রাজ্যের তিনটি বুথে ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় একজনও ভোটারের নাম নেই। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ওই বুথগুলিতে ১০০ শতাংশ ভোটারই প্রোজেনি ম্যাপিং করেছেন। দিনহাটা, কুলতলি ও পান্ডুয়ার ডিইও-ইআরওদের কাছে রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন।

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 2 December 2025 21:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সোমবার কমিশন সূত্রে প্রাপ্ত ২২০৮ টি বুথ নিয়ে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে, তারপর মঙ্গলবার জানা গিয়েছে মৃত ভোটার শূন্য এমন বুথের সংখ্যা ২২০৮ থেকে কমে ৪৮০-তে দাঁড়িয়েছে। কমিশনের বক্তব্য এই সংখ্যাও কমতে পারে। তবে এরই মাঝে আরেকটি তথ্য কমিশনের হাতে এসেছে যা সমান চাঞ্চল্যকর। রাজ্যে এমন তিনটি বুথের খোঁজ পাওয়া গিয়েছে যে বুথে ২০০২ সালের ভোটার তালিকা অনুযায়ী কোনও ভোটারের কোনও সেল্ফ ম্যাপিং নেই, সবটাই প্রোজেনি ম্যাপিং, যা এককথায় অবিশ্বাস্য।
প্রথমে জেনে নেওয়া যাক সেল্ফ ম্যাপিং আর প্রোজেনি ম্যাপিং কী! সেল্ফ ম্যাপিং মানে হল, যে ভোটার এনুমারেশন ফর্ম ফিল-আপ করার সময় তাঁর ২০০২-এর ভোটার তালিকায় থাকা নাম উল্লেখ করতে পারছেন। অর্থাৎ যার নাম ২০০২-এর ভোটার তালিকাতেও রয়েছে। এই ধরনের ম্যাপিং কে SIR-এর পরিভাষায় বলা হয় 'সেল্ফ ম্যাপিং'। আর 'প্রোজেনি ম্যাপিং' বলতে বোঝায় যে ভোটার তাঁর এনুমারেশন ফর্ম ফিল-আপ করার সময় ২০০২-এর ভোটার তালিকায় তাঁর উপস্থিতি দেখাতে পারছেন না, অর্থাৎ তিনি বাবা-ঠাকুরদা ইত্যাদি আত্মীয়ের নাম উল্লেখ করে ফর্ম ফিল-আপ করেছেন। এমন তো হতেই পারে। কিন্তু কমিশনের কাছে এমন কোন তথ্য পৌঁছেছে যা চাঞ্চল্যকর? কমিশনের সূত্র বলছে রাজ্যে এমন তিনটি বুথ পাওয়া গিয়েছে যেখানে ডিজিটাইজড হওয়া ১০০ শতাংশ ভোটারই প্রোজেনি ম্যাপিং করিয়েছেন, অর্থাৎ ওই তিনটি বুথের কোনও ভোটারের নামই ২০০২-এর তালিকায় নেই।
কমিশন সূত্রে খবর এমন তিনটি বুথ রয়েছে রাজ্যের তিনটি বিধানসভায়। কোচবিহারের দিনহাটা বিধানসভার একটি বুথ যার পার্ট নম্বর ১১০, যেখানে ৭৮২ জন ভোটারই প্রোজেনি ম্যাপিং করিয়েছেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার কুলতলি বিধানসভার একটি বুথ যার পার্ট নম্বর ৪৮, সেখানেও ৭৬৮ জন ভোটারই প্রোজেনি ম্যাপিং করিয়েছেন। পাশাপাশি হুগলির পান্ডুয়া বিধানসভার ৫৩ নম্বর পার্টের বুথের ৬৬৮ জন ভোটারও এমন ম্যাপিং করিয়েছেন, যা ডিজিটাইজ হয়েছে। কমিশনের এক উচ্চপদস্থ আধিকারিকের বক্তব্য, এটা হতেই পারে না। কোথাও না কোথাও একটা গন্ডগোল হচ্ছে। যে কারণে এই তিনটি জেলার ডিইও এবং সংশ্লিষ্ট বুথের ইআরও-দের থেকে রিপোর্ট তলব করেছে কমিশন।
এছাড়াও কমিশন বিএলও-দের জন্য কিছু সতর্কীকরণ বার্তাও দিয়েছে। কমিশনের বক্তব্য যদি কোনও বিএলও-দের কেউ চাপ দিয়ে কোনও ভুল তথ্য আপলোড করতে বাধ্য করে, সেটা বিডিও হোক, ইআরও হোক, ডিইও হোক বা কোনও রাজনৈতিক দলের কেউ, বিএলও-রা যেন সেই বিষয়টি পুলিশ বা কমিশনের নজরে আনে। এখনও সময় আছে ভুল তথ্য আপলোড করে থাকলে সেটা এডিট(সংশোধন) করে দেওয়ার। কিন্তু একবার খসরা তালিকা বের হয়ে যাওয়ার পর যদি কোনও বিএলও-র দেওয়া তথ্যে ভুল পাওয়া যায়, সেক্ষেত্রে সেই বিএলও-কে শাস্তির মুখে পড়তেই হবে। এক্ষেত্রে জেল, জরিমানা উভয়ই হতে পারে।