বুধবার মমতার বাড়িতে মোট ৪০টি ফর্ম দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও ভোটারদের তথ্য জেনে ফর্ম জমা দেন বিএলও। সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা আধিকারিক জয়দীপ জানা ওই ফর্মগুলিতে স্বাক্ষর করে গ্রহণ করেন।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 7 November 2025 20:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন তিনি এখনই এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করছেন না। ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়ে রাজ্যজুড়ে তীব্র বিতর্কের মধ্যেই ভবানীপুরের ৩০বি হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িতে বুথ স্তরের আধিকারিক (BLO) ফর্ম নিয়ে পৌঁছলে মমতা বলেন, বাংলার প্রতিটি মানুষ যতক্ষণ না ফর্ম পূরণ করছেন, ততক্ষণ তিনিও ফিলআপ করবেন না।”
তবে নির্বাচন কমিশনের নিয়ম বলছে, মুখ্যমন্ত্রীর (CM) এই সিদ্ধান্তে কোনও বাধা নেই। কারণ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ‘চিহ্নিত ভোটার’ বা মার্কড ইলেক্টর। বিধি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদাধিকারীর নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত থাকে। তাঁদের আলাদা করে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করার বাধ্যবাধকতা নেই।
কমিশন সূত্রে খবর, দেশের প্রধানমন্ত্রী (PM) ও সব রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীদের জন্যই এই নিয়ম প্রযোজ্য। তাঁদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঢুকে যায়। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীও সেই সুবিধা পাবেন।”
সূত্রের খবর, বুধবার মমতার বাড়িতে মোট ৪০টি ফর্ম দেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও ভোটারদের তথ্য জেনে ফর্ম জমা দেন বিএলও। সুরক্ষার দায়িত্বে থাকা আধিকারিক জয়দীপ জানা ওই ফর্মগুলিতে স্বাক্ষর করে গ্রহণ করেন। মুখ্যমন্ত্রীর ভাই অমিত বন্দ্যোপাধ্যায়ও উপস্থিত ছিলেন এবং এনুমারেশন ফর্ম কীভাবে পূরণ করতে হয়, সে বিষয়ে নিজে বুঝে নেন।
তবে এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়েই মুখ্যমন্ত্রীর আপত্তি দীর্ঘদিনের। তাঁর অভিযোগ, “এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজ্যে এনআরসি চালু করার চেষ্টা চলছে।” গত মঙ্গলবারই রেড রোড থেকে ঠাকুরবাড়ি পর্যন্ত ‘এসআইআর আতঙ্ক’-এর প্রতিবাদে তৃণমূলের মহামিছিলের নেতৃত্ব দেন তিনি।
অন্যদিকে, বিজেপির দাবি, এতে আতঙ্কের কিছু নেই। তাঁদের বক্তব্য, এসআইআর প্রক্রিয়ায় বৈধ ভোটারদের নাম বাদ পড়বে না, কেবলমাত্র মৃত ব্যক্তি বা অনুপ্রবেশকারীদের নামই মুছে দেওয়া হবে। তৃণমূলের বিরুদ্ধে অযথা বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক ছড়ানোর অভিযোগও তুলেছে বিজেপি।
বস্তুত, এসআইআর-এর মধ্যেই অব্যাহত একের পর এক মৃত্যু। শুক্রবার হুগলির শেওড়াফুলিতে এক যৌনকর্মীর অপমৃত্যুতে ফের আঙুল উঠল ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার দিকে। এ ছাড়া আরও তিন জনের মৃত্যু হয়েছে তিন জেলায়। অভিযোগ, ২০০২ সালের ভোটার তালিকায় কারও নামের বানান ভুল। কারও আবার নামই নেই। এ সব নিয়ে দুশ্চিন্তা করেই কেউ আত্মহত্যা করেছেন। কারও আবার মৃত্যু হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে।