দ্য ওয়াল ব্যুরো : তাহলে আপনি কমলনাথ সরকারের পতনের জন্য তৈরি? বুধবার মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিংকে এমনই প্রশ্ন করেছিলেন সাংবাদিকরা। তিনি হেসে উত্তর দেন, কখনই না। সম্ভবত ১৮ মার্চ বিধানসভায় শক্তিপরীক্ষা হবে। তখন আপনারা চমকে যাবেন। এই সময় কমলনাথ যেভাবে লড়াই করছেন, তার প্রশংসা করছি।
জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার কংগ্রেস ত্যাগ নিয়ে তিনি বলেন, সে তার বাবা মাধবরাও সিন্ধিয়ার জন্মদিনেই দল ছাড়ল। খুবই দুঃখের ব্যাপার। প্রয়াত সঞ্জয় গান্ধী, অর্জুন সিং এবং আমি তার বাবা মাধবরাও সিন্ধিয়াকে কংগ্রেসে এনেছিলাম। তাঁর মা ছিলেন জনসঙ্ঘে। কিন্তু মাধবরাও প্রচার করেছিলেন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর হয়ে।
একটি সূত্রে শোনা যাচ্ছে, কংগ্রেস তাঁকে রাজ্যসভায় প্রার্থী করতে চায়নি বলেই সিন্ধিয়া কংগ্রেস ছেড়েছেন। দিগ্বিজয়কে এসম্পর্কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, হোয়াট ননসেন্স! আমরা সকলেই চেয়েছিলাম তাকে রাজ্যসভায় প্রার্থী করা হোক। আমরা তাকে প্রদেশ কংগ্রেসের সভাপতি করতে চেয়েছিলাম। এমনকি তাঁকে উপমুখ্যমন্ত্রীও করতে চাওয়া হয়েছিল।
দিগ্বিজয়কে প্রশ্ন করা হয়, কংগ্রেস যদি সিন্ধিয়াকে এতগুলি পদ দিতে রাজি থাকে, তিনি দল ছাড়লেন কেন? তিনি বলেন, গত তিন মাস ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সিন্ধিয়া যোগযোগ রাখছিলেন। কিন্তু গুনা ও দাতিয়া অঞ্চলের বিজেপি নেতারা চাইছিলেন না তাকে দলে নেওয়া হোক। তাঁরা বলছিলেন, সিন্ধিয়াকে দরকার নেই, আমরাই কংগ্রেসকে ভেঙে দেব। তাঁরা যখন তা পারলেন না, তখন হস্তক্ষেপ করেন অমিত শাহ।

বুধবারই বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন দলত্যাগী কংগ্রেস নেতা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। তাঁকে মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী করা হয়নি বলে তিনি দলের ওপরে অসন্তুষ্ট ছিলেন। কমলনাথ সরকারের যদি পতন হয়, বিজেপি তাঁকে সম্ভবত মুখ্যমন্ত্রী করবে না। একটি সূত্রে খবর, তাঁকে মধ্যপ্রদেশ থেকে কোনও রাজ্যসভা আসনে জিতিয়ে আনা হতে পারে। পরে তাঁকে কেন্দ্রে মন্ত্রিত্ব দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার সিন্ধিয়া পদত্যাগ করার পরেই মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসের ২১ জন বিধায়ক রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন। মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ অবশ্য বলছেন, তিনি ক্ষমতায় টিকে যাবেন। কিন্তু রাজ্যপাল যদি ২১ জন বিধায়কের পদত্যাগ গ্রহণ করেন, তাহলে কংগ্রেস সরকার নিশ্চিতভাবেই গরিষ্ঠতা হারাবে। এই পরিস্থিতিতে বুধবার কংগ্রেস ও বিজেপি, উভয় দলই বিধায়কদের সরিয়ে ফেলেছে। বিজেপির বিধায়করা আছেন গুরগাঁওয়ের পাঁচ তারা আই টি সি গ্র্যান্ড ভারত হোটেলে। কংগ্রেস তার বিধায়কদের নিয়ে গিয়েছে রাজস্থানের জয়পুরে।