ঘটনার সূত্রপাত, দুপুরের দিকে পর্ণশ্রী এয়ারপোর্ট সংলগ্ন এলাকায়। শাসক দলের প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের সমর্থনে কিছু কর্মী পোস্টার লাগাতে গেলে সেখানে উপস্থিত বিরোধী দলের সমর্থকরা আপত্তি জানান বলে অভিযোগ। সেই বাধা ঘিরেই শুরু হয় উত্তেজনা।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 5 April 2026 19:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Election 2026) আবহে দক্ষিণ কলকাতার বেহালার পর্ণশ্রী এলাকায় (Behala Paschim TMC BJP Clash) রবিবার দুপুরে উত্তেজনা চরমে ওঠে। পোস্টার টাঙানোকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া বচসা মুহূর্তে রূপ নেয় সংঘর্ষে। একদিকে শাসক দল তৃণমূল কর্মীদের অভিযোগ, তাঁদের পোস্টার লাগাতে বাধা দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিরোধী শিবির বিজেপির দাবি, তাঁদের কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়েছে। এই নিয়েই পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে।
ঘটনার সূত্রপাত, দুপুরের দিকে পর্ণশ্রী এয়ারপোর্ট সংলগ্ন এলাকায়। শাসক দলের প্রার্থী রত্না চট্টোপাধ্যায়ের (Ratna Chatterjee) সমর্থনে কিছু কর্মী পোস্টার লাগাতে গেলে সেখানে উপস্থিত বিরোধী দলের সমর্থকরা আপত্তি জানান বলে অভিযোগ। সেই বাধা ঘিরেই শুরু হয় উত্তেজনা। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ, এরপরই বিরোধী দলের কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয়। একই সঙ্গে পোস্টার ছেঁড়ার ঘটনাও সামনে আসে।
এই ঘটনার পরই পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পুলিশ। তবে উত্তেজনা থামেনি। পরে বিজেপির প্রার্থী ইন্দ্রনীল খাঁ (Indranil Khan) নিজে থানায় পৌঁছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, পুরো ঘটনাটি পরিকল্পিত এবং তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী তৃণমূল প্রার্থীর নেতৃত্বেই হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর দাবি, পুলিশের উপস্থিতিতেই এই হামলা হয়েছে, যা নিয়ে তিনি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, শাসক দলের প্রার্থী থানায় পৌঁছনোর পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দুই পক্ষের কর্মী-সমর্থকেরা মুখোমুখি অবস্থানে চলে আসে। স্লোগান, প্রতিবাদ - সব মিলিয়ে মুহূর্তে এলাকায় ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশকে মানবশৃঙ্খল তৈরি করে ভিড় নিয়ন্ত্রণে আনতে হয়।
ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে থানায় জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। সেই ফুটেজ খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। ঠিক কীভাবে ঘটনা শুরু হল এবং কারা ভাঙচুরে জড়িত ছিল, তা নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে পোস্টার ঘিরে সংঘর্ষের এই ছবি স্পষ্ট করে দিচ্ছে, নির্বাচনের ময়দান যত এগোচ্ছে, ততই বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ এবং সংঘাতের সম্ভাবনা।