ফণীকান্ত মিশ্র জানিয়েছিলেন, 'আদিম যুগের পশুর জীবাশ্ম, কঙ্কাল, হাড়ের টুকরো এবং বিভিন্ন যুগের মৃৎপাত্রের খোঁজ পেয়েছি।' ৯০ টিরও বেশি ছবি সংগ্রহ করেছিলেন তিনি।

সুন্দরবনে অনুসন্ধানে ফণীকান্ত মিশ্র
শেষ আপডেট: 31 May 2025 17:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফেরিতে চার ঘণ্টার যাত্রা শেষে সুন্দরবনের (Sundarban) গোবর্ধনপুরে এক জেলের বাড়িতে পৌঁছালেন প্রত্নতাত্ত্বিক ফণীকান্ত মিশ্র (Arhaeologist Phanikant Mishra)। একজন সাধারণ জেলের বাড়িতে 'অ্যান্টিক কালেকশন' দেখে অবাকই হয়েছিলেন। এই প্রথম কোনও প্রত্নতত্ত্ববিদ সুন্দরবন্দের প্রত্যন্ত এলাকায় সফর করেন। দু'দিনে ঘুরে দেখেন প্রতগড়প্রতিমা, রামগঙ্গা, গোবর্ধনপুর সহ একাধিক দ্বীপ।
ফণীকান্ত মিশ্র জানিয়েছিলেন, 'আদিম যুগের পশুর জীবাশ্ম, কঙ্কাল, হাড়ের টুকরো এবং বিভিন্ন যুগের মৃৎপাত্রের খোঁজ পেয়েছি।' ৯০ টিরও বেশি ছবি সংগ্রহ করেছিলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, 'এর আগে কোনও প্রশিক্ষিত প্রত্নতত্ত্ববিদ সুন্দরবনে এভাবে খোঁজ করেনি।'
দীর্ঘদিন ধরেই বহু তরুণ প্রত্নতত্ত্ববিদ সুন্দরবন থেকে প্রাচীন বস্তু সংগ্রহ করে 'মিনি মিউজিয়াম' তৈরি করে ফেলেছেন। ইতিহাসবিদরা বহুবার এই অঞ্চলগুলিতে গবেষণার প্রয়োজনীয়তার কথা বললেও, এএসআই-এর পক্ষ থেকে কখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও অনুসন্ধান হয়নি। ২০১৩ সালে রাজ্যের প্রত্নতত্ত্ব দফতর অনুসন্ধান শুরু করেছিল, তবে তা অচিরেই থেমে যায়।
ফণীকান্ত মিশ্র (Phanikant Mishra) নিজের দুদিনের সফর নিয়ে আরও বলেন, 'সুন্দরবনের এই জায়গাগুলিতে পৌঁছানো খুব কঠিন। সুন্দরবন 'ভার্জিন' এলাকা। এখানে এখনও তেমন গবেষণা হয়নি। দু'দিন কাটিয়ে বুঝতে পারলাম প্রাচীন সভ্যতা এখানেই গড়ে উঠেছিল।'
সুন্দরবনের (Sundarban) দ্বীপাঞ্চলে একাধিক প্রত্নবস্তুর খোঁজ মিলেছে- যা এর আগে কোনও বিশেষজ্ঞের চোখে পড়েনি। তালিকায় আছে, গবাদি পশুর খুলি, পিপে আকৃতির পুঁতি, আচারিক পাথরের ফলক আরও অনেককিছু।
মৃৎপাত্র এবং টেরাকোটার যেসব নমুনা পাওয়া গেছে, তা খ্রিস্টীয় পূর্ব এবং খ্রিস্টীয় প্রথম শতকের বলেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। সিলমোহরের ছাপযুক্ত টেরাকোটার দলা পাওয়া গেছে, যেগুলো ঐতিহাসিক যুগের সূচনার সময়ের বলেই অনুমান।
সুন্দরবনের প্রাচীন সভ্যতা ও আধুনিক মানুষের বসতির মধ্যে কোনও মিল নেই, এই নিয়ে কৌতূহলও প্রকাশ করেছেন খ্যাতনামা প্রত্নতত্ত্ববিদ ফণীকান্ত মিশ্র। তাঁর মতে, এটি একটি গবেষণার বিষয়, কারণ কীভাবে হঠাৎ করে সেই প্রাচীন সভ্যতা হারিয়ে গেল, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ইতিহাসবিদরা জানিয়েছেন, ১৭৬৪ সালে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির অধীনে প্রথম সুন্দরবনের মানচিত্র তৈরি হয়। এরপর ১৮৬০-এর দশকে বন বিভাগ গঠনের মাধ্যমে এই অঞ্চল আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারের প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণে আসে। প্রত্নতত্ত্ববিদ মনে করছেন, ভবিষ্যতে সুন্দরবন নিয়ে গবেষণা হলে বাংলার উপকূলবর্তী অঞ্চলের এক বিস্মৃত দিক উঠে আসতে পারে।