মেসির ভারত সফরের আয়োজক শতদ্রু দত্ত (Satadru Dutta) ঘটনারকে বিশৃঙ্খলা এবং ব্যবস্থাপনায় গাফিলতির অভিযোগে সেদিনই গ্রেফতার করা হয়েছিল। একমাসের বেশি সময় জেলে কাটানোর পর গত ১৯ জানুয়ারি তিনি অন্তর্বর্তী জামিন পান।

যুবভারতী বিশৃঙ্খলা
শেষ আপডেট: 14 February 2026 16:58
দ্য ওয়াল ব্যুরো: যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে ১৩ ডিসেম্বরের বিশৃঙ্খলার (Yuva Bharati Chaos) পর দু'মাস কেটে গেলেও এখনও টিকিটের টাকা ফেরত পাননি কেউ! আর্জেন্টিনা তারকা লিওনেন মেসিকে (Lionel Messi) দেখার আশায় হাজার হাজার মানুষ বহু টাকা দিয়ে টিকিট কিনেছিলেন (Messi in Kolkata)। কিন্তু স্টেডিয়ামে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ায় এক ঝলকও দেখা হয়নি তাঁদের প্রিয় ফুটবলারকে। রাজ্য পুলিশের তৎকালীন ডিজি রাজীব কুমার সেই দিনই জানিয়েছিলেন, দর্শকদের টাকা ফেরত দেওয়া উচিত এবং প্রয়োজন হলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে পুলিশ। কিন্তু তিনি অবসর নিয়ে ফেললেও প্রতিশ্রুতি মতো টাকা এখন ফেরত পাননি মেসি দর্শন থেকে 'বঞ্চিত' দর্শকরা।
মেসির ভারত সফরের আয়োজক শতদ্রু দত্ত (Satadru Dutta) ঘটনারকে বিশৃঙ্খলা এবং ব্যবস্থাপনায় গাফিলতির অভিযোগে সেদিনই গ্রেফতার করা হয়েছিল। একমাসের বেশি সময় জেলে কাটানোর পর গত ১৯ জানুয়ারি তিনি অন্তর্বর্তী জামিন পান। অভিযোগ, এরপর থেকেই কার্যত নিখোঁজ শতদ্রু (Satadru Dutta), ফোনেও যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। ফলে তাঁর কাছ থেকেও কোনও স্পষ্ট অবস্থান মেলেনি। টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়ার দাবিতে দর্শকেরা এখনও অপেক্ষায়। অনেকেই আশা ছেড়ে দিয়েছেন।
বিশৃঙ্খলার পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নির্দেশে একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার রায়। তাঁদের রিপোর্টে টিকিট ফেরত নিয়ে সরাসরি নির্দেশ না থাকলেও ‘ইতিবাচক’ মনোভাব প্রকাশ করা হয়েছিল। কমিটির সুপারিশে গঠন করা হয় সিট। রাজ্যের বর্তমান ডিজি পিয়ূষ পাণ্ডে, কলকাতার পুলিশ কমিশনার সুপ্রতিম সরকার এবং বিধাননগরের কমিশনার মুরলীধর শর্মা এই তদন্তের দায়িত্বে ছিলেন। সিট (SIT investigation in Messi Case) আদালতে বারবার টিকিটের অর্থ ফেরতের পক্ষে মত দেয়।
তদন্তে উঠে এসেছে, একটি অনলাইন সংস্থার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের জন্য মোট ৩৪ হাজার ৫৭৬টি টিকিট বিক্রি হয়েছিল, যেখান থেকে আয় হয়েছে ২০ কোটিরও বেশি। ওই একই তদন্তে আয়োজক শতদ্রুর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ‘ফ্রিজ’ করা হয়, যেখানে প্রায় ২২ কোটি টাকা বাজেয়াপ্ত করা হয়। পুলিশের দাবি, এই টাকা দিয়েই দর্শকদের টিকিটের টাকা ফেরত দেওয়া উচিত। কিন্তু আদালত এখনও চূড়ান্ত নির্দেশ দেয়নি।
অন্যদিকে, শতদ্রুর আইনজীবীর দাবি, তিনি দোষী কি না তা এখনও প্রমাণ হয়নি, তাই এখনই টাকা ফেরত দিলে বিচার শুরুর আগেই তাঁকে ‘দোষী’ বলা হবে। পাশাপাশি যুক্তি দেওয়া হচ্ছে, টিকিটে নাকি স্পষ্ট লেখা ছিল ‘রিফান্ড হবে না’।
এরই মাঝে হাজারো মানুষ ক্ষোভে আর হতাশায় দিন গুনছেন। মেসি ভারত সফর সেরে ফিরে গেছেন, তদন্ত চলছে, প্রতিশ্রুতি মিলেছে অনেক, কিন্তু দর্শকদের কাছে এখনও নেই টিকিটের টাকা ফেরতের কোনও নিশ্চয়তা।