'সবার যাতে চাকরি থাকে সেই বিষয়টা আমরা দেখব,' গত ২৬ এপ্রিল নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে চাকরিহারা (SSC) গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি শিক্ষাকর্মীদের বরাভয় দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।

গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 23 May 2025 20:04
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'সবার যাতে চাকরি থাকে সেই বিষয়টা আমরা দেখব,' গত ২৬ এপ্রিল নবান্নের সাংবাদিক বৈঠক থেকে চাকরিহারা (SSC) গ্রুপ সি, গ্রুপ ডি শিক্ষাকর্মীদের বরাভয় দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। এপ্রিল থেকে গ্রুপ সি কর্মীদের মাসিক ২৫ হাজার টাকা এবং গ্রুপ ডির কর্মীদের ২০ হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছিলেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর সেই ঘোষণা মেনে চাকরিহারা গ্রুপ সি (Group C) ও গ্রুপ ডির (Group D) কর্মীদের জন্য ভাতার বিজ্ঞপ্তি জারি করল নবান্ন। এজন্য সরকারের তরফে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল লাইভলিহুড অ্যান্ড সোশ্যাল সিকিউরিটি ইন্টারিম স্কিম, ২০২৫' নামে একটি প্রকল্পও চালু করা হয়েছে। এই প্রকল্পের আওতায় ভাতা পাবেন চাকরিহারা গ্রুপ সি ও গ্রুপ ডির কর্মীরা।
সূত্রের খবর, স্কুলশিক্ষা বিভাগের অন্তর্গত সমস্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের (Head of Institution) কাছে এই বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মীরা নির্ধারিত ফর্ম (Annexure-A) পূরণ করে প্রধান শিক্ষকের কাছে আবেদন করবেন। এরপর সংশ্লিষ্ট ডিআই/এস (সেকেন্ডারি এডুকেশন) কর্তৃপক্ষ আবেদনগুলি যাচাই করে স্কুলশিক্ষা দফতরে পাঠাবেন। পরবর্তীতে আবেদনপত্রগুলি iOSMS পোর্টালের তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে শ্রম দফতরের কাছে পাঠানো হবে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য।
সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল চাকরি হারানো কর্মীদের সাময়িক আর্থিক সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বাতিল হয়েছে ২০১৬ সালের এসএসসির সম্পূর্ণ নিয়োগ প্যানেল। চাকরি হারিয়েছেন সরকার পোষিত এবং সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের ২৫,৭৩৫ জন শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মী। অভিযোগ, ওই নিয়োগপ্রক্রিয়ায় দুর্নীতি হয়েছে। সাদা ওএমআর শিট জমা দিয়েও অনেকে চাকরি পেয়েছেন।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে প্রায় ২৬ হাজার জনের চাকরি যাওয়ার পরে সমস্যায় পড়ে রাজ্যের সরকার পোষিত এবং সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলি। অনেক স্কুলেই একের বেশি শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীর চাকরি চলে গিয়েছে। এই আবহে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নেতাজি ইন্ডোরের সভায় চাকরিহারা শিক্ষক এবং শিক্ষাকর্মীদের স্কুলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
এতজনের চাকরি বাতিল হলে স্কুল কীভাবে চলবে! সেই আশঙ্কা থেকে নতুন করে প্যানেল তৈরি না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকদের কাজ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু শিক্ষাকর্মীদের আপাতত কাজ চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেয়নি আদালত। সেই নিয়েই আশঙ্কার মেঘ ঘনিয়েছিল তাঁদের মধ্যে। তবে আদালতের রায় সামনে আসার পরই মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছিলেন যে চাকরিহারাদের পাশে থাকবে সরকার। ভাতার কথা ঘোষণাও করেছিলেন। এবার জারি হল বিজ্ঞপ্তি।