তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটারদের অযথা হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। দলটির মতে, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতি ব্যবহার করে বহু প্রকৃত ভোটারকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে।

সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেস
শেষ আপডেট: 20 January 2026 13:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ্যের এসআইআর (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়া নিয়ে চলমান বিতর্কে বড়সড় মোড় এনেছে সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)। সোমবার শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছে, এসআইআর সংক্রান্ত ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’-র (Logical Discrepancies) সম্পূর্ণ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। এই নির্দেশে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। কারণ, দলের দাবি অনুযায়ী, শুরু থেকেই তারা এই তালিকা প্রকাশের দাবি জানিয়ে আসছিল। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণে কার্যত চাপে পড়েছে নির্বাচন কমিশন (ECI) ও বিজেপি (BJP)। যদিও এসআইআর নিয়ে তাদের অভিযোগ এখনও বহাল।
মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েন (Derek o Brian) ফের তোপ দাগেন কমিশনের বিরুদ্ধে। এসআইআর-এর ব্যাখ্যা করতে গিয়ে তিনি বলেন, “এসআইআর-এর আসল অর্থ দাঁড়াচ্ছে ‘সফটওয়্যার ইনটেনসিভ রিগিং’ (Software Intensive Rigging)। আমরা স্বচ্ছতা চাই - এ কথা ৭৫ বারেরও বেশি বলেছি। আমরা এসআইআর-এর বিরোধী নই। আমরা চাই সার্ভে হোক, কিন্তু সেটা হতে হবে মানবিক এবং সম্পূর্ণ স্বচ্ছ।”
ডেরেকের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) থেকে শুরু করে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisekh Banerjee) - সকলেই একই কথা বলেছেন। তাঁর প্রশ্ন, “কেন সাধারণ মানুষের উপর এসআইআর-এর বোঝা চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে?”
তৃণমূল নেতৃত্বের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটারদের অযথা হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। দলটির মতে, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে প্রযুক্তিনির্ভর পদ্ধতি ব্যবহার করে বহু প্রকৃত ভোটারকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির (Logical Discrepancies) তালিকা প্রকাশ হলে সেই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর মিলতে পারে বলে মনে করছে তৃণমূল।
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও কড়া সমালোচনা করেন ডেরেক ও’ব্রায়েন। তাঁর অভিযোগ, “মডেল কোড অফ কনডাক্ট আলাদা করে ব্যাখ্যা করার কোনও সুযোগ নেই। কিন্তু কমিশন সেই বিধিও মানছে না।” একই সুরে তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ সাগরিকা ঘোষ (Sagarika Ghose) বলেন, “এসআইআর শুরু হয়েছিল বিহারে, কিন্তু প্রকৃত টার্গেট ছিল বাংলা। এই রাজ্যের ভোটারদের বাদ দেওয়ার জন্য একের পর এক কৌশল নেওয়া হচ্ছে।” তাঁর অভিযোগ, আগে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ছিল যাতে সবাই ভোট দিতে পারে। এখন পরিস্থিতি বদলে গেছে - ভোটারদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়াই যেন অগ্রাধিকার হয়ে উঠেছে।
সব মিলিয়ে, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এসআইআর নিয়ে বিতর্ক নতুন মাত্রা পেল। লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সির তালিকা প্রকাশ হলে আদৌ কতটা স্বচ্ছভাবে এই প্রক্রিয়া চলছে, তা নিয়ে জনসমক্ষে স্পষ্ট ছবি উঠে আসবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন নজর, কমিশন এই নির্দেশ কত দ্রুত এবং কীভাবে কার্যকর করে।