
শেষ আপডেট: 5 January 2024 15:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রেশন দুর্নীতির তদন্তে গিয়ে শুক্রবার সাত সকালে সন্দেশখালির সরবেড়িয়ায় তৃণমূল নেতা শাহাজাহান শেখের অনুগামীদের হাতে বেধড়ক মার খেয়েছেন ইডির আধিকারিকরা। এজলাসে বসেই এখবর জানতে পেরে কড়া পর্যবেক্ষণ জানিয়েছেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়।
এজলাসে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, “তদন্তকারীদের যেভাবে মারা হয়েছে, তাতে পরিষ্কার যে পশ্চিমবঙ্গে সাংবিধানিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। আমি বুঝতে পারছি না, রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস কেন তা ঘোষণা করছেন না?”
বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের এমন পর্যবেক্ষণ সামনে আসতেই কড়া প্রতিক্রিয়া ধেয়ে এসেছে তৃণমূল শিবির থেকে। তৃণমূলের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, “উনি প্রশ্ন করার কে? ওনার নেতা সাজার ইচ্ছে হলে হাইকোর্টের বাইরে টুলে দাঁড়িয়ে বক্তৃতা দিন। চেয়ারটা বিচারপতির, কণ্ঠটা বিরোধীদের।”
এরপরই সরাসরি বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায়ের উদ্দেশে কুণা্ল বলেন, “এরকম কয়েকজন বিচারপতির জন্যই বিচার ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। উনি মুখোশ পড়ে কেন খেলছেন। ঢাল হিসেবে বিচারপতির চেয়ারটাকে ব্যবহার করবেন না। আড়াল থেকে বেরিয়ে আসুন। মুখোমুখি লড়াই করুন।”
আগামী ৭ জানুয়ারি ব্রিগেডে ডিওয়াইএফআয়ের ব্রিগেড সমাবেশ রয়েছে। কটাক্ষের সুরে কুণাল বলেন, “বিচারপতির আসনে বসে এই ধরনের মন্তব্য করা যায় না। আমি মনে করি, এই ঘটনার পর প্রধান বিচারপতির উচিত ওঁকে হাইকোর্ট থেকে বের করে রবিবার সিপিএমের ব্রিগেডে ছেড়ে দিয়ে আসা!”
ফেসবুকে তীব্র কটাক্ষ করেছে তৃণমূলের ছাত্র নেতা দেবাংশু ভট্টাচার্যও। ফেসবুক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি জানালেন বিজেপি নেতা অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যা্য়। নতুন রাজনৈতিক জীবনের জন্য তাঁকে আগাম শুভকামনা।”
দলের অন্যতম মুখপাত্র বিশ্বজিৎ দেব বলেন, “বিচারপতি গঙ্গোপাধ্যায় হাইকোর্টের চেয়ারে বসে যেভাবে রাষ্ট্রপতি শাসনের দাবি জানিয়েছেন,, তা সংবিধানকে অপমান করার শামিল! উনি সাংবিধানিক পরিকাঠামোর ওপর আঘাত আনতে চাইছেন। এটা বিচারব্যবস্থার প্রতি লজ্জার। প্রত্যেকের উচিত এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো।”
সূত্রের খবর, বিচারপতির এমন মন্তব্যের প্রতিবাদে হাইকোর্টে রুজু হতে চলেছে একাধিক জনস্বার্থ মামলা।