ভালো লাগল। মাটির বাড়ি খুব ঠান্ডা হয়। কিন্তু যারা এখানে থাকে তাদের জন্য কষ্ট পেলাম। আবাসন যোজনার টাকা যে বন্ধ করে দিয়েছে কেন্দ্র সরকার”।
সবটা শুনে লকেট বলেন, আবাসন বলে কোনও যোজনা নেই। ওটা আবাস যোজনা। দেশে ১২ কোটির বেশি বাড়ি হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু যারা পাওয়ার কথা তারা পায়নি। কারা পেয়েছে? ওখানকারই পঞ্চায়েতের প্রধান উপপ্রধানরা পেয়েছে তাদের বাড়ি দেখে আসুন সব তিনতলা চারতলা বাড়ি কারও মাটির বাড়ি নেই।"