গত ১৫ মার্চ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা করা হয়। সেই সঙ্গে কার্যকর হয় নির্বাচনী আচরণবিধি। তারপর থেকেই প্রশাসনের শীর্ষস্তরে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করে নির্বাচন কমিশন। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজিপি থেকে শুরু করে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার - বিভিন্ন পদে বদল আনা হয়েছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 30 March 2026 13:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) দিন ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই রাজ্যে প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ECI)। বিডিও, ওসি ও আইসি-সহ বহু আধিকারিককে একসঙ্গে বদলির সিদ্ধান্তকে ঘিরে ফের একবার আইনি লড়াইয়ের পথে হাঁটল তৃণমূল। সোমবার কলকাতা হাইকোর্টে (Calcutta High Court) নতুন করে মামলা করার জন্য প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তৃণমূল সাংসদ তথা আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। আদালত এই মামলার অনুমতিও দিয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে মোট ২৬৭ জন আধিকারিককে বদলি করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন বিডিও, থানার ওসি ও আইসি-রা। রবিবার সন্ধ্যায় একযোগে রাজ্যের ১৭৩টি থানার ওসি ও আইসি বদলির নির্দেশ জারি করা হয়। সেই তালিকায় ছিলেন ১৮৪ জন পুলিশ আধিকারিক। একই দিনে দুপুরের দিকে রাজ্যের ১৮টি জেলার ৮৩ জন বিডিও-র বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে একদিনে এত সংখ্যক আধিকারিকের স্থানান্তর নজিরবিহীন বলেই মনে করছে শাসকদল।
উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের দিন ঘোষণা করা হয়। সেই সঙ্গে কার্যকর হয় নির্বাচনী আচরণবিধি। তারপর থেকেই প্রশাসনের শীর্ষস্তরে পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু করে নির্বাচন কমিশন। মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজিপি থেকে শুরু করে জেলাশাসক ও পুলিশ সুপার - বিভিন্ন পদে বদল আনা হয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় ওসি থেকে বিডিও পর্যায়েও এই ব্যাপক রদবদল হয়েছে।
এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ তুলেছে তৃণমূল। তাদের মতে, একসঙ্গে এত সংখ্যক আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়া প্রশাসনিক নিরপেক্ষতার বদলে অন্য কোনও উদ্দেশ্যের ইঙ্গিত দেয়। সেই কারণেই আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় শাসকদল।
অন্যদিকে এই অভিযোগ খারিজ করেছে বিজেপি। গত শনিবার কলকাতা সফরে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেন, ভোটের আগে প্রশাসনিক রদবদল কোনও অস্বাভাবিক বিষয় নয়। তাঁর দাবি, নির্বাচনকে নিরপেক্ষ রাখতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হয়ে থাকে। পাশাপাশি কটাক্ষের সুরে তিনি মন্তব্য করেন, বাংলায় বিষয়টি বড় করে দেখা হচ্ছে কারণ এখানে অধিকাংশ আধিকারিকই তৃণমূলের কথা শুনে কাজ করেন।
সব মিলিয়ে প্রশাসনিক বদলি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর চরমে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হওয়া মামলার দিকে নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহল থেকে প্রশাসন - সব মহলেরই। মঙ্গলবার এই মামলার শুনানি হতে পারে বলে জানা গিয়েছে। আদালতের পর্যবেক্ষণই এখন নির্ধারণ করবে, নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের ভবিষ্যৎ কোন পথে এগোবে।