'আগেই ঠিক ছিল, প্রতিবারের মতো এবারেও নন্দীগ্রাম থেকেই লড়বেন বিরোধী দলনেতা। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী বারবার দলের কাছে আর্জি জানিয়েছিলেন তিনি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দিতা করতে চান। সেকথায় গুরুত্ব দিয়ে ভবানীপুরেও নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন তিনি

সাংবাদিক বৈঠকে শুভেন্দু-শমীক
শেষ আপডেট: 29 March 2026 18:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election 2026) নন্দীগ্রাম কেন্দ্র থেকে আগামিকাল মনোনয়ন জমা দেবেন বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। তার আগে রবিবার বিকেলে সল্টলেকের দফতরে সাংবাদিক বৈঠকে বিজেপির রাজ্য সভাপতির হাত থেকে দলের প্রতীক নিলেন বিরোধী দলনেতা। মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক মন্তব্যও করেন তিনি। পাশাপাশি, দুই কেন্দ্রেই জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সুর শোনা গেল বিজেপির রাজ্য নেতৃত্বের গলায়।
সংসদীয় রাজনীতিতে বিরোধী দলনেতার স্থান মুখ্যমন্ত্রীর পরেই। গণতন্ত্রের প্রাথমিক শর্ত বিরোধিতা করা, সরকারের নীতি-কাজের সমালোচনা করা। কিন্তু এরাজ্যে বিরোধী দলনেতা বিধানসভায় প্রায় ১১ মাসের বেশি সাসপেন্ড ছিলেন, সভা করার জন্য ১০৪ বার কলকাতা হাইকোর্টের (Calcutta High Court) দরজায় কড়া নাড়তে হয়েছে। এরইসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সভাপতি প্রশ্ন তোলেন, ২০১১ সালে যারা গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠার স্লোগান দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন, তারাই ২০২১ সালের নির্বাচনী ফলাফল মেনে নিতে পারেনি।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের শেষদিকে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। ২০২১-এ নন্দীগ্রাম থেকে তাঁকে প্রার্থী করে পদ্ম শিবির। তাঁর বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। কয়েক হাজার ভোটে সেখানে তৃণমূল প্রার্থীকে পরাজিত করেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে এনিয়ে বিতর্ক হয়েছে অনেক। গণনাকেন্দ্রে লোডশেডিং করে কারচুপির অভিযোগ তুলেছিল তৃণমূল। এরপর কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
তবে এনিয়ে একাধিকবার পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে বিজেপিও। তাঁদের দাবি, ২০২১-এর হার তারা মেনে নিতে পারেনি। জয়ের শংসাপত্র নিতে যাওয়ার সময় তাঁর (শুভেন্দু অধিকারী) গাড়িতে পাথরবৃষ্টি, তাঁর গাড়িতে পেট্রল ঢেলে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা- সব বাধা পেরিয়ে তিনি এতদূর এসেছেন। শমীক ভট্টাচার্য মনে করিয়ে দেন, 'আমাদের দল প্রতিজ্ঞা করেছিল ২০২৪-এ লোকসভা নির্বাচনে (Loksabha Election 2024) নন্দীগ্রাম বিধানসভা ক্ষেত্রে তৃণমূল লিড নিতে পারবে না। তারা সেখানে জয় নিতে পারেনি।' কটাক্ষও ছুঁড়ে দেন, 'গতবারের ক্ষতে প্রলেপ লাগাতে অনেক রথী-মহারথীরা নন্দীগ্রামে যাবেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিজেপির থেকে একবছর সম্পর্ক ছিন্ন একজন কর্মীকে সেখানে প্রার্থী করা হল। বাইরের প্লেয়ার নিয়ে খেলবেন। লোডশেডিং কোথায় হবে বাংলার মানুষ ঠিক বুঝতে পারবেন।" তবে এই বিতর্ক সরিয়ে এবার ভবানীপুরের মানুষরাই তৃণমূল এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জবাব দেবে বলে হুঙ্কার দিলেন বিজেপির দুই নেতা।
'আগেই ঠিক ছিল, প্রতিবারের মতো এবারেও নন্দীগ্রাম থেকেই লড়বেন বিরোধী দলনেতা। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী বারবার দলের কাছে আর্জি জানিয়েছিলেন তিনি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দিতা করতে চান। সেকথায় গুরুত্ব দিয়ে ভবানীপুরেও নির্বাচনে প্রার্থী হচ্ছেন তিনি', এদিনের বৈঠকে একথা জানিয়ে দলের প্রতীক শুভেন্দুর হাতে তুলে দেন শমীক ভট্টাচার্য ও বিজেপির সাধারণ সম্পাদক শশী অগ্নিহোত্রী।
ভবানীপুরে প্রার্থী হলে কেন নন্দীগ্রামেও প্রার্থী শুভেন্দু?
শমীক ভট্টাচার্য জানান, "নন্দীগ্রামের মানুষ শুভেন্দু অধিকারীর উপর ভরসা রেখেছেন, তাঁকে ভালবাসা দিয়েছেন, সমর্থন করেছেন। এত জটিলতা সত্ত্বেও শুভেন্দুকে জিতিয়েছেন। তাই তাঁদের এভাবে ছেড়ে দেওয়া উচিত হবে না, ঠিক এই কারণেই নন্দীগ্রাম থেকেও তাঁকে প্রার্থী করা হয়েছে।"
সোমবার নন্দীগ্রামে মনোনয়ন জমা দেবেন বিজেপির প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, "শুধু সভা নয়, নিজের ধর্ম পালন করার জন্যও হাইকোর্টে যেতে হয়েছে। আগামিকাল হলফনামা জমা দেব, সেখানে সবাই দেখতে পাবেন কীভাবে ৩২টা এফআইআর করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুলিশ। আমি জানতামও না তালিকাটা এত লম্বা।" তাঁর দাবি, "সবক'টি মামলা ২০২১ সালের ২ মে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয়ের পর করা হয়েছে। সব ভুয়ো মামলা, কারও কোনও সত্যতা নেই।"
আগামিকাল শুভেন্দুর মনোনয়ন দাখিলের সময় তাঁর সঙ্গে থাকবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান, প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি তথা খড়গপুর সদরের প্রার্থী দিলীপ ঘোষ-সহ আরও অনেকেই।