ইসকনের সূত্রে জানা গিয়েছে, মন্দিরে ইতিমধ্যেই এক হাজার বিদেশি পর্যটক এসেছেন।

গ্রাফিক্স-দ্য ওয়াল।
শেষ আপডেট: 27 June 2025 15:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এক সময় বাড়ি বাড়ি পরিচারিকার কাজ করে মাসে বড়জোর সাত থেকে আট হাজার টাকা রোজগার করতেন গঙ্গাসাগরের গীতা পাত্র। কিন্তু এখন তাঁর আয় বেড়েছে তিনগুণ (increased local people's income and respect)। আর বাড়ি বাড়ি কাজ করতে যেতে হচ্ছে না। কারণ, দিঘার নতুন জগন্নাথ মন্দিরে (Jagannath temple in Digha) তিলক সেবার সঙ্গে যুক্ত হয়ে এখন প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা আয় করছেন তিনি।
গত ৩০ এপ্রিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধন করেন। তারপর থেকেই সৈকত শহরের পরিস্থিতি বদলে গিয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের রামনগরে বাবার বাড়ি বেড়াতে এসে মন্দিরে গিয়েছিলেন গীতা। দেখেন, কয়েক জন মহিলা পুণ্যার্থীদের কপালে চন্দনের তিলক পরিয়ে দক্ষিণা সংগ্রহ করছেন। তাঁদের দলে যোগ দেন তিনিও। এখন মন্দিরের সামনে প্রতিদিন দেখা যায় গীতার মতো আরও ২০-২৫ জনকে, যাঁরা তিলক সেবার মাধ্যমে রোজগার করছেন।
গীতার মতোই শকুন্তলা ঘড়াইও আগে দিঘার হোটেলে পরিচারিকার কাজ করতেন। দৈনিক আয় ছিল মাত্র ১৫০ টাকা। এখন তিনিও তিলক সেবার কাজ করছেন এবং রোজগার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০০-৫০০ টাকায়। শকুন্তলা জানান, ‘‘জোরজবরদস্তি নয়। যে যা দেয়, তাতেই আমরা খুশি। মন্দির তৈরি হওয়ার পর সম্মানের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ হয়েছে।’’
তিলক সেবার পাশাপাশি, জগন্নাথ মন্দির ঘিরে আরও নানা রোজগারের পথ খুলেছে। কেউ পানীয় জলের বোতল বিক্রি করছেন, কেউ পুণ্যার্থীদের জুতো দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছেন। মন্দির চত্বরে এমন বেশ কয়েকটি কাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
ইসকনের সূত্রে জানা গিয়েছে, মন্দিরে ইতিমধ্যেই এক হাজার বিদেশি পর্যটক এসেছেন। ফোর্ড কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা হেনরি ফোর্ডের বংশধর অ্যালফ্রেড ফোর্ডও মন্দির দর্শনের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
গীতা এবং শকুন্তলাদের আশা, মন্দিরের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের রোজগারও আরও বাড়বে। জগন্নাথের কৃপায় তাঁদের জীবনে এসেছে নতুন সম্ভাবনা। বলছেন, "আগেও রোজগার করতাম, কিন্তু কেউ সম্মান করত না। এখন রোজগার তো বেড়েইছে, উপরি হিসেবে মিলছে সম্মানও।"