কৃষি বিমাতেও এবার দুর্নীতির ছায়া। অভিযোগ, যাঁদের এক ছটাকও জমি নেই ও যাঁরা চাষই করেননি, তাঁরাই পেয়েছেন রবি মরশুমের শস্য চাষের 'কৃষি বিমার’ ক্ষতিপূরণ।

শেষ আপডেট: 23 May 2025 17:06
দ্য ওয়াল ব্যুরো, পূর্ব বর্ধমান: কৃষি বিমাতেও এবার দুর্নীতির ছায়া। অভিযোগ, যাঁদের এক ছটাকও জমি নেই ও যাঁরা চাষই করেননি, তাঁরাই পেয়েছেন রবি মরশুমের শস্য চাষের 'কৃষি বিমার’ ক্ষতিপূরণ। অথচ প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষতিপূরণ পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এ নিয়ে বেজায় ক্ষুব্ধ পূর্ব বর্ধমানের রায়না ১ নম্বর ব্লকের অধীন পলাশন গ্রাম পঞ্চায়েতের শাকনাড়া গ্রামের চাষিরা।
তাঁরা এই ঘটনার বিহিত চেয়ে বিডিও এবং এডিএ-সহ জেলা প্রশাসনের নানা মহল এমনকি রায়নার বিধায়কের কাছেও লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। এই দুর্নীতি কাণ্ডে কৃষি দফতরের নিয়োগ করা বিমা সংস্থার কর্মীদেরকে কাঠগড়ায় তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
চাষিরা অভিযোগ করেন, রবি মরসুমে কৃষি বিমার জন্যে তাঁরা আবেদন করেছিলেন। কিন্তু শাকনাড়া গ্রামের হাতেগোনা কয়েকজন ছাড়া বাকি আর কেউ বিমার টাকা পায়নি। আর যাঁদের অ্যাকাউন্টে বিমার টাকা ঢুকেছে, তাঁরা কেউ চাষ আবাদই করেনি। তাঁদের বাড়ির কেউ না কেউ আবার সরকারি কর্মচারি। এ ছাড়াও একই মরসুমে দু’বার বিমার টাকা পেয়েছেন, এমন ব্যক্তিও আছেন।
শাকনাড়া গ্রামের বাসিন্দা শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় জানান, “শাকনাড়া গ্রামে আলু চাষ হয় না। তাই শাকনাড়া গ্রামের কোনও চাষি আলুর ক্ষতিপূরণের জন্যে বিমা চাওয়ারও প্রশ্নই থাকে না। অথচ বিমার টাকা হাতাতে পাশের হিজলনা, নতু এবং মেমারির গোপগন্তার ২ নম্বর সহ কয়েকটি পঞ্চায়েত এলাকায় শাকনাড়া গ্রামের জনা ১৫ ব্যক্তির জমি আছে বলে দেখানো হয়েছে। ভুয়ো নথির মাধ্যমে তাদের কৃষি বিমার লক্ষ লক্ষ টাকা পাইয়ে দেওয়া হয়েছে। যার মধ্যে ৯-১০ জনের কোনও জমিই নেই।
চাষিদের আনা এই অভিযোগ নিয়ে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দফতরের বেশিরভাগ কর্তা মুখে কুলুপ এঁটেছেন। অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে তাঁরা কেউ মুখ খুলতে রাজি হননি। ব্লকের বিডিও অজয় দণ্ডপাঠ এ বিষয়ে কোনও কথা বলতে চাননি। একই ভাবে ব্লকের কৃষি আধিকারিক (এডিএ) নিলাদ্রী বসাককে বঞ্চিত চাষিদের আনা অভিযোগ নিয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনও উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যান। আর অনেক চেষ্টা করেও ফোনে রায়না ১ পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ তথা ব্লকের তৃণমূল সভাপতি বামদেব মণ্ডলের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব না হওয়ার তাঁর কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। যদিও জেলা প্রশাসনের এক কর্তার কথা অনুযায়ী, চাষিদের আনা অভিযোগের বিষয়টি নিয়ে ব্লকের এডিএ-কে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। ওই রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপের পথে হাঁটবে জেলা প্রশাসন। রায়নার বিধায়ক শম্পা ধাড়াও জানান, ঘটনায় কারা কারা জড়িত তা খুঁজে দেখার জন্যে তিনি জেলা প্রশাসনকে বলেছেন। জেলাশাসক আয়েশা রানি এ বলেন, "তদন্ত করে দেখা হবে কী হয়েছে।"