নজরে উত্তর দিনাজপুরের নবনিযুক্ত জেলা শাসক। শাসকদলের দাবি, নির্বাচনের প্রাক্কালে গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকদের বদলে 'দলদাস'দের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কুণাল ঘোষ
শেষ আপডেট: 29 March 2026 19:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের একবার পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ কমিশনের বিরুদ্ধে। এবার নজরে উত্তর দিনাজপুরের নবনিযুক্ত জেলা শাসক। জেডিইউ (JDU) নেতার ছেলে অর্থাৎ পারিবারিকভাবে বিজেপি (BJP) ঘনিষ্ঠ আধিকারিককে গুরুত্বপূর্ণ এক জেলার দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে রাজ্যের শাসকদল। রবিবার সাংবাদিক সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেছেন তৃণমূল নেতা এবং বেলেঘাটার প্রার্থী কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। তার দাবি, নির্বাচনের প্রাক্কালে গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিকদের বদলে 'দলদাস'দের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) মুখে আবার প্রশাসনিক স্তরে রদবদল করল জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। রাজ্য জুড়ে ৮৩ জন বিডিও (BDO) এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসারকে (ARO) বদলি করেছে কমিশন। রবিবার নবান্নকে পাঠানো এক চিঠিতে এই কথা জানিয়েছে কমিশন। এই বদলির নির্দেশেই নাম ছিল বিবেক কুমার সিং-এর। তাকে উত্তর দিনাজপুরের জেলা শাসকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এরপরেই আসরে নামে তৃণমূল কংগ্রেস।
সাংবাদিক সম্মেলন করে তাঁদের তরফে অভিযোগ করা হয়, এই বিবেক কুমার সিং-এর পারিবারিক পরিচয় নিয়ে। জানা গিয়েছে বিবেক কুমারের বাবা বীরেন্দ্র কুমার সিং বিহারে এনডিএ-র জোট সঙ্গি জেডিইউ-এর নেতা। নিতিশের দলের এই নেতা একসময় ঔরঙ্গাবাদের সাংসদ ছিলেন। নবিনগরের বিধায়কও তিনি। নিতিশ কুমারের সঙ্গে বীরেন্দ্রর ছবিও জনসমক্ষে নিয়ে এসেছে তৃণমূল।
কূনাল ঘোষ অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের আগে ঢালাও রদবদল করছে নিরবাচন কমিশন। তাঁর দাবি, অলিখিত জরুরি অবস্থা জারি করে নির্বাচনে যেতে চাইছে কমিশন। বাংলায় যারা কাজ করছেন তাঁদের সরিয়ে বাইরে থেকে লোক এনে বসিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই আধিকারিকদের বিজেপি ক্যাডার এবং পক্ষপাত দুষ্ট বলে দাবি করেছেন তিনি। কুণাল ঘোষ বলেন, বাংলার নিরপেক্ষ অফিসারদের সরিয়ে বাইরে থেকে বিজেপির দলদাসদের বসানো হচ্ছে।
কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, পারিবারিকভাবে বিজেপি-মনস্ক একজন আধিকারিককে উত্তর দিনাজপুরের মতো একটি সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ জেলার প্রশাসনের শীর্ষস্তরে বসিয়ে আসলে বিজেপি-র প্রতি পক্ষপাতিত্ব করছে জ্ঞানেশ কুমারের নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের সময় একজন জেলা শাশকের অনেক দায়িত্ব থাকে। তার সই নির্ধারণ করে দেয় কে ভোট দিতে পারবেন। এসআইআর আবহে বাংলার মানুষের অধিকার বাঁচানোর লড়াই চলছে বলে দাবি করেন তিনি। তার অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমার আসলে অমিত শাহের লোক। কুণাল ঘোষ মনে করিয়ে দেন, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ইম্পিচমেন্ট প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এই মাসের শুরুতে সংসদের রাজ্যসভার দলনেতা তথা কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের (Mallikarjun Kharge) চেম্বারে আয়োজিত ইন্ডিয়া জোটের (India Alliance) শরিকদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত হয়।
এর আগে মালদার পুলিশ পর্যবেক্ষক জয়ন্ত কান্ত-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ করে তৃণমূল। মানিকচক, মোথাবাড়ি, সুজাপুর এবং বৈষ্ণবনগর কেন্দ্রে দায়িত্বে ছিলেন জয়ন্ত কান্ত। তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, কমিশন নিযুক্ত পুলিশ পর্যবেক্ষক জয়ন্ত কান্তের স্ত্রী বিহারের বিজেপি নেত্রী। তাহলে তাঁর স্বামী কীভাবে নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করবেন? প্রশ্ন ছিল তাঁদের। এরপরই পর্যবেক্ষক পাল্টে দেয় নির্বাচন কমিশন। এছাড়াও, অজয় কাটেসারিয়া, ধীরাজ কুমার, অরিন্দম ডাকুয়া, গন্দম চন্দ্রুডুর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিজগের কথা মনে করিয়ে দেন কুণাল ঘোষ। শাসক দলের অভিযোগ, বাছাই করা বিজেপির লোক এবং বিভিন্ন দুর্নীতিতে অভিযুক্তদের বাংলার ভোটের দায়িত্ব দিয়ে পাঠাচ্ছে নির্বাচন কমিশন।
বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যের মুখ্যসচিব থেকে ডিজি, সিপি বদল করেছে নির্বাচন কমিশন। পাঁচ জায়গার ডিআইজি-কেও সরানো হয়েছে। অর্ধেকের বেশি জেলার ডিএম, রিটার্নিং অফিসারের পর এবার বিডিও-দেরও বদলি করল কমিশন।