সবাই যখন বিয়ে ভেঙে যায় এমন চিন্তায় ছুটোছুটি করছেন তখন পাশের হলেই ওয়ালিমা উৎসব শুরু হয়ে গিয়েছে।

দুই দম্পতি।
শেষ আপডেট: 23 May 2025 16:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আকাশভাঙা বৃষ্টিতে প্রায় পণ্ড বিয়ে। কারণ বিয়ের অনুষ্ঠানটি হচ্ছিল খোলা লনে। পুনের সংস্কৃতি কাওয়াড়ে ও নরেন্দ্র গালান্ডের বিয়ে পণ্ড হওয়ার জোগাড়। বাগানে তখন জল থইথই দশা। তখন হিন্দু বর ও কনেপক্ষকে দুর্দশা থেকে উদ্ধার করতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল মুসলিম পরিবার।
গত মঙ্গলবার পুনের ওয়ানৌরি এলাকায় একটি অনুষ্ঠানবাড়ির লনে হচ্ছিল হিন্দুদের বিয়ে। আর তারই লাগোয়া বড় হলঘরে চলছিল মুসলিমদের ওয়ালিমা বা বিয়ের প্রীতিভোজের অনুষ্ঠান। অতি ভারী বৃষ্টিতে বিয়ে যখন প্রায় বন্ধ হওয়ার জোগাড়, তখন মুসলিম পরিবার হিন্দুদের প্রস্তাব দেয় অনুষ্ঠানটি হলে করার জন্য।
স্থানীয় অলঙ্করণ লনে বিয়ের লগ্ন ছিল সন্ধ্যা ৬টা ৫৬ মিনিট নাগাদ। কিন্তু, বৃষ্টিতে জল জমে যাওয়ার সকলের মাথায় হাত পড়ে। অপ্রত্যাশিত এই অতি বৃষ্টিতে মেয়ে লগ্নভ্রষ্টা হওয়ার আগে প্রস্তাব এসে পৌঁছায় মুসলিম পরিবার থেকে। গালান্ডে পরিবারের একজন জানান, সবাই যখন বিয়ে ভেঙে যায় এমন চিন্তায় ছুটোছুটি করছেন তখন পাশের হলেই ওয়ালিমা উৎসব শুরু হয়ে গিয়েছে।
তাঁর দাবি, আমরা তখন কাজি পরিবারের কাছে গিয়ে বিয়ের মূল অনুষ্ঠানটি করার জন্য জায়গা দেওয়ার অনুরোধ করি। অন্তত অগ্নিসাক্ষী করে সাত পাকের রেওয়াজটুকু সেরে ফেলার আর্জি জানাই। একথা শুনে শুধু কাজি পরিবারই নন, তাঁদের আমন্ত্রিত অতিথিরাও তাড়াতাড়ি মঞ্চের উপরেই বিয়ের মণ্ডপ তৈরি করে ফেলেন। তারপর বর-কনে দুই পরিবারের রীতি-রেওয়াজ মেনে বিয়ের সবটুকু অনুষ্ঠান ভালভাবে সেরে ফেলা হয়।
বিয়ের পর দুই তরফের অতিথিরাও আনন্দ করে একসঙ্গে ভোজপর্বও সারেন একসঙ্গে। দুই নবদম্পতি মহিন ও মহসিন কাজি এবং নরেন্দ্র ও সংস্কৃতি এই স্মৃতিকে অমলিন করে রাখতে স্টেজে দাঁড়িয়ে ফটোগ্রাফারদের পোজ দিয়ে ছবি তুলতে সাহায্য করেন। পহলগাম জঙ্গি হানা পরবর্তী দেশের হিন্দু-মুসলিম সম্পর্কের পরিস্থিতিতে এই সাম্প্রদায়িক মিলনোৎসব চিরকাল অক্ষত থেকে যাবে দুই পরিবারের সকলের মনে।