২০২১ সালের তুলনায় ২০২৬-এ এসে জাকিরের অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২৭ কোটি থেকে লাফিয়ে পৌঁছেছে প্রায় ৪৫ কোটি টাকায়। তবে সবথেকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে তাঁর স্থাবর সম্পত্তিতে।

জাকির হোসেন
শেষ আপডেট: 7 April 2026 13:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) রাজনীতির ময়দানে তিনি কেবল এক জন জনপ্রতিনিধি নন, বরং বিড়ি শিল্পের একচ্ছত্র অধিপতি। জঙ্গিপুরের বিদায়ী বিধায়ক তথা তৃণমূল প্রার্থী (Jangipur TMC Candidate) জাকির হোসেনের (Jakir Hossain) পেশাগত পরিচয় বরাবরই ছক ভাঙা। তবে সাম্প্রতিক নির্বাচনী (West Bengal Assembly Election 2026) হলফনামায় তাঁর সম্পত্তির যে খতিয়ান সামনে এসেছে, তা এক কথায় চোখ কপালে তোলার মতো। বিগত পাঁচ বছরে এক দিকে যেমন গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গিয়েছে, তেমনই জাকির ও তাঁর অর্ধাঙ্গিনীর সম্পত্তির গ্রাফটিও চড়চড় করে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে।
২০২১ সালের তুলনায় ২০২৬-এ এসে জাকিরের অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ২৭ কোটি থেকে লাফিয়ে পৌঁছেছে প্রায় ৪৫ কোটি টাকায়। তবে সবথেকে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটেছে তাঁর স্থাবর সম্পত্তিতে। প্রায় ১৫ কোটির স্থাবর সম্পত্তি বর্তমানে ৪৬ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। পিছিয়ে নেই তাঁর সহধর্মিণীও; স্বামীর ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি তাঁর নিজের নামেও রয়েছে প্রায় ২৬ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ। রাজরাহাট থেকে বহরমপুর— আবাসন এবং জমির পাট্টায় এই দম্পতির আধিপত্য জেলায় রীতিমতো চর্চার বিষয়।
হিসেবের খাতা বলছে, জাকিরের মালিকানায় রয়েছে ৯৯টি চাষজমি এবং ৩৫টি অকৃষিজমি। এছাড়া বাণিজ্যিক ভবন এবং ফ্ল্যাটের সংখ্যাও নেহাৎ কম নয়। কোটি কোটি টাকার ইকুইটি শেয়ার, ডজনখানেক বিমা পলিসি এবং ২৮ লক্ষ টাকার বেশি মূল্যের সোনার কয়েন— সব মিলিয়ে তাঁর বৈভব যে কোনও কর্পোরেট সংস্থাকে টেক্কা দিতে পারে। মজার বিষয় হল, কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়া সত্ত্বেও নিজের বা স্ত্রীর নামে কোনও ব্যক্তিগত চারচাকা গাড়ি নেই। অর্থাৎ, বিলাসিতার চেয়ে বিনিয়োগেই হয়তো বেশি আগ্রহী এই ব্যবসায়ী-বিধায়ক।
জাকিরের রাজনৈতিক জীবন অবশ্য কণ্টকহীন নয়। নিমতিতা স্টেশনের সেই ভয়াবহ স্মৃতি এখনও জনমানসে টাটকা। সম্ভবত সেই কারণেই নিজের সুরক্ষায় একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত আগ্নেয়াস্ত্র আগলে রাখেন তিনি। তবে তাঁর হলফনামার পরিচ্ছন্ন দিকটি হল কোনও ফৌজদারি মামলা বা এফআইআর-এর কালি তাঁর গায়ে লাগেনি। ২০০৯ সালে মাধ্যমিক পাশ করা এই রাজনীতিক নিজেকে কেবল ব্যবসায়ী নন, সমাজকর্মী হিসেবেও পরিচয় দিতে পছন্দ করেন।
বিগত পাঁচ বছরের বার্ষিক আয়ের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, ২০২০-২১ সালে যেখানে তাঁর আয় ছিল ৬ কোটির সামান্য বেশি, তা ২০২৩-২৪ সালে প্রায় ১০ কোটির দোরগোড়ায় পৌঁছে গিয়েছিল। যদিও সর্বশেষ অর্থবর্ষে সেই অঙ্ক কিছুটা কমে ৫.৭৬ কোটিতে দাঁড়িয়েছে।