শিল্প প্রসঙ্গে মমতার দাবি, এখন শিল্পপতিদের গন্তব্য বাংলা। রাজ্যে একের পর এক কারখানা হচ্ছে, বহু শিল্প সংস্থা এখানে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে।
.jpeg.webp)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 27 January 2026 16:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনি বনধের (Bandh) বিরোধী—এ কথা নতুন নয়। কিন্তু নবান্ন সভাঘর থেকে এ বার তা আরও স্পষ্ট করে বলার পাশাপাশি শিল্পপতিদের সতর্কও করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ((Mamata Banerjee)। জনজাতি ও সংরক্ষিত গোষ্ঠীর দাবিদাওয়া উপেক্ষা করলে তার প্রভাব যে শিল্পের উপরেই পড়তে পারে, সেই বার্তাই দিলেন তিনি।
মঙ্গলবার নবান্ন সভাঘর থেকে ওয়াটগঞ্জের দইঘাটে নতুন শ্মশানের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং নবনির্মিত সিরিটি মহাশ্মশানের ভার্চুয়াল উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাম আমলে ৭৫ লক্ষ কর্মদিবস নষ্ট হয়েছিল। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস ক্ষমতায় আসার পর একদিনও কর্মদিবস নষ্ট করতে দেওয়া হয়নি। “এখন বাংলায় আর বনধ হয় না। তাই শিল্পের পক্ষে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হয়েছে।”
একই সঙ্গে শিল্পপতিদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মনে করান, রাজ্যে ৩০ শতাংশের একটি গোষ্ঠী রয়েছে, যাঁদের সঙ্গে সংঘাতে গেলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে।
তাঁর কথায়, “ঝগড়া হলে রাস্তা বন্ধ হবে, কোম্পানি বন্ধ হবে। আমাদের বাঁচা মুশকিল হয়ে যাবে। ৬ শতাংশ এসটি, ২৬ শতাংশ এসসি—ট্রাইবালদের ওপর কিছু হলে রেল অবরোধ হয়ে যায়।” তাই সকলকে শান্তিতে থাকার এবং একে অপরের বিষয়ে নাক না গলানোর পরামর্শ দেন তিনি।
তবে স্পষ্ট করে দেন, “আমি বনধের বিরোধী। আমি বনধ করতে দেব না।” মুখ্যমন্ত্রীর মতে, পরিকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের জোরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ হচ্ছে। পুরুলিয়ার মতো জেলাতেও বদলের ছবি এখন চোখে পড়ার মতো।
শিল্প প্রসঙ্গে মমতার দাবি, এখন শিল্পপতিদের গন্তব্য বাংলা। রাজ্যে একের পর এক কারখানা হচ্ছে, বহু শিল্প সংস্থা এখানে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছে। যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে ছ’টি করিডর তৈরির কথাও জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “যাঁরা বলছেন বাংলা থেকে শিল্প চলে যাচ্ছে, তাঁরা ভুল বলছেন। হাওড়া থেকে দুর্গাপুর গেলে রাস্তার দু’ধারে দেখবেন কত উন্নয়ন হয়েছে, কত শিল্প সংস্থা এসেছে।”
শিল্পপতিদের আশ্বস্ত করে মমতা বলেন, কোনও সমস্যা হলে মুখ্যসচিব, শিল্পসচিব, HIDCO—সবাই আছেন। তিনিও আছেন। “জীবনে শান্তি থাকলে, মাথা ঠান্ডা থাকলে, পরিবার ঠিক থাকলে ব্যবসা বাড়বে। পরবর্তী প্রজন্মকে তৈরি করতে হবে,”—পরামর্শ তাঁর।
ধর্মীয় বিভাজন প্রসঙ্গেও কড়া অবস্থান নেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, “আজ যারা হিন্দু-মুসলমান করছে, আমরা ভারতীয়। এখানে মাইনরিটি আছে, জনজাতি আছে। কেউ কারও বিষয়ে যেন ইন্টারফেয়ার না করে। কেউ কেউ দাঙ্গা লাগানোর চেষ্টা করে। শান্তি রক্ষা করাই আমার কাজ।” রাজ্যে সহাবস্থান ও নিরাপত্তার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, বাংলা শিল্পপতিদের জন্য নিরাপদ জায়গা দেবে।
নবান্ন সভাঘরের বৈঠক থেকেই মুখ্যমন্ত্রী জানান, মানুষের সুবিধার জন্য রাজ্যে একাধিক প্রকল্প চলছে। শিলিগুড়িতে মহাকাল মন্দির নির্মাণ হচ্ছে—২৪টি শিবলিঙ্গ ও বৃহৎ শিবমূর্তি থাকবে সেখানে। পাশাপাশি জগন্নাথ মন্দিরের কথাও তুলে ধরেন। তাঁর কথায়, মন্দির-মসজিদ—যে যে জায়গায় অনুরোধ এসেছে, সেখানে কাজ করা হয়েছে। বগলামুখী মন্দিরে এখন নিয়মিত পুজো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
শেষে মানুষের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, “আপনাদের এলাকায় আরও উন্নতির দরকার হলে আমাকে জানাবেন। আমি নিশ্চয়ই করে দেব। আপনারা আমাকে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন। আমি সেই কাজ আপনাদের জন্য করেছি। আরও অনেক কাজ হবে—একটু অপেক্ষা করুন।”