
শেষ আপডেট: 6 April 2024 12:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ফের আক্রান্ত কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। পূর্ব মেদিনীপুরের ভূপতিনগর বোমা বিস্ফোরণের তদন্তে গিয়ে একাংশ গ্রামবাসীর হামলার মুখে পড়েন এনআইএ আধিকারিকরা।
এর আগে গত ৫ জানুয়ারি রেশন দুর্নীতির তদন্তে শেখ শাহজাহানের খোঁজে সন্দেশখালিতে গিয়ে গ্রামবাসীদের আক্রমণের মুখে পড়েছিলেন ইডি আধিকারিকরা। ঘটনায় তিনজন ইডি আধিকারিকের মাথা ফাটে। মাটিতে ফেলে মারধর করা হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর কয়েকজন জওয়ানকেও।
দুটি ঘটনাকে সামনে রেখে ফের রাজ্য সরকার এবং শাসকদল তৃণমূলকে লক্ষ্য করে আক্রমণের সুর চড়িয়েছে বিজেপি, সিপিএম, কংগ্রেস।
বিজেপির মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "বাংলায় যে আইনের শাসন নেই, তা এঘটনা থেকেই স্পষ্ট। আদালতের নির্দেশে তদন্তে গিয়ে আক্রান্ত হতে হচ্ছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাকে। মুখ্যমন্ত্রী নিজে বিএসএফের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। এর পরেও কী শান্তির ভোট সম্ভব?"
সিপিএমের রাজ্য নেতা সুজন চক্রবর্তীর বক্তব্য, "সন্দেশখালির ঘটনায় রাজ্য অপরাধীদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। ভূপতিনগরেও হামলার শিকার হলেন এনআইএ আধিকারিকরা। এই অসভ্যততা চলতে পারে না। এর বিহিত প্রয়োজন।"
কংগ্রেসের রাজ্য মুখপাত্র সৌম্য আইচ রায় বলেন, "গুন্ডাদের প্রশ্রয় দিচ্ছে রাজ্য সরকার। তা না হলে এনআইএ-র মতো জাতীয় তদন্তকারী সংস্থার কর্তাদের গায়ে হাত দেওয়ার সাহস ওরা পাই কী করে?"
যদিও ঘটনার নেপথ্যে বিজেপির ষড়যন্ত্র দেখছে শাসকদল তৃণমূল।
গত সপ্তাহেই সাংবাদিক বৈঠক করে তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ অভিযোগ করেছিলেন, সিবিআই, ইডির মতো কেন্দ্রীয় এজেন্সির পর এবার জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থাকে কাজে লাগিয়ে ভোটের আগে তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতার করার ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
কুণাল দাবি করেছিলেন, "তৃণমূলের কোন কোন নেতাকে গ্রেফতার করতে হবে সেই তালিকা বিজেপির তরফে তুলে দেওয়া হয়েছে এনআইএ-র এক আধিকারিকের হাতে। এ ব্যাপারে নিজাম প্যালেসে গিয়েও বৈঠক করেছেন বিজেপির আর এক রাজ্য নেতা।" পুরো ঘটনার তদন্তের দাবিও করেছিলেন কুণাল।
তৃণমূলের বক্তব্য, পরাজয় নিশ্চিত জেনেই ভোটের মুখে কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে সামনে রেখে পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা হচ্ছে।"
ভূপতিনগরের ঘটনা অনভিপ্রেত।
— Kunal Ghosh (@KunalGhoshAgain) April 6, 2024
কিন্তু, এর পেছনে বিজেপির রাজনীতি ও প্ররোচনা।
যেহেতু মানুষ জানেন BJP নেতারা NIAর সঙ্গে দেখা করে @AITCofficial কর্মীদের তালিকা দিয়ে এসেছিলেন, তাই সবাই চক্রান্তটা জানেন। স্বতঃস্ফূর্ত ক্ষোভ। কোর্টকে সামনে রেখে এলাকা থেকে তৃণমূল কর্মীদের সরাতে মিথ্যা…
কুণাল বলেন, "আমি আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলাম। বাস্তবে হলও তাই। খেয়াল করে দেখুন, কেন্দ্রীয় এজেন্সি স্থানীয় থানার পুলিশকে জানাল না, অথচ একাংশ মিডিয়াকে সঙ্গে নিয়ে এলাকায় ঢুকল। এতেই তো সবটা পরিষ্কার! আসলে বিজেপি চাইছে এজেন্সিকে দিয়ে ভোটের মুখে বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করতে।"