স্বাস্থ্য দফতরের একাংশ জানাচ্ছে, পাহাড়ে এয়ারলিফট করে রোগী নামানোর মতো হেলিপ্যাডও নেই। ফলে দার্জিলিং জেলা হাসপাতাল এবং উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজকে ঘিরে একটি সমন্বিত বিপর্যয় মোকাবিলা নেটওয়ার্ক তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাই উঠে আসছে।

ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 9 October 2025 20:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: উত্তরবঙ্গের (North Bengal) পাহাড় থেকে সমতল, সর্বত্রই প্রকৃতির রোষে বিধ্বস্ত মানুষ। ধস, বন্যা, দুর্ঘটনা— নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে এই অঞ্চলের মানুষের। অথচ এতগুলো মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতাল থাকলেও বড়সড় বিপর্যয় বা পথ দুর্ঘটনা সামলানোর মতো সুনির্দিষ্ট ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থা নেই বললেই চলে।
বর্তমানে উত্তরবঙ্গে রয়েছে পাঁচটি মেডিকেল কলেজ— উত্তরবঙ্গ, রায়গঞ্জ, কোচবিহার, জলপাইগুড়ি ও মালদহ। পাহাড়ে আছে দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলা হাসপাতাল। কয়েক হাজার বেড থাকলেও মাত্র একটি ট্রমা কেয়ার (Trauma Care Network) ইউনিট রয়েছে— উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে, যেখানে শয্যা মাত্র ২০টি।
কালিম্পংয়ের রাম্বির কাছে একটি ট্রমা সেন্টার তৈরির পরিকল্পনা থাকলেও তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে সাম্প্রতিক ধস ও বন্যার ঘটনায় উঠে এসেছে একটাই প্রশ্ন, প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে দীর্ঘ সীমান্ত থাকা সত্ত্বেও, দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় স্বাস্থ্য দফতরের হাতে কেন নেই ট্রমা কেয়ার বা বিপর্যয় মোকাবিলার রোডম্যাপ?
শুধু সেনা হাসপাতাল নয়, বিশেষজ্ঞদের মতে মেডিকেল কলেজগুলিকেও বিপর্যয় পরিস্থিতি সামলানোর উপযুক্ত করে তোলা জরুরি। পাহাড়ে রোজই ঘটে ছোট-বড় পথ দুর্ঘটনা। কিন্তু জখমদের সামলাতে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষিত টিম বা আধুনিক যন্ত্রপাতি কোথায়?
স্বাস্থ্য দফতরের একাংশ জানাচ্ছে, পাহাড়ে এয়ারলিফট করে রোগী নামানোর মতো হেলিপ্যাডও নেই। ফলে দার্জিলিং জেলা হাসপাতাল এবং উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজকে ঘিরে একটি সমন্বিত বিপর্যয় মোকাবিলা নেটওয়ার্ক তৈরির প্রয়োজনীয়তার কথাই উঠে আসছে।
এক শীর্ষ স্বাস্থ্যকর্তার বক্তব্য, “এই নেটওয়ার্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা উচিত দার্জিলিং জেলা হাসপাতালকে। কারণ ধস বা বিপর্যয়ের সময় সমতলের সঙ্গে রাস্তাঘাট প্রায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। তখন আহতদের পাহাড়েই চিকিৎসা করানো ছাড়া উপায় থাকে না।”
সাম্প্রতিক ধসের পরও এক জনও উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজে ভর্তি হননি, অধিকাংশ জখমই রয়েছেন দার্জিলিং জেলা হাসপাতালে। তাই বিশেষজ্ঞদের মত, পাহাড়ের দু’টি জেলা হাসপাতালকে দ্রুত আধুনিকীকরণ করা এখন সময়ের দাবি।
চীনের সঙ্গে সীমান্ত ঘেঁষা উত্তরবঙ্গের কৌশলগত অবস্থানও বড় ফ্যাক্টর। যুদ্ধ বা সীমান্ত সংঘাতের সময় আহতদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য অত্যাধুনিক ট্রমা কেয়ার ইউনিট ও ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট সেল অপরিহার্য।
উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের এক কর্তা বলেন, “এখন আমাদের ট্রমা সেন্টারটি লেভেল-২ পর্যায়ের। আমরা চেষ্টা করছি সেটিকে লেভেল-৩ পর্যায়ে উন্নীত করতে।” রাজ্যের স্বাস্থ্য অধিকর্তা (শিক্ষা) ডাঃ ইন্দ্রজিৎ সাহা জানালেন, “বিষয়টি ইতিমধ্যেই আমাদের পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত।”
অর্থাৎ, পাহাড়ের বুক থেকে যদি ফের ধস নামে, তবে প্রশ্নটা রয়ে যায়- কে সামলাবে পাহাড়ের ‘ট্রমা’?