দেশি রসুন চাষ হাওয়ায় ফলন কম পান কৃষকরা। সেই কারণেই এবার এই জমিতে নাসিকের উন্নত মানের রসুন চাষের (Garlic Farming) উদ্যোগ নিল জেলা উদ্যান পালন দফতর।

শেষ আপডেট: 1 December 2025 19:13
দ্য ওয়াল ব্যুরো, হুগলি: চন্দ্রমুখী আর জ্যোতি আলুর উৎপাদনে এগিয়ে হুগলি। পেঁয়াজ চাষে অন্যতম হুগলির বলাগড় ব্লক। এবার রসুন চাষেও দিশা দেখাচ্ছে হুগলি (Hooghly News)। বলাগড়, তারকেশ্বর ও গোঘাটের কয়েকশো বিঘা জমিতে রসুন চাষ হয় আগে থেকেই। তবে দেশি রসুন চাষ হাওয়ায় ফলন কম পান কৃষকরা। সেই কারণেই এবার এই জমিতে নাসিকের উন্নত মানের রসুন চাষের (Garlic Farming) উদ্যোগ নিল জেলা উদ্যান পালন দফতর।
বাংলায় রসুন মূলত মহারাষ্ট্র, মধ্যপ্ৰদেশ, গুজরাট থেকে আমদানি করা হয়। প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলে, পরিবহণ খরচের কারণে রসুনের দাম বেড়ে যায় অনেক সময়। উদ্যান পালন দফতরের আধিকারিকরা মনে করেন, পেঁয়াজের পাশাপাশি উন্নত মানের রসুনের চাষ বাড়ানো হলে রসুনে স্বনির্ভর হবে রাজ্য। তাতে বাজারে কমদামে রসুন পাবেন সাধারণ মানুষ। কমবে পরনির্ভরতা।
হুগলি জেলায় বলাগড়ে সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে পিঁয়াজ চাষ হয়। পিঁয়াজ চাষের জন্য বলাগড়ের মাটি খুবই উপযুক্ত। পেঁয়াজ চাষের সঙ্গে রসুন চাষের সাদৃশ্য রয়েছে। বর্তমানে বলাগড়ে ১৮০০ বিঘা জমিতে রসুন চাষ হয়। এখানে দেশীয় প্রজাতির গঙ্গাজুলি ও কটকি জাতের রসুন চাষ হয়। কিন্তু তার গুণগত মান খুব একটা ভালো নয়। জাতীয় উদ্যান পালন দফতরের গবেষকরা তামিলনাড়ুর নাসিকে উন্নত জি-২৮২ যমুনা সফেদ থ্রি জাতের রসুনের বীজ আবিষ্কার করেছিলেন। যা এ রাজ্যে ব্যাপক আকারে চাষ হয়নি।
কৃষি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই রসুনের বীজ আমদানি করে চাষ করলে দ্বিগুণ ফলন পাবেন চাষিরা। ১ বিঘা জমিতে গঙ্গাজলির ফলন ৮ থেকে ৯ কুইন্টাল। সে জায়গায় উন্নত জি২৮২ যমুনা সফেদ থ্রি জাতের রসুন ফলন ২০ থেকে ২২ কুইন্টাল। জিরাটের আরাজি ভবানীপুর ও ভবানীপুর চর মৌজায় রসুন চাষ হয় বহু দিন ধরেই। এবার জিরাটে ২২ জন চাষিকে এই রসুন চাষের ট্রেনিং দিল জেলা উদ্যানপালন দফতর।
হুগলি উদ্যানপালন দফতরের আধিকারিক শুভদীপ নাথ বলেন, "পশ্চিমবঙ্গ ও আমাদের জেলাতে রসুনের যথেষ্ট ঘাটতি রয়েছে। ভিনরাজ্যের উপর নির্ভরতা কমাতে রসুন চাষ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন এই রসুন চাষে দ্বিগুণ ফলন আনতে পারি আমরা। নাসিক থেকে এই বীজ আনানো হয়েছে। সার্টিফাইড বীজ চাষিদের দেওয়া হচ্ছে। চাষিরা কিনে চাষ করছে তাতেও কিছুটা ভর্তুকি দিচ্ছে রাজ্য সরকার। এবারে রসুন কিনে চাষ করলে পরের বছর থেকে সেটাকেই বীজ হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন কৃষকরা। চাষও বাড়াতে পারবেন।"
শুভদীপবাবু জানান, গত বছর ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা পাইকারি দামে বিক্রি হয়েছে রসুন। সরকারি তরফে কম খরচে পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য বিশেষ ভর্তুকিও দেওয়া হচ্ছে। আর এখানে রসুনও সংরক্ষণ করা যাবে। সংরক্ষণের জন্য আর নতুন কোনও ব্যবস্থা করতে হবে না। এবছর এক বিঘা জমিতে কৃষকরা ৬০ কিলো পুরনো রসুন ও ১০ কিলো নতুন জাতের রসুন চাষ করবে। পরের বছর তা বৃদ্ধি পাবে। পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে হুগলি জেলায় বিপুল আকারে চাষ হচ্ছে নাসিকের এই বিশেষ জাতের রসুন।