
শেষ আপডেট: 27 November 2019 09:55
বুধবার সকালেই সে সব কিছু পরিষ্কার করে ফেলেছেন কর্তৃপক্ষ। সুপার ইন্দ্রনীল বিশ্বাস টেলিফোনে বললেন, "কাল খবর পেয়েই আমি ব্যবস্থা নিয়েছিলাম। হাসপাতালের কর্মীদের গাফিলতিতেই এমনটা হয়েছে। সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু এটা হওয়ার কথা নয়, ভবিষ্যতেও আর যাতে না হয় সেই চেষ্টাই করা হবে।"
[caption id="attachment_162746" align="aligncenter" width="1280"]
বুধবার সকালে দেখা গেল, সেই একই জায়গায় আবর্জনার চিহ্ন নেই।[/caption]
ইন্দ্রনীলবাবু জানান, হাসপাতাল ও হাসপাতাল চত্বর সাফসুতরো করার দায়িত্ব পুরসভার কর্মীদের হলেও, হাসপাতালের মেডিক্যাল বর্জ্য একটি নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট জায়গায় ফেলা হয়। সেটার সঙ্গে হাসপাতাল কর্মীরাই যুক্ত রয়েছেন। তাঁরা দাবি করেছেন, যে ভ্যাটে এ সব আবর্জনা ফেলা হয়, তা ভর্তি হয়ে যাওয়ায় তাঁদেরই কেউ এই কাজ করে ফেলেছেন। পরে সরাবেন ভেবে হাসপাতালের গেটেই ফেলে রেখেছেন আবর্জনাগুলি।
কিন্তু ঠিক কাদের গাফিলতিতে এমনটা হল, তা জানা যায়নি মঙ্গলবার দিনভর চেষ্টা করেও। কারও কোনও হেলদোলও চোখে পড়েনি। মেডিক্যাল কলেজের ওই এক নম্বর গেটের কাছেই রয়েছে একটি কমপ্যাক্টর। মনে করা হয়েছিল, সেখান থেকে হয়তো কোনও ভাবে নোংরাগুলো বেরিয়ে পড়ে রাস্তায়?
মঙ্গলবার সকালে এমনই অবস্থা ছিল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের মূল ফটকে।[/caption]
কিন্তু ওই কম্প্যাক্টরের দায়িত্বে থাকা পুরসভার কর্মী দেবাশিস রায় জানিয়েছিলেন, ওই বর্জ্যের দায়িত্ব তাঁদের নয়। কিন্তু তবু তাঁরা মাঝেমাঝেই নিজেদের দায়িত্বে ওই বর্জ্য সাফ করেন। দেবাশিসবাবু এ-ও দাবি করেন, “এমনটা এই প্রথম নয়। আগেও ওভাবে বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ে থেকেছে পথের উপরে। কিন্তু এটা বারবার বলেও বন্ধ হচ্ছে না।”
পুরসভার সরোজ নামের এক নিচুতলার কর্মী, যিনি মেডিক্যাল কলেজ চত্বর পরিষ্কার করার কাজ করেন, তিনি জানিয়েছিলেন তাঁরা মেডিক্যাল কলেজের সব কিছু পরিষ্কার করে কলেজ স্ট্রিটের ভ্যাটে ফেলে আসেন। কিন্তু সে সবই নন-মেডিক্যাল বর্জ্য। কিন্তু মেডিক্যাল বর্জ্য কোথায় কীভাবে ফেলা হবে, তা তাঁদের দায়িত্ব নয়। তার জন্য হাসপাতালের আলাদা কর্মী আছে।
সে কথাই মেনে নিয়ে সুপার ইন্দ্রনীল বিশ্বাস জানালেন, কাদের গাফিলতিতে কেন এমন হচ্ছে, তা খোঁজ নেওয়া হবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফেই। তবে যেখানেই যাদের কারণেই এটা ঘটুক না কেন, সেটা ঘটা বাঞ্ছনীয় নয় বলেই মত ইন্দ্রনীলবাবুর।