টানা পাঁচদিন 'বেড রেস্টে'র পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসক। বুধবার পর্যন্ত ছিল অনুব্রতর সেই বিশ্রামের সময়সীমা।

অনুব্রত মণ্ডল।
শেষ আপডেট: 5 June 2025 10:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অসুস্থতার কারণে গত শনি ও রবিবার পুলিশের নোটিস এড়িয়েছেন বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল (Anubrata Mondal Viral Audio News)। টানা পাঁচদিন 'বেড রেস্টে'র পরামর্শ দিয়েছিলেন চিকিৎসক। বুধবার পর্যন্ত ছিল অনুব্রতর সেই বিশ্রামের সময়সীমা। ফলে বৃহস্পতিবার তিনি পুলিশি তলবে সাড়া দেন কিংবা পুলিশ নতুন করে নোটিস তলব করে কিনা, তা নিয়ে সব মহলে কৌতূহল রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার বোলপুর থানার আইসি লিটন হালদারকে হুমকি ও নোংরা গালিগালাজের অভিযোগ উঠেছিল বীরভূমের তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডলের বিরুদ্ধে। সোশ্যাল মাধ্যমে ভাইরাল হয় অডিও। তাতে আইসি এবং তাঁর মা ও স্ত্রীর উদ্দেশে অনুব্রতকে কদর্য ভাষায গালিগালাজ করতে শোনা যায়। ওই ঘটনায় কড়া বিবৃতি জানায় তৃণমূল।
দলের চাপে পড়ে প্রকাশ্যে ক্ষমাও চেয়ে নেন অনুব্রত। একই সঙ্গে বিজেপি কীভাবে ওই অডিও পেল তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন কেষ্ট। তাৎপর্যপূর্ণভাবে হাজিরা এড়াতে অনুব্রতর তরফে পুলিশকে যে মেডিক্যাল সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে তা নিয়েও বিতর্ক রয়েছে।
তৃণমূল নেতার মেডিক্যাল রিপোর্ট শান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজের। আর তাতে সই রয়েছে হিটলার চৌধুরী নামের এক চিকিৎসকের। এই নাম নিয়েই বিতর্ক। কারণ রামপুরহাট ১-এর ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের (বিএমওএইচ) নামও হিটলার চৌধুরী। এই প্রেক্ষিতেই দুটি প্রশ্ন উঠেছে। এক, দুই হিটলার চৌধুরী কি একই ব্যক্তি? দুই, যদি একই ব্যক্তি হন তাহলে কি তিনি অবৈধ ভাবে অনুব্রত মণ্ডলের মেডিক্যাল রিপোর্টে সই করেছেন?
শান্তিনিকেতন মেডিক্যাল কলেজের কর্ণধার মলয় পিট এই বিষয় নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। তাঁর শুধু বক্তব্য, কী হয়েছে তিনি পুরোটা জানেন না। এখন রাজ্যের বাইরে আছেন, ফিরে খোঁজ নেবেন। এদিকে, সত্যিই বিএমওএইচ পদে থাকা সত্ত্বেও ওই চিকিৎসক একটি বেসরকারি হাসপাতালে রোগী দেখছেন এবং মেডিক্যাল রিপোর্টও তৈরি করে দিচ্ছেন কিনা তা নিয়ে এখনও কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি পুলিশ।
তবে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের দাবি, মলয় পিট অনুব্রত ঘনিষ্ট! তিনি আদতে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন। পুরোটাই পরিকল্পনা মাফিক করা হয়েছে।
এদিকে ভাইরাল অডিও কাণ্ডে বোলপুর থানার আইসি (Bolpur IC) আইসি লিটন হালদারের বিরুদ্ধেই বিভাগীয় তদন্ত শুরু করেছে জেলা পুলিশ। সূত্রের খবর, তদন্তের স্বার্থে আইসির মোবাইল ফোনটিও সিজ করা হয়েছে। গোটা ঘটনায় ক্ষুব্ধ পুলিশের নিচুতলার একাংশ কর্মী। তাঁদের অভিযোগ, যিনি হুমকি দিলেন, সাত দিন পরেও তিনি পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে, অথচ যাকে হুমকি দেওয়া হল, হল সেই আইসি কিনা পুলিশের কোপে?