ভোরবেলা ঠাকুরান নদীর চর লাগোয়া জঙ্গলে প্রথম পায়ের ছাপ দেখতে পান স্থানীয়রা। পায়ের ছাপের মাপ, গভীরতা—সব মিলিয়ে বনদফতরের অনুমান, “এ নির্ঘাৎ রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার!”
.jpeg.webp)
গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 1 December 2025 17:20
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্রামের জঙ্গল লাগোয়া পথজুড়ে একের পর এক বড় বড় তাজা পায়ের ছাপ। মুহূর্তে দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ল খবর—'বাঘ ঢুকেছে গ্রামে' (Royal Bengal Tiger)! আর সেই আতঙ্কে উপেন্দ্রনগর এলাকায় থরহরিকম্প হাল (,Sundarbans , Pathar Pratima)।
খবর পেয়ে ছুটে এলেন বনদফতরের কর্মীরা। পায়ের ছাপ খতিয়ে দেখা, জঙ্গল ঘেঁষে তল্লাশি—সবই হয়েছে। তবু বাঘের দেখা মেলে না। কিন্তু অদৃশ্য উপস্থিতির অনুভূতি রয়ে গিয়েছে গ্রামের প্রতিটি মানুষের মনে। সন্ধ্যা নামলেই ঘরবন্দি সবাই। দরজা-জানলা বন্ধ করে নিঃশব্দ অপেক্ষা, যদি কোথাও আচমকা গর্জে ওঠে হালুম!
ঘটনাস্থল পাথর প্রতিমার শ্রীধরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপেন্দ্রনগর। ভোরবেলা ঠাকুরান নদীর চর লাগোয়া জঙ্গলে প্রথম পায়ের ছাপ দেখতে পান স্থানীয়রা। পায়ের ছাপের মাপ, গভীরতা—সব মিলিয়ে বনদফতরের অনুমান, “এ নির্ঘাৎ রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার!”
গ্রামবাসীর কথায় ভয় আরও গাঢ়। পৃথা পুষ্টি জানান, “আবর্জনা ফেলতে বেরিয়েই দেখি বিশাল পায়ের ছাপ! আমাদের ঘরের পাশ দিয়ে গেছে! তখনই বুঝলাম, বাঘ খুব কাছে এসেছিল।”
শুভ্র সিটের স্মৃতি আরও বিভীষিকা ছড়ায়, “গত বছরেও একটা বাঘ এখানে ঢুকেছিল। রাস্তায় আলো নেই। ভয়ে বাইরে পা ফেলতে পারছি না! মনে হচ্ছে অন্ধকার ফুঁড়ে হঠাৎ সামনে দাঁড়াবে।”
আতঙ্ক বাড়তে বাড়তে এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে রাত নামতেই দরজা-জানালা বন্ধ করে ঘরবন্দি আস্ত গ্রাম। গ্রামবাসীদের কথায়, "একে শীতের কামড়। তারওপর রাতি বিরেতে পথে বেরোলে যদি ঘাড়ে বাঘ লাফিয়ে এসে পড়ে কে বাঁচাবে!" তাই দিনের আলো থাকতে থাকতেই ঘরে ফিরছেন বাসিন্দারা।
কিন্তু বাঘটি এখন ঠিক কোথায়? জঙ্গলে ফিরেছে, নাকি এখনও অদেখা ছায়ার মতো ঘুরছে মানুষের বাড়ির পাশেই? বনদফতর নিশ্চিত কিছু জানাতে পারেনি। আর সেই অজানা আশঙ্কা পাথর প্রতিমার রাতকে আরও গা ছমছমে করে তুলছে, অন্ধকার নেমে এলে, মনে হচ্ছে যেন নিস্তব্ধতার আড়ালে এই বুঝি গর্জে উঠল হালুম!