দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভূরি ভূরি যৌন হেনস্থার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। মুখ খুলেছেন একের পর এক সাংবাদিক। তবে সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। পাল্টা মানহানির মামলা দায়ের করেছেন প্রথম অভিযোগকারিণী সাংবাদিক প্রিয়া রামানির বিরুদ্ধে। আর সেই মামলায় তাঁর পক্ষের আইনজীবীর সংখ্যা ৯৭! এই সংখ্যাই বলে দিচ্ছে, বেশ বড় রকমের ফেঁসেছেন এমজে আকবর। তাই লড়াইয়ের প্রস্তুতিও এত বড়! দিল্লির পাতিয়ালা হাউস কোর্টে সেই মামলার প্রথম শুনানি ১৮ অক্টোবর।
প্রাক্তন সাংবাদিক এবং কেন্দ্রীয় বিদেশ প্রতিমন্ত্রী এমজে আকবর অবশ্য এত কিছুর পরেও নিজেকে নির্দোষ প্রতিপন্ন করতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ থেকেই যাচ্ছে। কারণ আরও ২০ জন মহিলা সাংবাদিক এ দিনই আদালতে আর্জি জানিয়েছেন, এই মামলায় যেন তাঁদেরও সাক্ষ্য নেওয়া হয়। নয়ের দশকে এমজে আকবরের সঙ্গে কাজ করা ওই ২০ জন সাংবাদিক যৌথ বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, "আদালতের কাছে আমাদের আবেদন, মানহানির ওই মামলাটি শোনার সময়ে আরও একটি বিষয়ে নজর রাখা হোক। আকবরের কাছে যৌন হেনস্থার শিকার বা এমন ঘটনার সাক্ষীদের বয়ান শুনে এই মামলার বিচার হোক।"
প্রিয়া অবশ্য কোনও রকম ভাবেই নড়ছেন না নিজের অবস্থান থেকে। একটি বিবৃতি দিয়ে স্পষ্ট জানিয়েছেন, লড়াই যতই কঠিন হোক, তিনি লড়তে প্রস্তুত। প্রিয়ার সাহসকে কুর্নিশ জানিয়ে তাঁর স্বামী সমর হালার্নকর নিজের কলমে লিখেছেন, "আমার স্ত্রী এক জন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও তাঁর ৯৭ জন আইনজীবীর বিরুদ্ধে মুখোমুখি হচ্ছে। এর জন্য বিরাট সাহস প্রয়োজন।"
কেন্দ্রীয় বিদেশ প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে আকবরের পদত্যাগের দাবিতে রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে কড়া ভাষায় একটি চিঠিও লেখা হয়েছে দেশের মহিলা সাংবাদিকদের অ্যাসোসিয়েশনের তরফে। প্রিয়া রামানির বিরুদ্ধে আনা পাল্টা মামলা তুলে নেওয়ারও দাবি জানানো হয়েছে ওই চিঠিতে।