শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর (Bratya Basu) বক্তব্য চাকরিহারাদের যাঁরা বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থানে বসেছেন, তাঁরা অচলাবস্থা তৈরির জন্যই সেখানে রয়েছেন। যা একেবারেই কাঙ্খিত নয়।

ব্রাত্য বসু
শেষ আপডেট: 19 May 2025 18:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে বিকাশ ভবনের (Bikash Bhavan) সামনে বৃহস্পতিবার থেকে টানা অবস্থান চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষকরা। সরকারি সম্পত্তি নষ্ট ও সরকারি কর্মচারীদের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে ৫ শিক্ষককে (SSC Job Deprived Teachers) ডেকেও পাঠিয়েছে বিধাননগর নর্থ থানা (Bidhannagar North Police Station)। অবস্থানের কারণে সমস্যা হচ্ছে বলে স্থানীয়দের একাংশও কলকাতা হাইকোর্টে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছে। এমন অবস্থায় শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুরও (Bratya Basu) বক্তব্য চাকরিহারাদের যাঁরা অবস্থানে বসেছেন, তাঁরা অচলাবস্থার জন্যই সেখানে বসে রয়েছেন। যা একেবারেই কাঙ্ক্ষিত নয়।
সোমবার ব্রাত্য বলেন, চাকরিহারাদের সাত দফা দাবির কথা তিনি সংবাদমাধ্যম মারফত শুনেছেন বটে, কিন্তু কোনও রকম লিখিত দাবিপত্র জমা পড়েনি। বরং আড়াই থেকে তিন হাজার শিক্ষক শিক্ষা দফতরে চিঠি দিয়ে বলেছেন, তাঁরা সরকারের সঙ্গে রয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রীর কথায়, "আমার চোখে সকলেই সমান। কে যোগ্য আর কে অযোগ্য, সেটা তো আমি বেছে দেওয়া তো আমার কাজ নয়। শুনেছি অবস্থানরত শিক্ষকদের দাবি-দাওয়া আছে। কিন্তু সেটা তো লিখিত আকারে জানাতে হবে। সবটাই মৌখিক।"
শিক্ষামন্ত্রীর কথায়, রিভিউ পিটিশনে তাঁদের চাকরি সসম্মানে চাকরিতে ফেরানো, বেতন দেওয়া ইত্যাদি ব্যাপারে সব বলা হয়েছে। ওঁদের বক্তব্য শুনে আইনি পরামর্শ মেনে যা যা করার সবটাই করেছে সরকার। বরাভয় দিয়ে চাকরিহারা শিক্ষকদে জানাতে চাইলেন, তাঁদের পাশে সব সময়ই সরকার রয়েছে, শুধু তিনিই নন, মুখ্যমন্ত্রীও যথেষ্ট সহানুভূতিশীল।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে চাকরি হারিয়েছেন ২৫,৭৩৫ জন শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মী। তাঁরা সকলেই ২০১৬ সালের এসএসসি-র নিয়োগ প্রক্রিয়ায় যোগ দিয়েছিলেন। ওই প্যানেলে থাকা দৃষ্টিহীন এবং বিশেষ ভাবে সক্ষম শিক্ষকেরাও রোববার থেকে আন্দোলনে শামিল হয়েছেন। পাঁচ দিন ধরে বিকাশ ভবনের সামনে চাকরিহারা শিক্ষক-শিক্ষিকা-শিক্ষাকর্মীদের অবস্থান অব্যাহত। স্পষ্ট করে তাঁরা জানিয়ে রেখেছেন, চাকরিতে পুনর্বহাল না হওয়া পর্যন্ত তাঁরা এক চুলও নড়বেন না।