আশাকর্মী (Gig Worker) ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী–সহায়িকাদের সাম্মানিক বাড়ানোর পাশাপাশি মাতৃত্বকালীন ছুটি ও অকাল মৃত্যুর ক্ষতিপূরণের ঘোষণায় স্বস্তির বার্তা দিল রাজ্য সরকার (West Bengal Budget)।

আশাকর্মীদের ক্ষতে প্রলেপ
শেষ আপডেট: 5 February 2026 17:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সপ্তাহ দুয়েক আগে ভোটের মুখে আশাকর্মীদের মিছিলের ছবিটা এখনও টাটকা রাজ্য–রাজনীতিতে। সেই প্রেক্ষিতেই শেষ বাজেটে সামাজিক সুরক্ষার ‘কল্পতরু’ হয়ে উঠলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। আশাকর্মী (Gig Worker) ও অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী–সহায়িকাদের সাম্মানিক বাড়ানোর পাশাপাশি মাতৃত্বকালীন ছুটি ও অকাল মৃত্যুর ক্ষতিপূরণের ঘোষণায় স্বস্তির বার্তা দিল রাজ্য সরকার (West Bengal Budget)।
বাজেট পেশের সময় রাজ্যের অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য (Chandrima Bhattacharya) জানান, ২০২৬ সালের এপ্রিল থেকে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী ও অঙ্গনওয়াড়ি সহায়িকাদের মাসিক সাম্মানিক আরও ১ হাজার টাকা করে বাড়ানো হবে। একই সঙ্গে চলতি বছরের এপ্রিল থেকেই আশাকর্মীদের সাম্মানিকও ১ হাজার টাকা বৃদ্ধি পাবে। অর্থাৎ বর্তমানে ৫২৫০ টাকা সাম্মানিক পাওয়া আশা কর্মীদের ক্ষেত্রে তা বেড়ে দাঁড়াবে ৬২৫০ টাকা।
শুধু সাম্মানিক বৃদ্ধি নয়, সামাজিক সুরক্ষার দিকেও জোর দিয়েছে রাজ্য। ঘোষণা করা হয়েছে, অন্যান্য রাজ্য সরকারি কর্মীদের মতোই এপ্রিল মাস থেকে আশা কর্মীরাও ১৮০ দিনের মাতৃত্বকালীন ছুটির সুবিধা পাবেন। পাশাপাশি, অকাল মৃত্যুর ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী–সহায়িকা বা আশা কর্মীর অকাল মৃত্যু হলে তাঁদের নিকটাত্মীয় বা পরিবারকে এককালীন ৫ লক্ষ টাকা দেওয়া হবে।
উল্লেখযোগ্য ভাবে, গত ২৩ ডিসেম্বর থেকে কর্মবিরতিতে রয়েছেন আশাকর্মীরা। জানুয়ারির শেষ দিক থেকে কলকাতা-সহ গোটা রাজ্যে শুরু হয় ধারাবাহিক আন্দোলন। তাঁদের মূল দাবিগুলির মধ্যে রয়েছে, ন্যূনতম ১৫ হাজার টাকা সাম্মানিক, একসঙ্গে বকেয়া মেটানো, চাকরির নিশ্চয়তা, মোবাইল ইন্টারনেটের খরচ, মাতৃত্বকালীন ছুটি ও অন্যান্য সুযোগসুবিধা। বাজেটে মাতৃত্বকালীন ছুটি ও ক্ষতিপূরণের ঘোষণা মিললেও ন্যূনতম সাম্মানিকের দাবি পূরণ হয়নি বলেই মত আন্দোলনকারীদের।
এর মধ্যেই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বুধবার। ‘ডেপুটেশন দিতে আসতে হবে না’, মঙ্গলবার স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের এই বার্তা উপেক্ষা করেই সকাল থেকে পথে নামেন আশাকর্মীরা। স্বাস্থ্যভবন অভিযানে নামতেই সল্টলেকে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। স্বাস্থ্যভবনের বাইরে বাড়ানো হয় পুলিশি নিরাপত্তা, বসানো হয় লোহার ব্যারিকেড। সকাল থেকেই বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের ধরপাকড়ের অভিযোগ ওঠে।
উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের নানা জেলা থেকে ট্রেনে চেপে হাওড়া স্টেশনে এসে পৌঁছন বহু আশাকর্মী। তাঁদের অভিযোগ, স্টেশনের মধ্যেই আটকে দেওয়া হয়, বাইরে বেরোতে দেওয়া হয়নি। শিয়ালদহ স্টেশনেও একই ছবি। কিছু ক্ষণ আটকে রাখার পর অবশ্য কয়েক জনকে বাইরে যেতে দেওয়া হয়। সেখান থেকেই সল্টলেকের উদ্দেশে রওনা দেন তাঁরা। শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলার দিকে যাওয়া একটি মিছিল নিউ মার্কেট থানার কাছে ব্যারিকেডে আটকে যায়। ব্যারিকেড টপকানোর চেষ্টা হতেই পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়।
সেই আন্দোলনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছিলেন স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী। জানিয়েছিলেন, আশাকর্মীদের রাজনৈতিক ভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রীর সহানুভূতি তাঁদের সঙ্গে রয়েছে। রাজনৈতিক স্বার্থে কেউ যেন পাতা ফাঁদে পা না দেন।’’
সব মিলিয়ে, ভোটের আগে বাজেটে ঘোষণা এলেও আশা কর্মীদের ক্ষোভ এখনও প্রশমিত হয়নি। সাম্মানিক বৃদ্ধির আশ্বাস এক দিকে, অন্য দিকে রাজপথে আন্দোলন—এই দ্বন্দ্বেই আপাতত রাজ্যের স্বাস্থ্য–রাজনীতি।